• facebook
  • twitter
  • youtube
Friday, 6 November, 2026

অগ্নিবীরদের মেয়াদ বৃদ্ধি

ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীতে অগ্নিপথ প্রকল্প চালুর সময় থেকেই নানা বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে চার বছরের চাকরি শেষে ৭৫ শতাংশ অগ্নিবীরকে

অগ্নিবীরদের মেয়াদ বৃদ্ধি

Centre offers two-year extension to 75% of Agniveers, opens pathway to regular forces (Image: X/@chirag078office)

ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীতে অগ্নিপথ প্রকল্প চালুর সময় থেকেই নানা বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে চার বছরের চাকরি শেষে ৭৫ শতাংশ অগ্নিবীরকে সেনাবাহিনী থেকে বিদায় নিতে হবে— এই শর্ত নিয়ে উদ্বেগ ছিল সবচেয়ে বেশি। কারণ, মাত্র চার বছর চাকরি করার পর একজন তরুণকে আবার নতুন করে কর্মসংস্থানের সন্ধানে নামতে হবে। তাঁর ভবিষ্যৎ কী হবে, সেই প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর ছিল না। এবার সেই অনিশ্চয়তা কিছুটা দূর করার পথে এগোল কেন্দ্রীয় সরকার। প্রথম ব্যাচের অগ্নিবীরদের চার বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে সরকার অতিরিক্ত দু’বছর চাকরির সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে স্বস্তিদায়ক। তবে এর সঙ্গে কিছু নতুন প্রশ্নও সামনে এসেছে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চার বছর শেষে যে ২৫ শতাংশ অগ্নিবীর নিয়মিত সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার সুযোগ পাবেন, সেই ব্যবস্থা আগের মতোই থাকবে। বাকি ৭৫ শতাংশ অগ্নিবীর আরও দু’বছর চাকরি করতে পারবেন। এই অতিরিক্ত সময় শেষে যাঁরা সেনাবাহিনীতে থাকতে চাইবেন এবং নির্ধারিত যোগ্যতার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবেন, তাঁদের নিয়মিত সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, দ্বিতীয় পর্যায়ে নিয়মিত নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনও নির্দিষ্ট শতাংশের সীমা রাখা হয়নি। অর্থাৎ, যোগ্যতার ভিত্তিতে যতজন নির্বাচিত হবেন, তাঁদের নিয়োগের সম্ভাবনা থাকবে।
সেনাবাহিনীর প্রধান সামরিক উপদেষ্টা তথা চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল এন এস রাজা সুব্রমানি জানিয়েছেন, গত কয়েক বছরে অগ্নিবীরদের কাজের দক্ষতা, শারীরিক সক্ষমতা, শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ এবং সামগ্রিক কর্মক্ষমতা পর্যালোচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিন বাহিনীর কাছে অগ্নিবীরদের কাজের মূল্যায়নের জন্য কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডার রয়েছে। নিয়মিত মূল্যায়নের মাধ্যমে তাঁদের যোগ্যতা বিচার করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর প্রয়োজন এবং সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলির মতামতের ভিত্তিতেই অতিরিক্ত দু’বছরের প্রস্তাব এসেছে।
এই সিদ্ধান্তের ইতিবাচক দিক অবশ্যই রয়েছে। প্রথমত, অগ্নিবীরদের চাকরির মেয়াদ বাড়ায় তাঁদের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা আরও বাড়বে। দ্বিতীয়ত, নিয়মিত সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার সুযোগও আগের তুলনায় বিস্তৃত হবে। তৃতীয়ত, চার বছর পর হঠাৎ কর্মজীবনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়ার আশঙ্কা কিছুটা কমবে। দেশের নিরাপত্তার কাজে যাঁরা নিজেদের যৌবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় ব্যয় করছেন, তাঁদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব পাওয়া উচিত।
কিন্তু এই সিদ্ধান্তের অন্য একটি দিকও রয়েছে। যাঁরা শেষ পর্যন্ত নিয়মিত বাহিনীতে সুযোগ পাবেন না, তাঁদের কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা কীভাবে তৈরি হবে, তা পরিষ্কার করা দরকার। অগ্নিপথ প্রকল্পের মূল কাঠামো অপরিবর্তিত রেখেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। কিন্তু শুধু চাকরির মেয়াদ বাড়ালেই অগ্নিবীরদের ভবিষ্যৎ সম্পূর্ণ সুরক্ষিত হবে না। তাঁদের প্রশিক্ষণ, দক্ষতার স্বীকৃতি, অবসর-পরবর্তী কর্মসংস্থান
এবং সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়েও সরকারকে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা নিতে হবে।
দেশের নিরাপত্তা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই গুরুত্বপূর্ণ দেশের তরুণদের ভবিষ্যৎ। অগ্নিবীরদের অতিরিক্ত দু’বছর চাকরির সুযোগ তাই একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। তবে এই সিদ্ধান্ত যেন কেবল সাময়িক স্বস্তি না হয়ে ওঠে। সেনাবাহিনীর প্রয়োজন এবং তরুণদের কর্মজীবনের নিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই হওয়া উচিত সরকারের
প্রধান লক্ষ্য।