• facebook
  • twitter
  • youtube
Thursday, 17 September, 2026

‘দ্য স্টেটসম্যান রুরাল রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ডস ২০২৫‘-এর দ্বিতীয় পুরস্কার পেয়েছেন জ্যোতি যাদব

মাতৃত্বকালীন ছুটি কাটিয়ে কাজে ফিরে জ্যোতি যাদব ঠিক করেছিলেন, তিনি আবারও প্রমাণ করবেন যে কঠিন ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করার ক্ষমতা তাঁর এখনও রয়েছে

‘দ্য স্টেটসম্যান রুরাল রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ডস ২০২৫‘-এর দ্বিতীয় পুরস্কার পেয়েছেন জ্যোতি যাদব

Image: SNS

 ছয় মাসের শিশুকন্যাকে সঙ্গে নিয়ে জ্যোতি যাদব বিহারের বালি ও বেআইনি মদের কারবারের এলাকায় গিয়েছিলেন। তাঁর অনুসন্ধানের লক্ষ্য ছিল—কীভাবে গ্রামের এই দুই বেআইনি অর্থনীতি বেকারত্ব, জাতপাত এবং রাজনীতির সঙ্গে একে অপরের গভীরভাবে জড়িয়ে পড়েছে, তা তুলে ধরা মাতৃত্বকালীন ছুটি কাটিয়ে কাজে ফিরে জ্যোতি যাদব (Jyoti Yadav) ঠিক করেছিলেন, তিনি আবারও প্রমাণ করবেন যে কঠিন ও অনুসন্ধানীপ্রতিবেদন করার ক্ষমতা তাঁর এখনও রয়েছে।

এই কাজটি আরও অসাধারণ হয়ে উঠেছিল একটি কারণে—তিনি একা ভ্রমণ করছিলেন না। তাঁর সঙ্গে ছিল ছয় মাসের মেয়ে ইমারা। এত ছোট বয়সে মেয়েটিকে মায়ের কাছ থেকে আলাদা করা সম্ভব ছিল না। জ্যোতি ইমারাকে সঙ্গে নিয়ে বিহারের ঔরঙ্গাবাদ অঞ্চলে গিয়েছিলেন। সেখানে রাতের অন্ধকারের আড়ালে বেআইনিভাবে বালি তোলা এবং চোলাই মদ তৈরি চলত। তিনি সেখানে দু’দিন ছিলেন এবং এমন কিছু এলাকায় ঢুকেছিলেন, যেখানে তাঁর কথায়, সাংবাদিকতা করা সব সময় নিরাপদ ছিল না।দ্য স্টেটসম্যান-কে জ্যোতি যাদব (Jyoti Yadav) বলেন, “আমার কাছে এটি ছিল বেশ ভয় পাওয়ার মতো একটি কাজ। তার থেকেও বেশি, কারণ আমার সঙ্গে ছয় মাসের মেয়েটিও ছিল।”

এই অনুসন্ধানের শুরু হয়েছিল একটি পরিচিত বিষয়কে কেন্দ্র করে। পাটনায় বসবাসকারী জ্যোতি (Jyoti Yadav) প্রথমে বেআইনি মদের কারবার নিয়ে প্রতিবেদন করার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু তিনি মনে করেছিলেন, এই বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই অনেক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। তাই তিনি বিহারের বালি মাফিয়াকে নিয়ে অনুসন্ধান করার সিদ্ধান্ত নেন। অনুসন্ধান করতে গিয়ে তিনি দেখতে পান, এই দুই বেআইনি ব্যবসার মধ্যে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।

আরও পড়ুন: ‘দ্য স্টেটসম্যান রুরাল রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ডস’ ২০২৫-এ প্রথম পুরস্কার পেলেন দীপ্তি রাউত, ‘কুশরো ইরানি পুরস্কার’ পেলেন রেজি জোসেফ

এই সম্পর্কই শেষ পর্যন্ত দ্য প্রিন্ট-এর জন্য তাঁর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের মূল বিষয় হয়ে ওঠে। ঔরঙ্গাবাদ জেলার দাউদনগর ব্লকের ভগবান বিঘা গ্রামকে দিনের বেলায় প্রায় জনশূন্য মনে হয়। যুবকেরা খাটিয়ায় বসে বা শুয়ে সময় কাটান, আর মহিলারা নিজেদের ঘরের কাজকর্ম করেন। কিন্তু বাড়ির বাইরে দাঁড় করিয়ে রাখা ট্রাক্টরগুলি অন্য একটি গল্পের ইঙ্গিত দেয়।সূর্য ডোবার পর গ্রামের চেহারা বদলে যায়।

যুবকেরা কাছের সোন নদীর দিকে রওনা হন। সেখানে শ্রমিকেরা নদীর তলদেশ থেকে বালি তুলে ট্রাক্টরে বোঝাই করেন। মধ্যরাতের মধ্যে চারদিকের অন্ধকারে ট্রাক্টরের ইঞ্জিনের শব্দ ছড়িয়ে পড়ে। কাছেই, ঝোপঝাড়ের আড়ালে, হাঁড়িতে বেআইনি চোলাই মদ তৈরি হতে থাকে। জ্যোতি যাদবের (Jyoti Yadav) অনুসন্ধানে উঠে আসে, এই দুই বেআইনি ব্যবসা আসলে পাশাপাশি চলা দুটি গ্রামীণ অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে। গ্রামের বহু যুবকের কাছে এগুলি আয়ের উৎস, বিশেষ করে যাঁদের সামনে প্রচলিত কর্মসংস্থানের সুযোগ খুবই কম। তাঁর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই বেআইনি ব্যবসা থেকে আসা অর্থ আরও বড় স্থানীয় ক্ষমতার নেটওয়ার্কের মধ্য দিয়ে ঘুরে বেড়ায় এবং নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক নেতাদের অর্থ জোগাতেও তা ব্যবহার করা হয়।

এই ধরনের বিষয় নিয়ে সাংবাদিকতা করাও ছিল যথেষ্ট কঠিন। বিভিন্ন জায়গায় লোকজনকে পাহারায় রাখা হত। এমনকি মন্দিরের কাছেও লোক থাকত, যাতে বাইরের কেউ এলেই তারা নজর রাখতে পারে। জ্যোতি (Jyoti Yadav) জানান, গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলা তুলনামূলকভাবে সহজ ছিল। কিন্তু যেখানে বালি তোলা বা বেআইনি মদ তৈরি হত, সেই এলাকায় ঢোকা ছিল যথেষ্ট ভয় পাওয়ার মতো। রাজনীতিকেরাও এই বিষয়ে কথা বলতে চাইছিলেন না। অনেকেই সরাসরি কথা বলতে অস্বীকার করেন। তবুও জ্যোতি তাঁর অনুসন্ধান চালিয়ে যান।

তিনি বলেন, “মাতৃত্বকালীন ছুটি থেকে ফিরে আমি নিজেকেই প্রমাণ করতে চেয়েছিলাম যে, আমি এখনও একটি অনুসন্ধানী এবং কঠিন প্রতিবেদন করতে পারি।” তাঁর প্রতিবেদনে আরও উঠে আসে, জাতপাতের বিষয়টিও এই বেআইনি অর্থনীতিকে প্রভাবিত করে। বালি তোলার কাজে যাদবদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে। অন্যদিকে বেআইনি মদ তৈরির সঙ্গে যুক্তদের মধ্যে পাশওয়ান, মুশহর এবং মাল্লা সম্প্রদায়ের মানুষও রয়েছেন।জ্যোতি দেখতে পান, এই ‘মাফিয়া’ ব্যবস্থা এখন আর শুধু কয়েকজন চটকদার, ক্ষমতাবান মাফিয়া-নেতাকে নিয়ে গঠিত নয়।

এটি গ্রামের জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে মিশে গেছে। শ্রমিক, ট্রাক্টরের মালিক, ব্যবস্থাপক, ব্যবসায়ী এবং রাজনৈতিক যোগাযোগ—এই সমস্ত স্তরের মানুষের অংশগ্রহণ ও সম্পর্কের উপর দাঁড়িয়ে রয়েছে এই ব্যবস্থা। গ্রামের এই বাস্তবতা নিয়ে এমন গভীর ও সাহসী অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জন্য দ্য স্টেটসম্যান অ্যাওয়ার্ডস (The Statesman) ফর রুরাল রিপোর্টিং ২০২৫-এর দ্বিতীয় পুরস্কার পেয়েছেন জ্যোতি যাদব (Jyoti Yadav) ।