• facebook
  • twitter
  • youtube
Thursday, 5 November, 2026

এগিয়ে গিয়েও হার, হাচিওনের কাছে বিধ্বস্ত ইস্টবেঙ্গলের মেয়েরা! তবু এশীয় চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের আশা এখনও আছে!

প্রথম ম্যাচে ভিয়েতনামের হো চি মিন সিটি এফসিকে হারিয়ে অভিযান শুরু করেছিল ইস্টবেঙ্গল। ফলে হাচিওনের বিরুদ্ধে জিততে পারলে পরের পর্বের রাস্তা অনেকটাই পরিষ্কার হয়ে যেত। কিন্তু সেই সুযোগ হাতছাড়া করল 'মশাল গার্লস'

এগিয়ে গিয়েও হার, হাচিওনের কাছে বিধ্বস্ত ইস্টবেঙ্গলের মেয়েরা! তবু এশীয় চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের আশা এখনও আছে!

Image: X

এগিয়ে গিয়েও শেষরক্ষা হল না। ঘরের মাঠে দক্ষিণ কোরিয়ার হাচিওন কেএসপিও-র কাছে ১-৪ গোলে হারল ইস্টবেঙ্গলের মহিলা দল (East Bengal Women Team )। বুধবার রাতে কিশোর ভারতী ক্রীড়াঙ্গনে এএফসি মহিলা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গ্রুপ বি-র ম্যাচে প্রথমার্ধে ১-১ থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে কার্যত ভেঙে পড়ে লাল-হলুদের রক্ষণ। পর পর তিনটি গোল করে ম্যাচ নিজেদের দখলে নিয়ে নেয় দক্ষিণ কোরিয়ার দল। তবে এই হারের পরেও কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার আশা শেষ হয়ে যায়নি ইস্টবেঙ্গলের।

প্রথম ম্যাচে ভিয়েতনামের হো চি মিন সিটি এফসিকে হারিয়ে অভিযান শুরু করেছিল ইস্টবেঙ্গল (East Bengal)। ফলে হাচিওনের বিরুদ্ধে জিততে পারলে পরের পর্বের রাস্তা অনেকটাই পরিষ্কার হয়ে যেত। কিন্তু সেই সুযোগ হাতছাড়া করল ‘মশাল গার্লস’।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণে ঝাঁপায় হাচিওন। দক্ষিণ কোরিয়ার দলের একাধিক আক্রমণ সামাল দিতে হয় ইস্টবেঙ্গলের(East Bengal) রক্ষণকে। গোলরক্ষক পান্থোই চানু এলাংবামের দক্ষতায় কয়েক বার বেঁচেও যায় লাল-হলুদ বাহিনী।

আরও পড়ুন: পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের সাফ অভিযান শুরু কাল, কোচ মুসার লক্ষ্য খেতাব রক্ষা নয় ভাল ফুটবল

১৫ মিনিটে অধিনায়ক সিল্কি দেবী হেমামের পাস থেকে গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন ফাজিলা ইকওয়াপুট। কিন্তু প্রথম প্রচেষ্টায় লক্ষ্যভ্রষ্ট হন তিনি। দু’মিনিট পরেই অবশ্য ভুল শুধরে নেন উগান্ডার এই স্ট্রাইকার। অ্যাস্টাম ওরাওঁয়ের ক্লিয়ার করা বল ধরে হাচিওনের ডিফেন্ডারকে গতিতে পিছনে ফেলে দেন ফাজিলা। তার পরে নিচু শটে বল জালে জড়িয়ে দেন। এগিয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল (East Bengal)।

তবে সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ২৬ মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে সমতা ফেরায় হাচিওন। লি সু-বিনের প্রথম শট রক্ষণে আটকে গেলেও দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় রেস্টি নানজিরির গায়ে লেগে বলের গতিপথ বদলে যায়। পান্থোইকে পরাস্ত করে গোলে ঢুকে যায় বল। প্রথমার্ধ শেষ হয় ১-১ গোলে।

বিরতির পরে ছবিটা পুরোপুরি বদলে যায়। ৫৩ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে হাচিওনকে এগিয়ে দেন উই জে-উন। প্রতিপক্ষের কোচ কাং সুন-মির ভিডিও পর্যালোচনার আবেদনের পরে পেনাল্টি পায় দক্ষিণ কোরিয়ার দল।

এর তিন মিনিটের মধ্যেই ব্যবধান বাড়ায় তারা। বাঁ দিক দিয়ে আক্রমণে উঠে চোই জং-মিনের ক্রস থেকে গোল করেন মিন উন-জু। তখনই কার্যত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় হাচিওনের হাতে।

আরও পড়ুন: ফের ব্যাটিংয়ে ধস, ইডেনে চাপে বাংলা, পরীক্ষা অভিষেক-শাহবাজদের, জয়ের স্বপ্ন দেখছে মহারাষ্ট্র, ফয়সালা লক্ষ্মীবারেই

৭৬ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে ইস্টবেঙ্গলের (East Bengal) কফিনে শেষ পেরেকটি পুঁতে দেন উই জে-উন। কিম হিয়ন-আ-র বাড়ানো বল ধরে পান্থোইকে পরাস্ত করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৪-১ ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে হাচিওন।

এই হারের পরে তিন পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ বি-র তৃতীয় স্থানে রয়েছে ইস্টবেঙ্গল (East Bengal)। গোলপার্থক্য মাইনাস দুই। সমান পয়েন্ট রয়েছে হাচিওনেরও। গ্রুপের শেষ ম্যাচে শনিবার উত্তর কোরিয়ার শক্তিশালী দল ৪.২৫ এসসির মুখোমুখি হবে ইস্টবেঙ্গল। ইতিমধ্যেই গ্রুপের প্রথম দুই দলের মধ্যে জায়গা পাকা করে ফেলেছে ৪.২৫ এসসি।

ইস্টবেঙ্গলের (East Bengal) সামনে সমীকরণ পরিষ্কার। ৪.২৫ এসসির বিরুদ্ধে অন্তত এক পয়েন্ট পেলেই সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে যাবে তারা। হারলেও অবশ্য আশা শেষ হবে না। সে ক্ষেত্রে অন্য গ্রুপগুলির তৃতীয় স্থানে থাকা দলগুলির ফলের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে।

এমনকি শনিবার গ্রুপ এ-র ম্যাচে ইরানের বাম খাতুন এফসি এবং মায়ানমারের আয়েয়াওয়াদি এফসির মধ্যে খেলা ড্র হলেও ইস্টবেঙ্গলের (East Bengal) কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত হয়ে যাবে। অর্থাৎ, হাচিওনের কাছে বড় ব্যবধানে হারলেও এশীয় মঞ্চে লড়াই শেষ হয়ে যায়নি সিল্কিদের।

দেখুন: