শিক্ষা সবার অধিকার। আদিবাসীদের জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা করা হবে। সাঁওতালি, কুড়মি সকলের জন্য উন্নয়ন করা হবে। এমনই দাবি করেছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেটা যে শুধু মুখের কথা ছিল না সেটা এবার প্রকাশ্যে এল। কথা রাখলেন মুখ্যমন্ত্রী। দুর্গাপুজোর আগেই ধাসমা-মাদলের বোল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করলেন। এবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতর থেকেই গমগম করে শব্দ ভেসে আসবে সাঁওতালি সুর-তাল-ছন্দ। কারণ আদিবাসীদের লোকসংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের গবেষণায় বড় উদ্যোগ নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। দেশের মধ্যে এই প্রথম সাঁওতালি নাচ এবং গানে স্নাতকোত্তর কোর্স চালু করল ঝাড়গ্রামের সাধু রামচাঁদ মুর্মু বিশ্ববিদ্যালয়।
এই উদ্যোগের কথা প্রকাশ্যে আসতেই খুশির হাওয়া বইতে শুরু করেছে আদিবাসীদের মধ্যে। দুর্গাপুজোর আগে এটা একটা বড় উপহার হিসাবেই দেখছেন তাঁরা। রবিবার এই কথা গোটা জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে। আর তাই অভিভাবকরা নিজের ছেলেমেয়েদের মেধা বিকশিত হবে বলে মনে করতে শুরু করেছেন। উচ্চশিক্ষা দপ্তর থেকে ইতিমধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ে সাঁওতালি সঙ্গীত এবং নৃত্যতে স্নাতকোত্তর কোর্স চালু করার অনুমতি দিয়েছে। সুতরাং আর কোনও বাধা রইল না। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেই এই কোর্স চালু করা হয় আনুষ্ঠানিকভাবে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন অনগ্রসর শ্রেণিকল্যান দপ্তরের মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু, বিধায়ক প্রণত টুডু, সাংসদ কালীপদ সোরেন।
আদিবাসী ছেলেমেয়েরা অনেকেই সাঁওতালি গান ভাল গাইতে পারেন। আবার অনেকে নৃত্যে বিশেষ পারদর্শী। কিন্তু সেটা নিয়ে উচ্চতর চর্চা করার সুযোগ ছিল না। সুতরাং অনেক প্রতিভা স্থানীয় স্তরে আটকে থাকত। আবার অনেক প্রতিভা হারিয়েও যেত। সেটা এবার থেকে আর হবে না। ঝাড়গ্রামের সাধু রামচাঁদ মুর্মু বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিপ্লোমা এবং পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা আছে। তবে দুটি কোর্সই একবছরের। এবার দু’বছরের স্নাতকোত্তর কোর্স চালু করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য চন্দ্রদীপা ঘোষ এই বিষয়ে বলেন, ‘সাঁওতালি মাধ্যমের ছাত্রছাত্রীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাঁওতালি সঙ্গীত এবং নৃত্যে স্নাতকোত্তর কোর্স চালু করার দাবি করেছিলেন। আমরা উচ্চশিক্ষা দপ্তরে এই কোর্স চালুর অনুমতি চেয়েছিলাম। আমাদের সিলেবাস থেকে শিক্ষক সব প্রস্তুত আছে। উচ্চশিক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ভর্তির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পড়ুয়ারাও ভর্তি হতে শুরু করেছে।’
তাছাড়া সাঁওতালি গান এবং নৃত্য এখন গোটা দেশের নানা অনুষ্ঠানে দেখা যায়। অনেকেই দেখতে ভালবাসেন। বিদেশের মাটিতে এসবের চাহিদা রয়েছে। সেখানে রাজ্যে এমন শিক্ষা পেলে সেটা কর্মসংস্থানের পথও খুলে দেবে। এই বিষয়ে উপাচার্য চন্দ্রদীপা ঘোষের প্রতিক্রিয়া, ‘দেশে এই প্রথম ঝাড়গ্রামের সাধু রামচাঁদ মুর্মু বিশ্ববিদ্যালয়ে সাঁওতালি সঙ্গীত এবং নৃত্যতে স্নাতকোত্তর কোর্স চালু হচ্ছে।’ আর বিধায়ক প্রণত টুডু বললেন, ‘সাঁওতালি সংস্কৃতির বিকাশে আরও এক নতুন অধ্যায় শুরু হচ্ছে।’




