ডিজিটাল লেনদেন বাড়িয়ে ‘ক্যাশলেস’ অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্যে দীর্ঘদিন ধরেই জোর দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। কিন্তু ইউপিআই লেনদেনে অতিরিক্ত মাশুল বসানোর সিদ্ধান্ত ঘিরে এবার উল্টো সুর। এই ফি শেষ পর্যন্ত ক্রেতাদের ঘাড়ে চাপতে পারে—এমন আশঙ্কায় বড় অংশের মানুষ ফের নগদ বা বিকল্প লেনদেনের পথে হাঁটতে পারেন বলে উঠে এসেছে এক সমীক্ষায়।
এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের দাবি, আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে ২ হাজার টাকার বেশি মূল্যের ইউপিআই লেনদেনে ব্যবসায়ীদের ০.৪ শতাংশ মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট বা এমডিআর দিতে হবে। যদিও এই মাশুল ব্যবসায়ীদের উপর ধার্য হওয়ার কথা, ক্রেতাদের একাংশের আশঙ্কা, শেষ পর্যন্ত সেই বাড়তি খরচ তাঁদের কাছ থেকেই আদায় করা হতে পারে।
দেশের ২৯১টি জেলায় ৬৭ হাজার মানুষের মতামত নিয়ে করা ওই সমীক্ষায় সেই আশঙ্কারই প্রতিফলন দেখা গিয়েছে। সমীক্ষায় অংশ নেওয়া ৭৬ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, তাঁরা নগদ, ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ড কিংবা ব্যাঙ্কের মাধ্যমে সরাসরি টাকা পাঠানোর মতো বিকল্প পদ্ধতিতে ফিরে যেতে পারেন। মাত্র ১৪ শতাংশ জানিয়েছেন, অতিরিক্ত মাশুল দিতে হলেও তাঁরা ইউপিআই ব্যবহার চালিয়ে যাবেন। বাকি ১০ শতাংশ কোনও বিকল্প লেনদেনের পদ্ধতি বেছে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
এমডিআর আসলে কী? কোনও ব্যবসায়ী অনলাইনে গ্রাহকের কাছ থেকে টাকা গ্রহণ করলে সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক বা পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাকে যে নির্দিষ্ট হারে ফি দিতে হয়, তাকেই মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট বলা হয়। ২০২০ সালের পর থেকে ইউপিআই লেনদেনে এই ধরনের মাশুল কার্যত বন্ধ ছিল। এরপরই দেশে ডিজিটাল লেনদেনের পরিমাণ দ্রুত বাড়ে।
এবার ইউপিআই লেনদেনে এমডিআর ফেরানোর উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্র। যদিও কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ জানিয়েছেন, ছোট ব্যবসায়ীদের এই অতিরিক্ত মাশুলের আওতায় আনা হবে না। তবে সিদ্ধান্তটি নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। কংগ্রেসের অভিযোগ, ব্যবসায়ীদের উপর মাশুল চাপানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও বেশি ধরনের ডিজিটাল লেনদেনের উপর ফি বসানো হতে পারে বলেও আশঙ্কা বিরোধীদের।
ফলে ডিজিটাল লেনদেনকে আরও সহজ ও জনপ্রিয় করার বদলে নতুন মাশুলের সিদ্ধান্তে গ্রাহকদের একাংশ যদি ফের নগদ বা প্রচলিত লেনদেনের পথে ফেরেন, তা হলে ‘ক্যাশলেস’ অর্থনীতির লক্ষ্যই প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।




