রাজ্যজুড়ে ছড়িয়ে থাকা প্রাচীন মঠ এবং মন্দিরগুলির সংস্কার-সহ নতুন করে সাজিয়ে তোলার লক্ষ্যে বড় পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কালীপুজোর আবহেই রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এই বিশেষ উদ্যোগ হিসেবে চালু হতে চলেছে ‘তীর্থক্ষেত্র সার্কিট’। তার জন্য সরকারি তহবিল থেকে মোট ১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করার কথা নিশ্চিত করলেন মুখ্যমন্ত্রী। শুক্রবার নদিয়ার আরংঘাটার শতদল ক্লাবের কালীপুজো উদ্বোধন করে এই নতুন প্রকল্পের কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। কোচবিহারের মদনমোহন জিউ কালী বাড়ি থেকে কালীঘাট, তারকেশ্বর, দক্ষিণেশ্বর হয়ে তীর্থক্ষেত্র সার্কিট তৈরি করা হচ্ছে। যার জন্য আগামী দু’বছর ১০০০ কোটি টাকা ব্যয় করবে।
এদিন আরংঘাটার শতদল ক্লাবের কালীপুজো উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। উদ্বোধনের পর বক্তব্য রাখতে গিয়ে জগদ্ধাত্রী পুজো, রাস পূর্ণিমা নিয়ে রাজ্য সরকারের পরিকল্পনার কথা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা জগদ্ধাত্রী পুজোয় চন্দননগর এবং কৃষ্ণনগরকে বিশেষভাবে সাজিয়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছি। রাস পূর্ণিমাতেও নবদ্বীপ, শান্তিপুর, কোচবিহারকে বিশেষভাবে সাজিয়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছি। আমরা এবারের গঙ্গাসাগর মেলাকে আন্তর্জাতিক মেলা হিসেবে ঘোষণা করেছি। ইতিমধ্যেই তার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। জগদ্ধাত্রী পুজোয় চন্দননগরেও যাব, কৃষ্ণনগরেও আসব। রাস পূর্ণিমাতে নবদ্বীপে আসব এবং রাস পূর্ণিমা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করব। সেদিন প্রভু চৈতন্যদেবের ধামে ধর্মীয় কাজে অংশ নেব।’
রাজ্যে পালাবদলের পর পুজো উদ্যোক্তাদের কাছে এই বছরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। এই অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগামী দুই বছর ধরে এই হাজার কোটি টাকা খরচ করা হবে। ব্যক্তিগত মালিকানাধীন জায়গা বাদ দিয়ে দেবোত্তর সম্পত্তি, ট্রাস্ট কিংবা সার্বজনীন যেসব প্রাচীন মঠ ও মন্দির আছে সেগুলিকে এই প্রকল্পের আওতায় এনে সংস্কার করা হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যে ভাবনায় কেদারনাথ, বদ্রীনাথ, অযোধ্যা, কাশী-বারাণসী কিংবা উজ্জয়িনীর মহাকাল মন্দির সংস্কারের বড় উদ্যোগ নিয়েছেন সেই একই ধারায় পশ্চিমবঙ্গেও প্রাচীন দেবস্থানগুলিকে পুনরুজ্জীবিত করা হবে।
তাছাড়া কালীপুজো উদ্বোধনের পর বক্তব্য রাখতে গিয়ে হাঁসখালির প্রসঙ্গ টেনে রাজ্যের নারী সুরক্ষা নিয়ে কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। গত সরকারের আমলের আইনশৃঙ্খলা এবং নিরাপত্তার পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি দুর্গাপুজোর বিসর্জনে অতীতে জারি করা নানা বিধিনিষেধের কড়া সমালোচনা করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, ‘আগে দুর্গাপুজোর বিসর্জনে বাধা দেওয়া হতো। বিসর্জনের শোভাযাত্রায় কাঁসর-ঘণ্টা বাজাতেও বাধা দেওয়া হতো। আগে যেখানে রাজ্যে প্রায় ১৩ হাজার দুর্গাপুজো হতো সেখানে তা বেড়ে এখন ৫৮ হাজারে পৌঁছেছে। এই বছর কোথাও পুজো করতে বাধা দেওয়া হয়নি।’




