ঝাড়গ্রামে বেড়াতে গিয়ে জলপ্রপাতের আনন্দ নেননি এমন পর্যটক খুব কমই আছে। আর এবার সেই জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র বেলপাহাড়ির ঘাগরা জলপ্রপাতে ঘটে গেল মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। অসাবধানতায় খরস্রোতা জলপ্রপাতে পড়ে গিয়েছিল সাত বছরের সন্তান। সেটা দেখে নিজেকে স্থির রাখতে পারেননি মা। কী করে সন্তানকে বাঁচাবেন সেটা বউজতে পারছিলেন না। তাই ছেলেকে বাঁচাতে নিজেই ঝাঁপিয়ে পড়লেন ওই জলপ্রপাতে। আর তখনই তলিয়ে গেলেন মা। দীর্ঘক্ষণ তল্লাশি করার পর অবশেষে উদ্ধার হল নিখোঁজ ওই পর্যটক মহিলার নিথর দেহ। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ওই সন্তান এবং স্ত্রীকে বাঁচাতে ঝাঁপ দেন বাবাও। ছেলেকে বাঁচাতে পারলেও হারালেন নিজের স্ত্রীকে।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে এবং ছুটি কাটাতে এসে মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হলেন বারুইপুরের এই পরিবার। এই দুর্ঘটনার খবর প্রকাশ্যে আসতেই তীব্র আলোড়ন পড়ে গিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন জেলা পুলিশের উচ্চপদস্থ অফিসাররা। কেমন করে এই দুর্ঘটনা ঘটল সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ সূত্রে খবর, দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর থেকে ওই দম্পতি তাঁদের সাত বছরের ছেলে এবং আত্মীয়দের সঙ্গে ঝাড়গ্রামে বেড়াতে এসেছিলেন। শনিবার দুপুরে তাঁরা বেলপাহাড়ির ঘাগরা জলপ্রপাত দেখতে পৌঁছন। জলপ্রপাতের কাছে হঠাৎই অসাবধানতায় পা পিছলে যায়। আর তখনই গভীর ওই খরস্রোতা জলে পড়ে যায় তাঁদের সন্তান। চোখের সামনে সন্তানকে ভেসে যেতে দেখে বাঁচাতে জলে ঝাঁপ দেন মা।
স্থানীয় সূত্রে খবর, শনিবার ঝাড়গ্রাম ঘুরতে আসেন প্রায় ৩৬ জনের একটি পর্যটক দল। তাঁরা ওঠেন ঝাড়গ্রামের একাধিক হোটেলে। শনিবার প্রথমে বেলপাহাড়ির ঘাঘরা জলপ্রপাত দেখতে যান। ওই দলেই ছিলেন বারুইপুরের বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত রাজদীপ দত্ত এবং তাঁর স্ত্রী প্রীতি দত্ত। তাঁদেরই সাত বছরের ছেলে প্রিয়ঙ্কন দত্ত। বারুইপুরের এই পরিবার দুপুরে জলপ্রপাতের কাছে ছবি তুলে সন্তানকে সঙ্গে নিয়েই ফিরছিলেন। তখনই হঠাৎই প্রিয়ঙ্কনের পা পিছলে যায়। আর সে জলে পড়ে যায়। তাই দেখে মা প্রীতি জলে ঝাঁপ দেন। আর তাদের বাঁচাতে রাজদীপও জলে ঝাঁপ দেন। রাজদীপ সাঁতার জানেন বলে ছেলেকে উদ্ধার করে পারেন। কিন্তু স্ত্রীকে তুলে আনতে পারেননি। প্রীতি তীব্র জলের স্রোতে ভেসে চলে যান।
তাছাড়া এই দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বেলপাহাড়ি থানার পুলিশ। পুলিশ ও দমকল বাহিনীর কর্মীরা যৌথভাবে নিখোঁজ মহিলার খোঁজে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। চিরুনি তল্লাশি করার পর দমকলকর্মীরা জলপ্রপাতের গভীর থেকে মহিলার নিথর দেহ উদ্ধার করেন। উদ্ধারকাজ চলাকালীন অন্ধকার নেমে এসেছিল। তাই দেরি হয় উদ্ধারকাজে।




