• facebook
  • twitter
  • youtube
Thursday, 29 October, 2026

ইন্দ্রনীল সেন মামলায় ইউনেস্কোকে চিঠি কলকাতা পুলিশের, তদন্তে একাধিক তথ্য

ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্তে ইউনেস্কোকে চিঠি দিয়েছিল কলকাতা পুলিশ। দুর্গাপুজো নিয়ে তৎকালীন তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের সঙ্গে ইউনেস্কোর কোনও চুক্তি হয়েছিল কি না

ইন্দ্রনীল সেন মামলায় ইউনেস্কোকে চিঠি কলকাতা পুলিশের, তদন্তে একাধিক তথ্য

ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্তে ইউনেস্কোকে চিঠি দিয়েছিল কলকাতা পুলিশ। দুর্গাপুজো নিয়ে তৎকালীন তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের সঙ্গে ইউনেস্কোর কোনও চুক্তি হয়েছিল কি না, তা জানতে চাওয়া হয়। সূত্রের খবর, উত্তরে জানানো হয়েছে, দুর্গাপুজো নিয়ে এমন কোনও চুক্তি হয়নি।

তদন্তকারীদের সূত্রে খবর, রেড রোড কার্নিভাল, কলকাতা বইমেলা, ‘বাংলা মোদের গর্ব’ এবং কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের টেন্ডার পাইয়ে দেওয়া নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, তাঁর পছন্দের তিনটি সংস্থা—থার্ড লাইন ক্রিয়েশন, জিডি ক্রিয়েশন ও রূপকার—এই সরকারি অনুষ্ঠানগুলির কাজ পেয়েছিল।

অভিযোগ অনুযায়ী, থার্ড লাইন ক্রিয়েশন পেয়েছিল ৩৬ কোটি ৯ লক্ষ ৫৪ হাজার টাকার টেন্ডার, জিডি ক্রিয়েশন ২৪ কোটি ৯৪ লক্ষ ৫১ হাজার টাকার এবং রূপকার ৮ কোটি ২১ লক্ষ ২৩ হাজার টাকার কাজ। তদন্তকারীদের সূত্রের খবর, তিনটি সংস্থার সঙ্গে ইন্দ্রনীল সেনের ‘মাস আর্ট’-এর যোগ রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বদলে অন্য অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে টাকা লেনদেনের অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কলকাতা ছাড়াও বিভিন্ন জেলায় সরকারি অনুষ্ঠানের কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে, ইউনেস্কোর নাম ব্যবহার করে তৈরি পার্কে ২৪টি দুর্গাপুজোকে ‘সিকিওর’ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। সূত্রের খবর, ওই পুজোগুলিতে প্রবেশের জন্য টিকিট বাধ্যতামূলক ছিল। টিকিটের দাম ছিল ১,৮০০ থেকে ১২ হাজার টাকা। একটি ট্রাভেল সংস্থার প্রধান জয়দীপ মুখোপাধ্যায় প্রথম বৌবাজার থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পরে তদন্তভার কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের হাতে যায়। একই সঙ্গে তদন্ত শুরু করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)।

গতকাল জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইডি দফতরে গিয়েছিলেন ইন্দ্রনীল সেন। সূত্রের খবর, বিকেল পাঁচটা-ছ’টা নাগাদ সিজিও কমপ্লেক্স থেকে বেরনোর সময় তাঁকে গ্রেফতার করে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ ও স্পেশ্যাল সেল। আজ তাঁকে ব্যাঙ্কশাল আদালতে তোলা হলে বিচারক ১০ নভেম্বর পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন।

লালবাজার সূত্রে খবর, ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৩১৬ (বিশ্বাসভঙ্গ), ৩৩৬(২), ৩৩৬(৩) (জালিয়াতি), ৩৩৮ (মূল্যবান নথি জালিয়াতি), ৩১৮ (প্রতারণা), ৬১(২) (অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র) এবং ৩৪০(২) (জাল নথি সংক্রান্ত) ধারা।

গোয়েন্দা সূত্রের খবর, বুধবার গভীর রাত পর্যন্ত সংগৃহীত নথি ও ব্যয়সংক্রান্ত হিসাব সামনে রেখে ইন্দ্রনীল সেনকে জেরা করা হয়। জেরায় তিনি একাধিক প্রশ্ন এড়িয়ে গিয়েছেন বলে খবর।

অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দাবি, ইন্দ্রনীলের মালিকানাধীন ‘অক্টেভ রেকর্ডস’-এর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে নগদে ৩.৮ কোটি টাকা জমা পড়েছিল। ওই অ্যাকাউন্ট থেকেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ৩০ লক্ষ টাকা পাঠানো হয়েছিল বলেও দাবি সংস্থাটির। এই ঘটনায় আর কারা যুক্ত এবং কীভাবে টাকার লেনদেন হয়েছে, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। সরকারি আইনজীবীর দাবি, টেন্ডার পাইয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে ইন্দ্রনীল সেনের প্রত্যক্ষ ভূমিকার প্রমাণ তাঁদের হাতে রয়েছে।