ভারত ও আমেরিকার বাণিজ্যচুক্তি চুড়ান্ত হওয়ার পথে। গত দেড় বছর ধরে চলা বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে আলোচনা শেষ হয়েছে। এমনটাই দাবি করলেন মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও ( Marco Rubio)। তাঁর কথায়, চুক্তির ৯৯ শতাংশ কাজ সম্পূর্ণ। কেবল কয়েকটি শব্দ ও বাক্যাংশের ব্যাখ্যা নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে চূড়ান্ত সই বাকি বলে জানান তিনি। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই চুক্তি হয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদী।
তিন দিনের ভারত সফরে এসেছেন মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও ( Marco Rubio)। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, আমেরিকার শুল্কনীতি বা ভিসা সংক্রান্ত বিধিনিষেধের মাধ্যমে ভারতকে নিশানা করার কোনও পরিকল্পনা ওয়াশিংটনের নেই। শাস্তি দেওয়া নয় বরং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক মজবুত করে বাণিজ্যিক সমঝোতায় পৌঁছনোই আমেরিকার লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুন: টাইগার শ্রফকে গুলি করার ঘটনা গ্রেপ্তার আরও চার, ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন দুই মহিলা
বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে রুবিও বলেন, আলোচনা প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে। তাঁর ( Marco Rubio) আশা, আর কয়েক মাস নয়, কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই চুক্তি চূড়ান্ত হয়ে যাবে। তবে বাকি এক শতাংশ কাজের ক্ষেত্রে ঠিক কী ধরনের জটিলতা রয়েছে, তা প্রকাশ্যে আনতে চাননি মার্কিন বিদেশসচিব। তিনি জানিয়েছেন, সমস্যা প্রযুক্তিগত নয়। চুক্তির নির্দিষ্ট কিছু শব্দ ও বাক্যাংশের অর্থ এবং ব্যাখ্য়া নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে।
সম্প্রতি আমেরিকায় একটি আইন পাস হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে আমেরিকা চাইলে রাশিয়া থেকে তেল কেনা দেশের উপর ১০০ শতাংশ শুল্ক বসাতে পারবে। ভারত রাশিয়ার কাছ থেকে জ্বালানি কেনে। ফলে এই আইনের প্রয়োগ নিয়ে নয়াদিল্লির মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।
তবে রুবিও ( Marco Rubio) জানিয়েছেন, এই শুল্কনীতি ভারতকে শাস্তি দেওয়ার উদ্দেশে তৈরি হয়নি। তাঁর মতে, এমন পদক্ষেপ দুই দেসের অর্থনীতিতেই প্রভাব ফেলতে পারে। তাই পরিস্থিতি সতর্কতার সঙ্গে সামলানো এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আমেরিকার অভিবাসন ও ভিসা নীতি নিয়ে উদ্বেগের প্রসঙ্গও উঠেছে সাক্ষাৎকারে। রুবিও ( Marco Rubio)জানিয়েছেন, গত দুই দশক ধরে অভিবাসন ব্যবস্থায় যে সমস্যাগুলি তৈরি হয়েছে, সেগুলি সংশোধন করতেই ওয়াশিংটন উদ্যোগী হয়েছে। এই পদক্ষেপ কোনও নির্দিষ্ট দেশ, বিশেষ করে ভারতের বিরুদ্ধে নয় বলেই দাবি তাঁর। সব মিলিয়ে, বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে ইতিবাচক বার্তা দিলেও ভাষাগত জটিলতা এখনও কাটেনি বলে খবর। সেই বাধা দূর হয় কি না, এখন সেদিকেই নজর দুই দেশের কূটনৈতিক মহলের।
দেখুন: শুধু রুশ তেল নয়, ভারতের জ্বালানি বৈচিত্র্যই মূল বিষয়: রুবিও




