মহারাষ্ট্রের শেষ চার ব্যাটার যে রান তুলতে পারেন, বাংলার প্রথম চার ব্যাটারও কি সেই রান তুলতে পারেন না? প্রশ্নটা অদ্ভূত। কিন্তু এটাই বাস্তব। এবং ইডেনে বাংলা-মহারাষ্ট্র রঞ্জি ট্রফি ম্যাচে এই ঘটনাই ঘটল। বুধবার বিকেলে পৌনে চারটেয় যখন কম আলোর জন্য খেলা বন্ধ করে দেওয়া হয়, তখন বাংলা স্কোরবোর্ডে সদ্য মহারাষ্ট্রের চেয়ে এগিয়েছে।
ব্যবধানটা মাত্র এক রানের। কিন্তু দুঃখের বিষয় হল, এর মধ্যেই চার উইকেট খুইয়েছে তারা। দিনের শেষে ৭৬-৪-এর পুঁজি নিয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরলেন অভিষেক পোড়েল (অপরাজিত ২৩) ও সূরজ সিন্ধু জয়সওয়াল (০)।বৃহস্পতিবার ম্যাচের শেষ দিনে হার বাঁচাতে লড়বেন বাংলার ব্যাটাররা।
কিন্তু কেন এমন হল? ঘরের মাঠ, ক্রিকেটের নন্দনকানন ইডেনে টানা তিন ম্যাচে সরাসরি জিতে আসা বাংলার এমন বেহাল দশা কেন? প্রথম ইনিংসে অভিমন্যু ঈশ্বরণদের ১৪৩-এর জবাবে মহারাষ্ট্র ৬৪ রানে ছয় উইকেট খোয়ানোর পরেও ২১৮ রান তোলে। অর্থাৎ, তাদের শেষ চার ব্যাটার ১৫৪ রান যোগ করেন স্কোরবোর্ডে।
কারা তাঁরা? নামী কেউই নন। তনয় সাঙ্ঘভি অপরাজিত থাকেন ৬০ রানে। প্রদীপ দাধে করেন ২৭, রাদজবর্ধন হাঙ্গারগেকর ২৪। তনয় ছাড়া বাকিদের রানের সংখ্যা বিশাল কিছু নয় ঠিকই। কিন্তু এই শেষের দিকের দেড়শো রানে তাঁদের প্রতিটি রানের গুরুত্ব ছিল অসীম। ৫৭ ওভার ধরে ক্রিজ কামড়ে পড়ে থেকে তাঁদের তোলা এই ১৫৪ রানের অধ্যায়টিই বাংলাকে ক্রমশ জয় থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।
বাংলার কোচ লক্ষ্মীরতন শুক্লা প্রতিপক্ষের টেল এন্ডারদের এই লড়াইয়ে মুগ্ধ। বললেন, ‘ওই সময়ে ওরা দুর্দান্ত ব্যাটিং করেছে। সে জন্য ওদের কৃতিত্ব দিতেই হবে’। কিন্তু তাঁর দলে যে মহম্মদ শামি, শাহবাজ আহমেদের মতো বোলাররা আছে, সে কথা বোধহয় ভুলেই গিয়েছেন বাংলার কোচ।
বুধবার সকাল থেকে বৃষ্টির পর দুপুরে ১২.৪৫ নাগাদ যখন খেলা শুরু হয় ইডেনে, তখন স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়াকে কেন কাজে লাগিয়ে শামি ও বাকি দুই পেসার সূরজ ও মহম্মদ কাইফ প্রতিপক্ষের টেল এন্ডারদের দ্রুত ফেরাতে পারলেন না, কেন তাদের ২১৮ পর্যন্ত যেতে দেওয়া হল, এটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, যা সুকৌশলে এড়িয়ে গেলেন বঙ্গ-কোচ।
তার পরের ঘটনাটা আরো অবাক করার মতো। বাংলা দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামলে ২৫ রানের মধ্যে ফিরে যান অভিমন্যু (৯), সুদীপ কুমার ঘরামি (১২) ও সুদীপ চট্টোপাধ্যায় (০)। অঙ্কুর পাল (৩২) ও অভিষেক (অপরাজিত ২৩) কোনোরকমে ১২ ওভার ক্রিজে টিকে থেকে দলের স্কোরে আরো ৪৯ রান যোগ করেন ও তার পরে অঙ্কুর ফিরে যান।
আরও পড়ুন: তিন নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ১৩ হাজার! ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথম বিরাট, পেরিয়ে গেলেন শচীনকেও
বাংলার ব্যাটিংয়ের এই দশা যেখানে, সেখানে তারা টানা তিনটি ম্যাচ কী করে জিতে এল, সেটাই প্রশ্ন। দলে একজন ব্যাটিং কোচও রয়েছেন, সুরেন্দ্র ভাবে। তাঁর ভূমিকা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার ম্যাচের শেষ দিন কঠিন পরীক্ষা বাংলার। সকালের স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় মহারাষ্ট্রের পেসারদের কী ভাবে সামলাবেন অভিষেকরা, সেটাই দেখার। তাদের বোলিং কোচ সামাদ ফালা ইডেন থেকে বেরনোর সময় বলে গেলেন, ‘কাল দ্রুত ওদের ছ’উইকেট ফেলে দিয়ে জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় রান তুলে নেওয়াই আমাদের লক্ষ্য’। যতটা সহজে বললেন কথাগুলো, তত সহজে কি করতে পারবেন কাজটা? এটা পুরোপুরি নির্ভর করছে বাংলার ব্যাটারদের ওপর।
ক্রিজে লড়বেন অভিষেক, সূরজ। প্যাভিলিয়নে প্যাড-আপ করে অপেক্ষায় থাকবেন শাহবাজ, সুমন্ত গুপ্ত, প্রদীপ্ত প্রামানিক, শামি, কাইফরা। ‘বাংলা বাঁচাও’ মিশনে সফল হতে পারবেন তাঁরা? উত্তর পাওয়া যাবে লক্ষ্মীবারেই।
দেখুন:




