• facebook
  • twitter
  • youtube
Saturday, 31 October, 2026

‘চাইতেন না যে, ওঁর আমন্ত্রণ ছাড়া আমি সেখানে যাই’, ইন্দ্রনীলকে অতীত খোঁচা রচনার

তাছাড়া রচনা এও দাবি করেছেন দলে থাকার সময়ই অনুষ্ঠানে আসতে না পারার কথা স্থানীয় মানুষজনকে জানিয়েছিলেন

‘চাইতেন না যে, ওঁর আমন্ত্রণ ছাড়া আমি সেখানে যাই’, ইন্দ্রনীলকে অতীত খোঁচা রচনার

Indranil Sen-Rachana Banerjee Photo-ANI

ইন্দ্রনীল সেন গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে মুখ খুলতে শুরু করেছেন সাংসদরা। দলে থাকা এবং দল ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়া সাংসদরা অতীতের স্মৃতি স্মরণ করিয়ে খোঁচা দিতে শুরু করেছেন তাঁরা। আর সেসব জেলে বসেই হজম করতে হচ্ছে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ককে। পাস বিক্রি করা এবং আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে ইন্দ্রনীলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারপরই মুখ খুলেছেন সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদার। আর দলে থেকেই ইন্দ্রনীলের সমালোচনা করেছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার সেই তালিকায় সংযোজন হলেন সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। কাকলি-রচনা তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআই দলে যোগ দিয়েছেন। কিন্তু কল্যাণ তৃণমূলেই আছেন।

এই পরিস্থিতি ইন্দ্রনীল সেনের জন্য যে ভাল বিজ্ঞাপন নয় সেটা কারও বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে না। হুগলির সাংসদ রচনা। কিন্তু চন্দননগরের কোনও অনুষ্ঠানে তিনি যেতে পারতেন না। কারণ, মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন সেটা চাইতেন না বলে দাবি করেছেন তৃণমূলত্যাগী এনসিপিআই সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও ইন্দ্রনীল গ্রেপ্তার হওয়ার আগে পর্যন্ত এই কথা বলেননি তিনি। তৃণমূল ক্ষমতা থেকে চলে যাওয়ার পরও এই কথা শোনা যায়নি। দল ছেড়ে এনসিপিআই দলে যোগ দিলেও এতদিন এমন কোনও অভিযোগ করেননি রচনা। কিন্তু ইন্দ্রনীল গ্রেপ্তার হতেই একের পর এক অভিযোগ তুলে ইন্দ্রনীলকে আক্রমণ করেছেন তিনি। পুরনো দলের অন্দরের তিক্ততাকে এখন হাতিয়ার করছেন রচনা।

একদিন আগেই চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের উদ্যোগে আয়োজিত বিজয়া সম্মিলনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানেই তিনি পুরানো সেই দিনের কথা সামনে এনেছেন। নিজের রাজনৈতিক জীবনে এই প্রথম এমন কোনও অনুষ্ঠানে তিনি ডাক পেলেন বলে জানিয়েছেন। আগে সাংসদকে চন্দননগরে কখনও ডাকাই হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন। এমনকী প্রকাশ্যেই ইন্দ্রনীলের গ্রেপ্তারের ঘটনা নিয়ে রচনা বলেন, ‘আমি বেশি কিছু মন্তব্য করব না। পুলিশ তাদের কাজ করেছে। ওঁকে আমি খুব ভাল করে চিনতামও না। হতে পারে উনি আমার এলাকার বিধায়ক ছিলেন। কিন্তু আমি সেভাবে কখনও চন্দননগরে যেতে পারিনি। কারণ, উনি পছন্দ করতেন না। চাইতেন না যে, ওঁর আমন্ত্রণ ছাড়া আমি সেখানে যাই।’

তাছাড়া রচনা এও দাবি করেছেন দলে থাকার সময়ই অনুষ্ঠানে আসতে না পারার কথা স্থানীয় মানুষজনকে জানিয়েছিলেন। তাই সংবাদমাধ্যমের সামনে রচনার দাবি, ‘দু’একবার যখনই চন্দননগরে এসেছি, এখানকার মানুষের কাছে দুঃখপ্রকাশ করেছি। বলেছি, আসতে চাইলেও আসতে পারি না আপনাদের কাছে। আসলে এখানকার বিধায়ক বলতেন, ‘আমি যখন বলব, তখন সাংসদ আসবেন। না হলে নয়’। তাই আমার আসা হতো না। এই মানুষটাকে নিয়ে খুব বেশি কথা আমি বলতে চাই না। একসঙ্গে ভাল করে কাজ করতে পারিনি। আমি এখন ওই দলের কেউ নই। তাই তাঁদের কাউকে নিয়ে মন্তব্য করা উচিত নয়। তবে উনি আমার কাজে বাধা দিতেন না। শুধু পছন্দ করতেন না যে ওঁর এলাকায় সাংসদ আসুক। দলের কর্মীরাও আমাকে সে কথা জানিয়েছিলেন। বাকি সব জায়গার বিধায়কের সঙ্গে আমার সম্পর্ক ভাল ছিল।’