সে মেজাজই। নিজের মেজাজ নিয়েই চলাফেরা করে। সেটা জঙ্গলেই হোক কিংবা লোকালয়ে। মেজাজটাই যে আসল রাজা সেটা বারবারই বুঝিয়ে দেয় সে। এবার জঙ্গল থেকে বেরিয়ে যাচ্ছিল নিজের গন্তব্যে। কিন্তু তার পথে কিনা বাধা! এই বাধা তৈরি হয় বন্ধ রেলগেট থাকার জন্য। আর তাতেই রাগে গর্জে ওঠে সে। তাই ধাক্কা মেরে রেলগেট ভেঙে দিল বুনো দাঁতাল। তারপর রেললাইনের উপর দাপটের সঙ্গে ঘুরে বেড়ায় গজরাজ। এমনকী রেলগেট ডিঙিয়ে চলে যায় কংসাবতী নদীর দিকে। শনিবার সকালের এই ঘটনায় আলোড়ন ছড়িয়ে পড়ে ঝাড়গ্রামের সরডিহা এবং বাঁশতলা রেল স্টেশনের মাঝে রাসুয়া রেলগেট এলাকায়।
হাতির ধাক্কায় রেলগেট ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ট্রেন চলাচল বিঘ্নিত হয়নি। শনিবার সকালেই ভাঙা রেলগেট মেরামত করতে হয় রেল কর্তৃপক্ষকে। আসলে হাতি কখনই নিজের চলার পথে বাধা মেনে নিতে পারে না। সেটা এই ঘটনা থেকে আবার প্রমাণিত হল। যে রেলগেট এত ভারী তা নিমেষেই ভেঙে ফেলল বুনো হাতি। আর সেটা যাঁরা দেখেছেন তাঁরা অবাক হয়ে গিয়েছেন। এমন ঘটনা আগে ঘটেনি। ওই হাতি একাই ছিল। নিজের খাবার সংগ্রহ করতে বেরিয়ে ছিল বলে জানা গিয়েছে। সেখানেই সে বাধা পায়। রেলগেটের ওপারে যেতে পারছিল না। তাই রেলগেটই ভেঙে ফেলল ওই বুনো দাঁতাল।
বনদপ্তর সূত্রে খবর, শুক্রবার রাতে এই বুনো দাঁতাল হাতি খড়গপুর বনবিভাগের কলাইকুণ্ডা রেঞ্জ থেকে বেলতলা হয়ে ঝাড়গ্রাম বনবিভাগের মানিকপাড়া রেঞ্জের কুসুমঘাঁটি বিটের রাসুয়া এলাকায় ঢুকেছিল। আর শনিবার সকালে লালগেড়িয়া-রাসুয়া রেলগেটের কাছে পৌঁছয় ওই হাতি। তখন রেলগেট বন্ধ থাকায় তার চলার পথে বাধা হয়। তখন আপ লাইনের পাশের গেট ধাক্কা মেরে ভেঙে রেললাইনে উঠে পড়ে হাতি। তারপর কিছুক্ষণ দাপটের সঙ্গে লাইনের উপর ঘোরাঘুরি করে। আর ডাউন লাইনের পাশের গেট ডিঙিয়ে কংসাবতী নদীর দিকে চলে যায়। নদী পেরিয়ে হাতি ইতিমধ্যেই মেদিনীপুর বনবিভাগের চাঁদড়া রেঞ্জে ঢুকে পড়েছে।
তাছাড়া রাসুয়া রেলগেটের গেটম্যান হাতি আসতে দেখে নিজের নিরাপত্তার জন্য ভিতরে ঢুকে পড়েন। এমনকী রেল কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়ে ট্রেনের গতি কমানোর অনুরোধ করেন। ওই গেটম্যান বলেন, ‘রেলগেট ভেঙে হাতি দু’বার ঘোরাঘুরি করে চলে যায়। হাতি আসার আগে আপ ও ডাউন লাইন দিয়েই মালগাড়ি গিয়েছিল। হাতি যখন লাইনে ওঠে তখন কোনও ট্রেন ছিল না।’ খড়্গপুর ডিভিশনের সিনিয়র কমার্শিয়াল ম্যানেজার নিশান্ত কুমার সংবাদমাধ্যমে বলেছেন, ‘হাতির ধাক্কায় রেলগেট ভেঙেছে। তবে ট্রেন চলাচলে কোনও বাধা হয়নি। স্বাভাবিকভাবেই ট্রেন চলেছে। ভেঙে যাওয়া রেলগেট মেরামত করা হয়েছে।’




