• facebook
  • twitter
  • youtube
Monday, 31 August, 2026

এশিয়ান গেমসে ‘অব্যবস্থা’র অভিযোগে বিসিসিআই-কে পাল্টা আয়োজকদের, ‘থাকার উপযুক্ত ব্যবস্থা হয়েছে’

আয়োজকদের দাবি, অংশগ্রহণকারীর অনুমোদিত সংখ্যা মাথায় রেখেই যাবতীয় ব্যবস্থা করা হয়েছে। ফলে থাকার ব্যবস্থা নিয়ে কোনও সমস্যা হবে না বলেই তাঁদের আশা।

এশিয়ান গেমসে ‘অব্যবস্থা’র অভিযোগে বিসিসিআই-কে পাল্টা আয়োজকদের, ‘থাকার উপযুক্ত ব্যবস্থা হয়েছে’

Photo: X

এশিয়ান গেমস শুরু হতে আর বেশি দেরি নেই। তার আগেই জাপানের আয়োজকদের অস্বস্তিতে ফেলেছিল ক্রীড়াবিদদের থাকার ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন। বিভিন্ন রিপোর্টে দাবি করা হয়েছিল, প্রায় ১৭ হাজার ক্রীড়াবিদ ও আধিকারিকের থাকার জন্য পর্যাপ্ত ঘরের ব্যবস্থা করতে সমস্যায় পড়েছেন আয়োজকেরা। সেই বিতর্কের মধ্যেই এ বার পাল্টা জবাব দিলো অলিম্পিক কাউন্সিল অফ এশিয়া (ওসিএ)। তাদের দাবি, থাকার ব্যবস্থা নিয়ে যে খবর প্রকাশিত হয়েছে, তা ঠিক নয়। বরং নির্ধারিত সব ক্রীড়াবিদ ও আধিকারিকের জন্য উপযুক্ত থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত জাপানের আইচি-নাগোয়া অঞ্চলে হবে ২০২৬ এশিয়ান গেমস। শুরুতে প্রায় ১৫ হাজার ক্রীড়াবিদ ও আধিকারিকের কথা মাথায় রেখে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। পরে তেকবল এবং প্যাডেলের মতো খেলা যোগ হওয়ায় সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজারেরও বেশি। এর মধ্যে প্রায় ১১ হাজার ক্রীড়াবিদ এবং ৬ হাজার আধিকারিক রয়েছেন।

সম্প্রতি ক্রিকেটারদের জন্য জাপানে থাকা ও পরিকাঠামো নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) এবং এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল (এসিসি)। এমনও খবর ছড়িয়েছিল, পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে বিসিসিআইয়ের এক জন পর্যবেক্ষক জাপানে যেতে পারেন। সুবিধা সন্তোষজনক না হলে দ্বিতীয় সারির দল পাঠানোর কথাও ভাবা হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছিল। যদিও বিসিসিআইয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, সমস্যা নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছে তা ঠিক হলেও এশিয়ান গেমসে ভারত ‘বি’ দল পাঠাবে না।

এর মধ্যেই আয়োজকদের তরফে স্পষ্ট বার্তা এসেছে। ওসিএ এবং আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমসের আয়োজক কমিটি (এআইএনএজিওসি) যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, জুলাইয়ে নাম নথিভুক্তির সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে যাঁরা গেমসে অংশ নেওয়ার জন্য নথিভুক্ত হয়েছেন, তাঁদের প্রত্যেকের জন্য উপযুক্ত থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘এশিয়ান গেমসের সরকারি অংশগ্রহণকারীদের থাকার ব্যবস্থা নিয়ে যে ভুল সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে ওসিএ এবং আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমসের আয়োজক কমিটি নিশ্চিত করছে যে, জুলাইয়ে নাম নথিভুক্তির সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে নথিভুক্ত হওয়া ১৭ হাজারেরও বেশি ক্রীড়াবিদ ও আধিকারিকের জন্য গেমস-উপযুক্ত থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’

এখানেই থামেনি আয়োজকরা। তাঁরা আরও জানিয়েছেন, ‘ব্যতিক্রমী কোনও পরিস্থিতি তৈরি না হলে নতুন করে আর কোনও নাম নথিভুক্ত করা হবে না। চূড়ান্ত প্রস্তুতি পরিকল্পনা অনুযায়ীই এগোচ্ছে এবং সব কিছু মসৃণ ভাবেই চলছে। আমরা এমন একটি এশিয়ান গেমসের অপেক্ষায় রয়েছি, যা গত কয়েক প্রজন্মের মধ্যে সবচেয়ে বর্ণময় হয়ে উঠবে।’

আয়োজকদের দাবি, অংশগ্রহণকারীর অনুমোদিত সংখ্যা মাথায় রেখেই যাবতীয় ব্যবস্থা করা হয়েছে। ফলে থাকার ব্যবস্থা নিয়ে কোনও সমস্যা হবে না বলেই তাঁদের আশা।

এক দিকে ক্রিকেটের পরিকাঠামো নিয়ে বিসিসিআই-এসিসির অসন্তোষ, অন্য দিকে সামগ্রিক আবাসন ব্যবস্থা নিয়ে ওঠা প্রশ্ন—এশিয়ান গেমস শুরুর আগে জাপানে প্রস্তুতি ঘিরে বিতর্ক আপাতত আয়োজকদের এই বক্তব্যে থামতে পারে।