• facebook
  • twitter
  • youtube
Tuesday, 3 November, 2026

আন্তর্জাতিক মানে গঙ্গাসাগর মেলার প্রস্তুতি, ২০ লক্ষ টেন্ট তৈরির পরিকল্পনা নবান্নের

এ ছাড়া ভারতীয় রেলের বিশেষ পরিষেবার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পুণ্যার্থীদের বিনামূল্যে রেলযাত্রার বিষয়টিও রেল কর্তৃপক্ষের বিবেচনায় রয়েছে বলে খবর। যাতায়াত, থাকা, খাওয়া ও নিরাপত্তা-সহ প্রতিটি পরিষেবা নির্বিঘ্ন করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলির জন্য বিশেষ গাইডলাইন তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। কেন্দ্রের সহযোগিতার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।

আন্তর্জাতিক মানে গঙ্গাসাগর মেলার প্রস্তুতি, ২০ লক্ষ টেন্ট তৈরির পরিকল্পনা নবান্নের

Photo: Statesman

সব তীর্থ বারবার, গঙ্গাসাগর একবার। এই প্রবাদকে সামনে রেখেই গঙ্গাসাগর মেলাকে আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছে রাজ্য সরকার। কলকাতা থেকে কপিলমুনির আশ্রম পর্যন্ত গোটা যাত্রাপথে পুণ্যার্থীদের জন্য উন্নত পরিষেবা দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নবান্ন সূত্রের খবর, যাতায়াত, থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা বিনামূল্যে করার ভাবনা রয়েছে।

প্রাথমিক পরিকল্পনায় প্রায় ২০ লক্ষ টেন্ট তৈরির কথাও ভাবা হচ্ছে। নিরাপত্তা ও নজরদারিতে ব্যবহার করা হবে এআই, সিসিটিভি এবং হেলিকপ্টার। জলপথেও চলবে বিশেষ নজরদারি। থাকছে না পৃথক কোনও ভিআইপি ব্যবস্থা। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী গঙ্গাসাগর মেলাকে আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যের কথা জানিয়েছেন। সেই লক্ষ্যেই প্রশাসনিক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, রাজ্যে প্রবেশের পর থেকেই পুণ্যার্থীদের অভ্যর্থনা ও সহযোগিতার ব্যবস্থা থাকবে। কলকাতা থেকে গঙ্গাসাগর পর্যন্ত বিনামূল্যে বাস পরিষেবা চালুর পাশাপাশি বাসের সংখ্যা বাড়ানোর ভাবনা রয়েছে। নদী পারাপারে অতিরিক্ত লঞ্চ চালানো হবে, যাতে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে না হয়।

পুণ্যার্থীদের থাকার জন্য বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় অস্থায়ী শিবির ও টেন্ট তৈরি করা হবে। থাকবে পানীয় জল, স্নান এবং বিনামূল্যে খাবারের ব্যবস্থা। ভাণ্ডারায় উন্নত মানের খাবার দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। পুণ্যস্নানের জন্য বাড়ানো হবে ঘাটের সংখ্যা। পুরুষ ও মহিলাদের জন্য পৃথক স্নানের ব্যবস্থা এবং কপিলমুনির আশ্রমে পুজো দেওয়ার ক্ষেত্রে ভিড় নিয়ন্ত্রণেও বিশেষ নজর দেওয়া হবে।

মেলা প্রাঙ্গণে থাকবে আধুনিক অনুসন্ধান কেন্দ্র, সচিত্র পরিচয়পত্র এবং অসংখ্য স্বেচ্ছাসেবক। বিভিন্ন জায়গায় খোলা হবে সহায়তা কেন্দ্র। পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে ২৪ ঘণ্টা শিফট অনুযায়ী কাজ করবেন কর্মীরা। বিশুদ্ধ পানীয় জল ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করারও পরিকল্পনা রয়েছে।

নিরাপত্তার জন্য কলকাতা থেকে মেলা প্রাঙ্গণ পর্যন্ত সিসিটিভি ও এআই প্রযুক্তিতে নজরদারি চালানোর ভাবনা রয়েছে। প্রাথমিক পরিকল্পনায় ১০টি হেলিকপ্টার রাখার কথা রয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী সংখ্যা বাড়তে পারে। আকাশপথ ও জলপথে রাজ্য প্রশাসনের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর যৌথ নজরদারির পরিকল্পনাও রয়েছে।

এ ছাড়া ভারতীয় রেলের বিশেষ পরিষেবার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পুণ্যার্থীদের বিনামূল্যে রেলযাত্রার বিষয়টিও রেল কর্তৃপক্ষের বিবেচনায় রয়েছে বলে খবর। যাতায়াত, থাকা, খাওয়া ও নিরাপত্তা-সহ প্রতিটি পরিষেবা নির্বিঘ্ন করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলির জন্য বিশেষ গাইডলাইন তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। কেন্দ্রের সহযোগিতার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।

আরও পড়ুন: নিম্নচাপের জেরে বাজি তৈরিতে ব্যাঘাত, চিন্তায় বাগনানের বাজি প্রস্তুতকারকরা

সাধারণ পুণ্যার্থী থেকে বিশিষ্ট ব্যক্তি, সকলের জন্য একই পরিষেবা নিশ্চিত করতে চায় প্রশাসন। তবে এই বিপুল পরিকল্পনা কতটা বাস্তবায়িত হবে, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।