• facebook
  • twitter
  • youtube
Wednesday, 21 October, 2026

‘ন্যায়বিচার দিতে না পারলে তৃণমূল সর্বশক্তি দিয়ে প্রতিবাদ জারি রাখবে’, শুভেন্দুকে হুঁশিয়ারি কুণালের

তাছাড়া কুণালের অভিযোগ, দখলদারির রাজনীতির জেরে অনভিজ্ঞ এবং বেপরোয়া ব্যক্তিদের হাতে দুর্গাপুজো পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার

‘ন্যায়বিচার দিতে না পারলে তৃণমূল সর্বশক্তি দিয়ে প্রতিবাদ জারি রাখবে’, শুভেন্দুকে হুঁশিয়ারি কুণালের

CM Suvendu Adhikari-MLA Kunal Ghosh Photo-ANI

চোরবাগানের বিপর্যয়ে মৃতদের প্রত্যেকের বাড়ি যাবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই কথা আগেই জানানো হয়েছিল। গতকালের পর বুধবারও সেই কথা রাখতে স্বজনহারাদের পাশে পৌঁছে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী। চোরবাগানের ঘটনায় মৃত বরাহনগরের ঘোষ দম্পতির বাড়িতে যান মুখ্যমন্ত্রী। পদপিষ্ট হয়ে মারা যান প্রিয়া সমাদ্দার। মৃতার বাড়ি উত্তর ২৪ পরগনার নিউ ব্যারাকপুরে। এদিন মুখ্যমন্ত্রী সেখানেও পৌঁছন। কিন্তু বিজয়া দশমীর দিন একটি ভিডিও বার্তা দেন তৃণমূল কংগ্রেসের বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ। বুধবার সরাসরি চোরবাগানের দুর্ঘটনা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে হুঁশিয়ারি দিলেন তৃণমূল বিধায়ক। যা নিয়ে এখন সরগরম রাজ্য-রাজনীতি।

এদিকে বুধবার বাজেকদমতলা ঘাট পরিদর্শনে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। যাতে বিসর্জনের সময় কোনও অঘটনা না ঘটে তা সরেজমিনে দেখেন তিনি। তারপর সেখান থেকে একের পর এক মৃতদের বাড়িতে যান তিনি। কিন্তু ভিডিও বার্তায় কুণাল ঘোষের তোপ, ‘প্রকৃত রাজধর্ম পালন না করে সরকার শুধু ফটোশুট এবং টাকা দিয়ে মুখ বন্ধ করার রাজনীতি করছে। অবিলম্বে চোরবাগান পুজো কমিটির নেপথ্যে থাকা প্রভাবশালী মাথাদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিন। আজ যেহেতু চোরবাগান কমিটিতে পুরো বিজেপির মাথারা ভর্তি, সেই কারণে আজকে আপনাকে ছুটে ছুটে গিয়ে মুখ বন্ধ করাতে হচ্ছে কিনা, এই প্রশ্ন তো সাধারণ মানুষের মধ্যে আসবে’

অন্যদিকে ১৭ অক্টোবর, প্রথম সপ্তমীর সন্ধ্যায় চোরবাগান সার্বজনীন দুর্গাপুজো প্যান্ডেলে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যু হয়। আহত একাধিক। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে কুণালের অভিযোগ, পরিবারের সদস্যদের আর্থিক সাহায্য দেওয়ার বিরোধিতায় তাঁরা নেই। তবে এসবের আড়ালে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা চলছে। ভিডিও বার্তায় কুণাল ঘোষ সুর সপ্তমে তুলে বলেন, ‘ন্যায্য বিচার যদি দিতে হয়, তাহলে আগে অ্যারেস্ট করুন কমিটি এবং পুলিশ প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের। শুধু হোমগার্ড, সিভিক ভলান্টিয়ার বা প্রাইভেট সিকিউরিটির মতো গরিব কর্মীদের বলির পাঁঠা না বানিয়ে, যাঁরা নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং যাঁরা এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি করেছেন, সেই প্রভাবশালী ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করতে হবে।’

তাছাড়া কুণালের অভিযোগ, দখলদারির রাজনীতির জেরে অনভিজ্ঞ এবং বেপরোয়া ব্যক্তিদের হাতে দুর্গাপুজো পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার জেরেই এই মৃত্যুমিছিল দেখতে হয়েছে। যার ফলে সারা বিশ্বের কাছে বাংলার দুর্গাপুজো কলঙ্কিত হয়েছে। এদিনের ভিডিও বার্তা থেকে কুণাল ঘোষের সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে হুঁশিয়ারি, ‘এখন তো আপনাদের ন্যায়বিচারের পদ্ধতি আলাদা। আরজি কর হাসপাতালের নির্যাতিতার বিচার চাইতে গিয়ে দেখা গেল তাঁর মা এমএলএ হলেন। ন্যায়বিচার হয়ে গেল। চন্দ্রনাথ রথকে কেন কীভাবে খুন? বিচারের নামে তাঁর মা এমএলএ হয়ে গেলেন। তাই নামমাত্র ক্ষতিপূরণ ও ফটোশুটের রাজনীতি না করে সরকার যদি প্রকৃত ন্যায়বিচার দিতে না পারে তাহলে তৃণমূল সর্বশক্তি দিয়ে এটার প্রতিবাদ জারি রাখবে।’