এবার মৎস্যজীবীদের জন্য সুখবর শোনালেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কেন্দ্রীয় প্রকল্প রাজ্যে চালু করে মৎস্যজীবীদের আর্থিক সুরাহার কথা জানান তিনি। একইসঙ্গে ডবল ইঞ্জিন সরকারের সুবিধাও বাতলে দেন সকলের সামনে। সোমবার নিউটাউনের প্রাণিসম্পদ বিকাশ দপ্তরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজীবরঞ্জন সিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রায় দেড় ঘণ্টা বৈঠক শেষে সাংবাদিক বৈঠকে মৎস্যজীবীদের জন্য সুখবর শোনালেন মুখ্যমন্ত্রী নিজেই। এই খবর চাউর হতেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে মৎস্যজীবীদের মধ্যে।
এবার রাজ্যে কেন্দ্রীয় প্রকল্প চালু হয়ে গেল। মৎস্যশিল্প বিকাশের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্পের ৯ কোটি টাকা পেল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। মুখ্যমন্ত্রী নিজেই ঘোষণা করলেন, সোমবার থেকে ‘প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনা’ প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত হল রাজ্য সরকার। এতদিন তৃণমূল সরকারের আমলে সেই সুযোগ থাকলেও রাজনৈতিক বিরোধিতার কারণে পশ্চিমবঙ্গের মৎস্যজীবীরা সেটা পাননি। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সুর মেলান কেন্দ্রীয় মন্ত্রীও। মুখ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, ‘রাজ্যের মৎস্যশিল্পে প্রচুর সম্ভাবনা আছে। আমরা সেটা নিয়ে বারবার আলোচনা করেছি। কিন্তু এদিন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজীবরঞ্জন সিংকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাব। তিনি আমাদের সব কথা শুনে পশ্চিমবঙ্গের মৎস্য শিল্পে বিকাশের জন্য ৯ কোটি টাকা আমাদের হাতে তুলে দিয়েছেন।’
এই প্রকল্পের মাধ্যমে মৎস্যজীবীরা সরাসরি ঋণ নিতে পারবেন। তার জন্য অন্য কারও কাছে যেতে হবে না। এই প্রকল্প যে গত সরকারের জন্য রাজ্যে চালু হয়নি সে কথাও জানিয়ে দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। মৎস্যজীবীদের আর্থিক চিন্তা এই প্রকল্পের জেরে যে কমে যাবে সেটাও বুঝিয়ে দিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, ‘আজ থেকে প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনার আওতায় আনা হল আমাদের রাজ্যকে। এতে মৎস্যজীবীরা অন্যান্য সুবিধার পাশাপাশি প্রয়োজনমতো ঋণও পাবেন। আগেই কাজটা করা যেত। কিন্তু গত সরকার শুধুমাত্র রাজনৈতিক বিরোধিতার জন্য সেটা করেনি। আমাদের সরকারের ৪ মাসে যতটা পেরেছি কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির সুবিধা দিয়েছি রাজ্যবাসীকে।’
তাছাড়া মৎস্যজীবীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল, ঋণ এবং নিরাপত্তা নিয়ে। সেগুলি যে আর থাকবে না সেটা জানিয়ে দিয়েছেন দু’জনেই। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কথায়, ‘এই রাজ্যের উপকূল এলাকা সুন্দরবন-সহ জলজীবনকে আরও উন্নত করবে। আমরা বিস্তারিত আলোচনা করেছি। দক্ষিণবঙ্গে সমুদ্র, নদী রয়েছে। সেখানকার মৎস্যজীবীদের সমস্যা কম। কিন্তু শুষ্ক বাঁকুড়া, পুরুলিয়ায় মাছচাষে সমস্যা হয়। এই জেলাগুলিতে মোট ৬টি অমৃত সরোবরে অনুমোদন দিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।’ এদিন মন্ত্রী রাজীবরঞ্জন সিংও নতুন রাজ্য সরকারের প্রশংসা করে বলেছেন, ‘গত বছরগুলিতে আমরা এখানে সুবিধা দিতে চেয়েও পারিনি। কারণ, রাজ্য সরকারের আধিকারিকরা সাহায্য করেননি। যে কাজ ৫ বছর ধরে আটকে ছিল সেটাই চারমাসে হয়ে গেল।’




