রাজ্যে নতুন সরকারের মেয়াদ ৬ মাস পূর্ণ হতে চলেছে। তার আগেই বৃহস্পতিবার নতুন শিল্পনীতি ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন শিল্পপতিদের ভরসা জোগানোর সঙ্গে সঙ্গে রাজ্য সরকারের ভবিষ্যৎ জমিনীতি এবং সিঙ্গুরের শিল্প নিয়ে পরিকাঠামো পুনরুজ্জীবিত করা নিয়ে বড় ইঙ্গিত দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। ২০১১ সালের পরিবর্তনের টার্নিং পয়েন্ট ছিল হুগলির সিঙ্গুর! দীর্ঘ ১৫ বছরে টাটাদের থেকে জমি ফেরত পেয়ে সেখানে সর্ষে চাষ হয়েছিল। শিল্প হয়নি সেখানে। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর জমিনীতি প্রকাশ্যে আনতেই নতুন করে স্বপ্ন দেখছে হুগলির সিঙ্গুর।
এদিন রাজ্যের নয়া শিল্পনীতি ঘোষণার সময় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, সিঙ্গুরে সাড়ে ৬০০ কোটির বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা চলছে। অশোক লেল্যান্ডের সঙ্গে কথাও হচ্ছে। তাহলে কি সিঙ্গুরে হবে গাড়ি শিল্পই? এখনই স্পষ্ট উত্তর মেলেনি। তবে আশায় বুক বাঁধছে সিঙ্গুর। শিল্পপতিদের আশ্বস্ত করে লক্ষ্মীবারে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সিঙ্গুর নিয়ে অবশ্যই আমরা কোনও ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করব। অশোক লেল্যান্ডের সঙ্গে আমার প্রাথমিক স্তরের কথা হয়েছে। তবে আমরা আগের সরকারের মতো দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে শুধু মৌ স্বাক্ষর করেই দায় সারব না। তাই এখনই বিস্তারিত কিছু বলছি না।’
গত ১৫ বছরে শিল্পপতিরা পশ্চিমবঙ্গে আসেননি বলেই কর্মসংস্থানও হয়নি এমনই দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাই এই রাজ্য ছেড়েছেন শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতী। ক্ষমতায় এসে বিজেপি সরকারে মূল লক্ষ্য রাজ্যে শিল্প নিয়ে আসা। সে কথা বারবার তাঁরা বলেছেন। ইতিমধ্যেই কয়েকটি জায়গায় লগ্নি এসেছে। কিন্তু সিঙ্গুরে কী হবে? এই প্রশ্নও উঠেছে বারবার। বৃহস্পতিবার শিল্পনীতি ঘোষণার সময় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়ে দিলেন, ‘সিঙ্গুরের কথা মাথায় আছে। ভুলিনি। সিঙ্গুর নিয়ে অবশ্যই কিছু একটা করব। অশোক লেল্যান্ডের সঙ্গে কথা হচ্ছে। আমরা একদিকে যেমন বাম আমলের মতো জমির জন্য কৃষকদের উপর গুলি চালাতে পারব না, অপরদিকে গত তৃণমূল সরকারের মতো শিল্পপতিদেরও বলতে পারব না যে আপনারা নিজেদের জমি নিজেরাই জোগাড় করে নিন। জমি অধিগ্রহণ ও পরিকাঠামো তৈরিতে রাজ্য সরকার পুরোপুরি শিল্পপতিদের পাশে থাকবে।’
তাছাড়া রাজ্যের শিল্প করতে অনুকূল পরিবেশ তৈরি এবং পর্যাপ্ত জমি নিশ্চিত করতে একগুচ্ছ নতুন কৌশলের কথা তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, অতীতে নানা সরকারের আমলে শিল্পপতিদের দেওয়া যে সমস্ত জমিতে এখনও কোনও কারখানা বা শিল্প গড়ে ওঠেনি, সেই সমস্ত অব্যবহৃত জমি আইন অনুযায়ী রাজ্য সরকার ফিরিয়ে নিচ্ছে। সুতরাং শিল্পের চাহিদামতো পর্যাপ্ত জমি সরকারের হাতে রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কথায়, ‘রাজ্য সরকার নিজস্ব তহবিল তৈরি করে সরাসরি জমি কিনে একটি বিশাল ‘ল্যান্ড ব্যাঙ্ক’ গড়ে তুলছে। যেখান থেকে সরাসরি শিল্পপতিদের হাতে জমি তুলে দেওয়া হবে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে রাজ্যে প্রায় এক লক্ষ কোটি টাকা সরাসরি বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বিজিবিএস-এর নামে সরকারি কোষাগার থেকে প্রায় ৬৫০ কোটি টাকা অপব্যয় করা হয়েছিল এবং ১৬ লক্ষ কোটি টাকার কাল্পনিক চুক্তি দেখানো হয়েছিল। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর শিল্প দপ্তরের সচিবের কাছে প্রকৃত কাজের খতিয়ান তলব করি। সচিবের দেওয়া তালিকা পর্যালোচনা করে দেখেছি, কেন্দ্রীয় সরকারের নানা উদ্যোগ ও বিনিয়োগকে বিজিবিএস-এর ঝুলিতে ফেলা হয়েছিল।’




