ইউরোপীয় ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে ফের শুরু হতে চলেছে লড়াই। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নতুন মরসুমের প্রথম ম্যাচেই মুখোমুখি হবে রিয়াল মাদ্রিদ এবং ইন্টার মিলান। আজ, মঙ্গলবার রাতে মাদ্রিদের সান্তিয়াগো বের্নাবেউয়ে নামবে দুই হেভিওয়েট দল। ভারতীয় সময় অনুযায়ী ম্যাচটি শুরু বুধবার রাত সাড়ে ১২টায়।
রিয়ালের ডাগআউটে এ বার পরিচিত মুখ। দ্বিতীয় বার ক্লাবটির দায়িত্বে ফিরেছেন হোসে মোরিনিয়ো। ২০১০ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত প্রথম দফায় রিয়ালের কোচ ছিলেন তিনি। সেই সময়ে লা লিগা এবং কোপা দেল রে জিতলেও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিততে পারেননি। তাঁর বিদায়ের পর ইউরোপসেরা হওয়ার দৌড়ে আরও এগিয়েছে রিয়াল। গত ১০ বছরে আরও ছ’বার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতে তাদের মোট ট্রফির সংখ্যা হয়েছে ১৫।
এ বার তাই মোরিনিয়োর সামনে ব্যক্তিগত ইতিহাস বদলানোর সুযোগ। তৃতীয় বার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিততে পারলে তিনি পেপ গুয়ার্দিওলা, লুই এনরিকে, জিনেদিন জিদান এবং বব পেইসলির সঙ্গে একই তালিকায় ঢুকে পড়বেন। তবে অতীত নিয়ে বিশেষ ভাবতে রাজি নন পর্তুগিজ কোচ।
মোরিনিয়ো বলেছেন, “২০১৩ সালে আমি আমার কাজ শেষ করেছিলাম। আমরা যা জিতেছি, জিতেছি, যা হেরেছি, হেরেছি। আমরা সব কিছু দিয়েছিলাম। কিন্তু সেই অধ্যায় শেষ হয়ে গিয়েছে।” তাঁর কথায়, আগের রিয়াল আর এখনকার রিয়ালের মধ্যে কোনও তুলনাই চলে না।
তিনি আরও বলেন, “এর সঙ্গে অতীতের কোনও সম্পর্ক নেই। রিয়াল মাদ্রিদের ইতিহাসের দু’টি সম্পূর্ণ আলাদা সময় এটা। ২০১০ সালে রিয়াল কয়েক বছর কোয়ার্টার ফাইনালেই উঠতে পারেনি, বহু বছর সেমিফাইনালও খেলেনি। এখনকার রিয়াল মাদ্রিদ গত ১০ বছরে ছ’বার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছে। দু’টি সম্পূর্ণ আলাদা পরিস্থিতি।”
The best of the best play here.#UCL pic.twitter.com/r7JtfEoQdE
— UEFA Champions League (@ChampionsLeague) September 8, 2026
তবে ট্রফির স্বপ্ন যে নেই, তা নয়। মোরিনিয়োর কথায়, “রিয়ালের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিততে আমি অবশ্যই যথেষ্ট আগ্রহী। কিন্তু সেটা আগে না-পাওয়ার আক্ষেপ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।”
প্রথম ম্যাচেই আবার তাঁর সামনে নিজের প্রাক্তন ক্লাব ইন্টার। ২০১০-এ ইন্টারকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতিয়েছিলেন মোরিনিয়ো। তারও আগে ২০০৪-এ পোর্তোর হয়ে ইউরোপসেরা হয়েছিলেন। অর্থাৎ তাঁর কোচিং জীবনের দুই চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের সঙ্গেই জড়িয়ে রয়েছে এই দুই ক্লাব। কিন্তু বের্নাবেউয়ে আবেগের জায়গা থাকবে না বলেই জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। “আমি জিততে চাই। সুন্দর অতীতের কথা ভাবার সময় আমার নেই,” বলেছেন মোরিনিয়ো।
রিয়াল-ইন্টার ম্যাচের পাশাপাশি মঙ্গলবার আরও পাঁচটি ম্যাচ রয়েছে। পোর্তোর বিরুদ্ধে তাদের মাঠে খেলবে ম্যাঞ্চেস্টার সিটি। বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের প্রতিপক্ষ ভিয়ারিয়াল। ক্লাব ব্রুজ খেলবে অ্যাস্টন ভিলার বিরুদ্ধে। এ ই কে এথেন্সের সামনে লাস্ক এবং লিলের প্রতিপক্ষ রিয়াল বেতিস।
দু’বারের চ্যাম্পিয়ন প্যারিস সাঁ জারমঁ অবশ্য অভিযান শুরু করবে বুধবার। ঘরের মাঠে তাদের প্রতিপক্ষ স্লোভান ব্রাতিস্লাভা।
অর্থাৎ শুরুতেই রিয়াল-ইন্টার মহারণ। এক দিকে মোরিনিয়োর প্রত্যাবর্তনের নতুন অধ্যায়, অন্য দিকে পুরনো ক্লাবের বিরুদ্ধে তাঁর পরীক্ষা। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নতুন মরসুম যে শুরু থেকেই জমজমাট হতে চলেছে, তা নিয়ে সংশয় নেই।
কোথায় দেখবেন উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সব ম্যাচ
ভারতীয় ফুটবলপ্রেমীদের জন্য সুখবর, এ বারও চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সরাসরি সম্প্রচারের দায়িত্ব রয়েছে সোনি স্পোর্টস নেটওয়ার্কের হাতে। তাদের বিভিন্ন চ্যানেলে দেখা যাবে এই লিগের সব ম্যাচ। অর্থাৎ, টেলিভিশনে প্রিয় দলের ম্যাচ দেখতে হলে সোনির স্পোর্টস চ্যানেলগুলির দিকে নজর রাখতে হবে। মোবাইল, ল্যাপটপ বা স্মার্ট টিভিতে ম্যাচ দেখার জন্য প্রবেশ করতে হবে সোনি লিভ অ্যাপে।
উয়েফার সূচি অনুযায়ী, আজ, ৮ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে লিগ পর্ব। এই পর্ব চলবে ২০২৭-এর ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত।
আগামী কাল, ৯ সেপ্টেম্বর, মাঠে নামবে বার্সেলোনা, লিভারপুল, পিএসজি, আর্সেনাল-সহ একাধিক বড় দল। লিভারপুল বনাম আতলেতিকো মাদ্রিদ এবং নাপোলি বনাম আর্সেনাল ম্যাচ নিয়েও ইতিমধ্যেই ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে আগ্রহ তুঙ্গে।
১০ সেপ্টেম্বর আবার খেলবে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। তাদের প্রতিপক্ষ সাবাহ। একই দিনে রয়েছে বায়ার্ন মিউনিখ বনাম বোডো এবং ফেনেরবাখ বনাম রোমা-র মতো ম্যাচও।
এ বারও চ্যাম্পিয়ন্স লিগে রয়েছে ৩৬ দলের লিগ পর্বের ফরম্যাট। শেষ পর্যন্ত লড়াই গড়াবে নকআউট পর্বে। ২০২৭-এর ৫ জুন মাদ্রিদে হবে ফাইনাল। অর্থাৎ রাত জাগার প্রস্তুতি শুরু করে দিতে পারেন ভারতীয় ফুটবলপ্রেমীরা। রিয়াল-ইন্টার থেকে সিটি, লিভারপুল থেকে আর্সেনাল—ইউরোপের সেরাদের লড়াই দেখার জন্য টিভিতে সোনি স্পোর্টস, আর অনলাইনে সোনি লিভ-ই হবে প্রধান ভরসা।




