পেশায় তিনি চিকিৎসক। একজন যুবতীর সঙ্গে ওই চিকিৎসকের বিয়ে ঠিক হয়। সব ঠিকঠাকই চলছিল। বিয়ে ঠিক হওয়ার পরও প্রেমিকার সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলতেন ওই চিকিৎসক। এই আবহে ওই হবু স্ত্রীর চোখে ফাঁকি দিয়ে প্রেমিকার সঙ্গে ফাঁকা ফ্ল্যাটে ঘনিষ্ঠ মুহুর্ত তৈরি করেছিলেন বলে অভিযোগ। আর সেটাই দেখে ফেলেন হবু স্ত্রী। ওই অশ্লীল অবস্থায় তাঁদের দেখে তীব্র প্রতিবাদ করতে থাকেন হবু স্ত্রী। আর তখনই হবু স্ত্রীয়ের উপর নামিয়ে আনা হয় নির্মম অত্যাচার। এমনকী খুন করার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন ওই হবু স্ত্রী।
ওই হবু স্ত্রী পেশায় স্কুল শিক্ষিকা। তিনি হঠাৎই এসে পড়েন হবু স্বামীর কলকাতার ফ্ল্যাটে। ওই ফ্ল্যাটে এসে তিনি দেখেন, প্রেমিকার সঙ্গে সঙ্গমরত অবস্থায় রয়েছে হবু স্বামী! দু’জনকে এমন অশ্লীল অবস্থায় একসঙ্গে দেখে স্বাভাবিকভাবেই তুমুল প্রতিবাদ করেন ভাবী স্ত্রী। যার পরিণতি হিসাবে নেমে এল ভয়ঙ্কর ঘটনা। পেশায় শিক্ষিকা ওই যুবতীকে তখনই ধর্ষণ করা হয়। এমনকী প্রমাণ না রাখতে শ্বাসরোধ করে খুনের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। পেশায় চিকিৎসক হবু স্বামীর বিরুদ্ধে হবু স্ত্রী পঞ্চসায়র থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। ওই শিক্ষিকার অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, হবু স্ত্রী দক্ষিণ ২৪ পরগনার একটি স্কুলের শিক্ষিকা। তাঁর সঙ্গে উত্তর ২৪ পরগনার চিকিৎসক যুবকের বিয়ে ঠিক হয়। হবু স্ত্রী তথা শিক্ষিকার অভিযোগ, বিয়ে ঠিক হওয়ার পর তাঁদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। তার মধ্যেই তাঁর হবু স্বামীর সঙ্গে আর এক যুবতীর শারীরিক সম্পর্ক দেখতে পান। সেটা জানতে পেরেই তিনি পঞ্চসায়রে চিকিৎসকের ফ্ল্যাটে কিছু না জানিয়ে হাজির হন। সেখানেই হবু স্বামীকে ওই যুবতীর সঙ্গে অশ্লীল অবস্থায় দেখেন এবং প্রতিবাদ করেন। তখনই ওই ফ্ল্যাটে অভিযুক্ত চিকিৎসক যুবক তাঁর উপর অত্যাচার করে। তাঁকে ওই যুবক মারধর করে ধর্ষণ করেছে। শরীরের নানা জায়গায় আঘাত করার পর শ্বাসরোধ করে খুনের চেষ্টাও হয়। ধর্ষণ করার পর চিকিৎসক হওয়ার সুবাদে তাঁকে জোর করে ওষুধও খাইয়ে দেওয়া হয়।
এই ঘটনার পর সেখান থেকে কোনওরকমে পালিয়ে গিয়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনার হাসপাতালে ভর্তি হন। তাঁকে ধর্ষণ করা হয়েছে জানতে পেরে হাসপাতালের পক্ষ থেকে পুলিশে জানানো হয়। পুলিশ তাঁর বয়ান নেয়। হাসপাতাল থেকে খানিকটা সুস্থ হয়ে বেরিয়েই তিনি পঞ্চসায়র থানায় ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। তারই ভিত্তিতে পুলিশ ধর্ষণ, গুরুতর আঘাত, মারধর, প্রতারণার ধারায় মামলা শুরু করেছে ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে।




