মাওবাদী শীর্ষ নেতা অসীম মণ্ডল ওরফে আকাশকে গ্রেপ্তার করেছে কলকাতার টাস্ক ফোর্স। জঙ্গলমহলে যার নামে বাঘে-হরিণে এক ঘাটে জল খেত এবার তাকেই ধরে ফেলল পুলিশ। এই জঙ্গলমহল তার হাতের তালুর মতো পরিচিত। কিন্তু এভাবে ধরা পড়ে যেতে হবে ভাবতে পারেনি মাওবাদী অসীম। এই মাওবাদী নেতাকে ধরতে মাথার দাম রাখা হয়েছিল ১ কোটি টাকা। সুতরাং এই মাওবাদী যে পুলিশের মাথাব্যথার কারণ ছিল সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। শুধু পশ্চিমবঙ্গেই নয়, এই মাওবাদী নেতার দাপট ছিল ঝাড়খণ্ড এবং ওড়িশা রাজ্যেও।
চার দশক ধরে এই মাওবাদী নেতার দাপটে পশ্চিমবঙ্গ-ঝাড়খণ্ড-ওড়িশা পুলিশের ঘুম উড়ে গিয়েছিল। অবশেষে পরিচিত ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করতে গিয়ে কলকাতা টাস্ক ফোর্সের জালে ধরা পড়ে গেল সিপিআই (মাওবাদী)-র সক্রিয় সদস্য অসীম মণ্ডল ওরফে আকাশ। তিমির এবং মনোজ নামেও মাওবাদীদের কাছে গণ্য হতো সে। এই মাওবাদীর মাথার দাম ছিল ১ কোটি টাকা। এই মাওবাদীর গ্রেপ্তার নিঃসন্দেহে বড় সাফল্য পুলিশের। পুলিশ সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার ভোরে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পটাশপুর এলাকা থেকে অসীমকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে দুটি ব্যাগ উদ্ধার হয়েছে। যার মধ্যে মাওবাদী পুস্তক, বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম মিলেছে। যদিও রাজ্য পুলিশের পক্ষ থেকে কিছু জানানো হয়নি।
পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোণা থানার ফুলচকের বাসিন্দা অসীম। ছাত্র জীবন থেকেই অতি বামপন্থী কার্যকলাপে যুক্ত হয়ে পড়ে সে। মাওবাদী হিসাবে সারেঙ্গা, গোয়ালতোড় থেকে শুরু করে ঝাড়খণ্ডের পূর্ব সিংভূম জেলার গুড়াবান্দা এলাকায় দীর্ঘদিন সংগঠনের কাজ করে মাওবাদী নেতা হয়ে ওঠে। ২০০৪ সালের ২১ সেপ্টেম্বর সিপিআই (মাওবাদী)-র হয়ে জঙ্গলমহলে কাজ শুরু করে অসীম। লালগড় আন্দোলনে বড় ভূমিকা ছিল অসীম ওরফে আকাশের। ২০১০ সালে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির সম্পাদকের দায়িত্ব পায় অসীম। এমনকী বাংলা-ঝাড়খণ্ড-ওড়িশা রিজিওনাল কমিটির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ছিল অসীমের কাঁধে। তবে কিষেণজির মৃত্যুর পর তার দাপট কমতে শুরু করে।
তাছাড়া পরিস্থিতি বেগতিক দেখে জঙ্গলমহল থেকে ঝাড়খণ্ডে গিয়ে থাকতে শুরু করে অসীম। ১৫ বছর পর গত ৪ আগস্ট ঝাড়খণ্ড পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। এরা অসীমের ডানহাত ছিল। অসীম মণ্ডলের বয়স ৬৪। তাই আর লড়াই, সংগ্রাম করতে পারছিল না। তার মধ্যে শচীন, মিতা, জবা রাজ্য পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করে ফেলে। পরিস্থিতি দিন দিন তার কাছে প্রতিকূল হয়ে উঠছিল। অসীমের পরিকল্পনা ছিল আবার জঙ্গলমহলে ফিরে আসার। ধরা পড়ার আগে অসীম ওরফে আকাশের কাছে নগদ দেড় লাখ টাকা ছিল। ওই অবস্থায় ছদ্মবেশে ঘুরে বেড়াচ্ছিল আকাশ। কিন্তু ধরা পড়তেই হল। পুলিশের সূত্রে খবর, আকাশের স্ত্রী পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পটাশপুর এলাকার বাসিন্দা। সিপিআই (মাওবাদী)-র সক্রিয় কর্মী ছিল। ২০১০ সালে কলকাতা পুলিশের টাস্ক পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়। এখন জেলেই আছে সে।




