দুর্গাপুজোর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে নানা আচার, লোকবিশ্বাস এবং প্রাচীন ঐতিহ্য। এই আচারের অন্যতম একটি রীতি হল নীলকণ্ঠ পাখি ওড়ানো। দশমীর দিন দেবী দুর্গার বিসর্জনের আগে একাধিক বনেদি বাড়িতে এই পাখি ওড়ানোর প্রথা প্রচলিত ছিল। সময়ের সঙ্গে বদলেছে সেই রীতির ধরন। এখন কোথাও জ্যান্ত পাখির পরিবর্তে নীলকণ্ঠের মাটির মূর্তি বিসর্জন দেওয়া হয়। কোথাও আবার নীলকণ্ঠ পাখির ছবি আঁকা ফানুস ওড়ানো হয়। দশমীর দিন এই পাখি ওড়ানোর সঙ্গে রয়েছে একাধিক পৌরাণিক কাহিনি ও লোকবিশ্বাস।

উমার কৈলাসে ফেরার বার্তা দেয় নীলকণ্ঠ
সন্তানদের নিয়ে বাপের বাড়িতে কাটিয়ে দশমীতের কৈলাসে ফিরে যান উমা। দেবী বিদায়ের সেই খবর স্বামী মহাদেবের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব নেয় নীলকণ্ঠ পাখি। হিন্দু পুরাণে শিবের আর এক নাম নীলকণ্ঠ। সমুদ্র মন্থনে উঠে আসা বিষ পান করে তাঁর কণ্ঠ নীলবর্ণ হয়েছিল বলে তাঁর এই নাম। নীলকণ্ঠ পাখিও নীল রঙের। এই সাদৃশ্য থেকেই পাখিটির সঙ্গে মহাদেবের যোগসূত্র কল্পনা করা হয়। সেই বিশ্বাস থেকেই বনেদি বাড়ির দুর্গাপুজোয় দশমীর দিন নীলকণ্ঠ পাখি ওড়ানোর রীতি চালু হয়।
আরও পড়ুন: শরৎ এল রে: কেন বিজয়া দশমী বলা হয়? এই বিশেষ তিথির মাহাত্ম্য কী জানেন?

রামায়ণের কাহিনিতে রয়েছে নীলকণ্ঠ
রাবণ বধের আগে শ্রীরাম নীলকণ্ঠ পাখি দেখতে পেয়েছিলেন। আবার অন্য একটি কাহিনিতে বলা হয়েছে, শিবভক্ত রাবণকে বধ করার পর ব্রহ্মহত্যার পাপ থেকে মুক্তি পেতে রাম ও লক্ষ্মণ মহাদেবের আরাধনা করেন। সেই সময় শিব নীলকণ্ঠ পাখির রূপে তাঁদের দর্শন দিয়েছিলেন। নীলকণ্ঠ পাখি রাম, লক্ষ্মণ ও বানরসেনাকে লঙ্কার পথের দিশা দেখিয়েছিলেন।
আরও পড়ুন: শরৎ এল রে: বিজয়া দশমীতে মণ্ডপে মণ্ডপে চলে সিঁদুর খেলা
তবে বর্তমানে নীলকণ্ঠ পাখি ধরা বা ওড়ানোর পরিবর্তে প্রতীকী রীতির উপরেই বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে। বন্যপ্রাণ সংরক্ষণের স্বার্থে জ্যান্ত পাখি ব্যবহার না করে কোথাও মাটির নীলকণ্ঠ বিসর্জন দেওয়া হয়, কোথাও ওড়ানো হয় পাখির ছবি আঁকা ফানুস। উমার কৈলাসে ফেরার বার্তা এই প্রথার জন্ম দিয়েছিল। তবে সময়ে সঙ্গে সঙ্গে তার রূপ বদলালেও ঐতিহ্যের স্মৃতি আজ রয়ে গিয়েছে বাঙালির বিজয়া দশমী পালনে।
দেখুন: বাগবাজারের পুজো মণ্ডপে সিঁদুরখেলা, লাল রঙে রাঙল বিজয়ার সকাল




