• facebook
  • twitter
  • youtube
Wednesday, 21 October, 2026

‘আমি অভিভাবক হতে পারি’, বরাহনগরে নিহত দম্পতির ছেলের দায়িত্ব নিতে চাইলেন মুখ্যমন্ত্রী

অন্যদিকে ১৭ অক্টোবর, প্রথম সপ্তমীর সন্ধ্যায় চোরবাগান সার্বজনীন দুর্গাপুজো প্যান্ডেলে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যু হয়। আহত হন একাধিক

‘আমি অভিভাবক হতে পারি’, বরাহনগরে নিহত দম্পতির ছেলের দায়িত্ব নিতে চাইলেন মুখ্যমন্ত্রী

CM Suvendu Adhikari Photo-ANI

চোরবাগানের বিপর্যয়ে মৃতদের প্রত্যেকের বাড়ি যাবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই কথা আগেই জানানো হয়েছিল। গতকালের পর বুধবারও সেই কথা রাখতে স্বজনহারাদের পাশে পৌঁছে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী। চোরবাগানের ঘটনায় মৃত বরাহনগরের দীপালি এবং দিলীপ ঘোষের বাড়িতে যান মুখ্যমন্ত্রী। আর্থিক সাহায্যের পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আশ্বস্ত করেন, যদি পরিবার চায় নিহত দম্পতির ছেলের দায়িত্ব তিনি নিতে পারেন। পদপিষ্ট হয়ে মারা যান প্রিয়া সমাদ্দার। মৃতার বাড়ি উত্তর ২৪ পরগনার নিউ ব্যারাকপুরে। প্রিয়ার মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ গোটা পরিবার। এদিন মুখ্যমন্ত্রী সেখানেও পৌঁছন। বাড়ির লোকেদের সঙ্গে কথা বলে সমবেদনা জানান। পরিবারের পাশে থাকার বার্তা দেন।

এদিকে বুধবার বাজেকদমতলা ঘাট পরিদর্শনে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। যাতে বিসর্জনের সময় কোনও অঘটনা না ঘটে তা সরেজমিনে দেখেন তিনি। তারপর সেখান থেকে একের পর এক মৃতদের বাড়িতে যান তিনি। বরাহনগরের বাড়িতে গিয়ে ঘোষ দম্পতির ছেলের পাশে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এটা আমার কর্তব্য। ছেলেটার বাবা মা চলে গিয়েছে। আমি বাড়ির লোককে বলেছি, আমার কাছে থাকতে চাইলে ও থাকতে পারে। আমি অভিভাবক হতে পারি। প্রতিভাবান ছেলে।’ সপ্তমীর রাতে চোরবাগানে ঠাকুর দেখতে গিয়েছিলেন বরানগরের ঘোষ দম্পতি। ছেলে যায়নি। সেই রাতেই পদপিষ্টের ঘটনা ঘটে। তাঁদের উদ্ধার করে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।

অন্যদিকে ১৭ অক্টোবর, প্রথম সপ্তমীর সন্ধ্যায় চোরবাগান সার্বজনীন দুর্গাপুজো প্যান্ডেলে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যু হয়। আহত হন একাধিক। দিলীপ-দীপালির একমাত্র ছেলে পৃথ্বিশ ঘোষ। তিনি বি.টেক পড়াশোনা শেষ করেছেন। বাবা-মাকে একসঙ্গে হারিয়ে স্তব্ধ তিনি। নিহতদের পরিবারকে ২৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ এবং পরিবারের একজনকে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস আগেই দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। যেহেতু পৃথ্বিশ অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছেন, তাঁর দায়িত্ব নেওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

তাছাড়া নিউ ব্যারাকপুরের বাড়ি গিয়েও শোকপ্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রিয়া সমাদ্দারের পারিবারের পাশে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ক্ষমার অযোগ্য ভুল আমি বলব। আমাদের সহ-নাগরিক ১৯ জন মারা গিয়েছেন। ক্ষমা করা যাবে না। ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং হবে, অ্যাকশনও হবে। কলকাতা পুলিশের ডিডি তদন্ত করছে। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির টিম হয়েছে। আজ নোটিফিকেশনও হচ্ছে। আমরা চাইছি ফুলপ্রুফ থাকতে। ৬ মাসের মধ্যে আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপের মতো পরিবর্তন হয় না। ২ মিনিটের ভুলে চোরবাগান হয়েছে। চোরবাগানের ঘটনা ক্ষমার অযোগ্য। মানুষের ভুল তো ছিলই। তদন্তকারী দেখবে কারা দোষী। কমিটি গোটাটাই খতিয়ে দেখবে। সকলেই তো মানুষ।’