• facebook
  • twitter
  • youtube
Saturday, 29 August, 2026

জাতীয় ক্রীড়া নীতির আওতায় আসবে না ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড? ধন্দে রাজ্য সংস্থাগুলি

বোর্ডের সহ-সভাপতি রাজীব শুক্ল পরের বছর ছ’বছরের মেয়াদ পূর্ণ করবেন। সচিব দেবজিৎ সইকিয়া দ্বিতীয় মেয়াদে রয়েছেন এবং ২০২৮-এ ছ’বছর পূর্ণ করবেন। শেষ পর্যন্ত বোর্ডকে নয়া ক্রীড়া আইনের আওতায় এলে কুলিং-অফ নিয়মের ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন হতে পারে।

জাতীয় ক্রীড়া নীতির আওতায় আসবে না ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড? ধন্দে রাজ্য সংস্থাগুলি

File Photo

কেন্দ্রীয় সরকার ও ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (BCCI) মধ্যে একটা দূরত্ব বরাবরই দেখা গিয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহের পুত্র জয় শাহ বোর্ডের প্রধান হওয়ার পর অবশ্য সেই দূরত্ব কিছুটা কমেছিল বলে মনে করেছিলেন অনেকে। কিন্তু জাতীয় ক্রীড়া নীতির প্রশ্নে ফের সেই দূরত্ব বাড়তে থাকলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

কেন্দ্রের নয়া জাতীয় ক্রীড়া প্রশাসন আইন, ২০২৫ নিয়ে বোর্ডের অবস্থান নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। শোনা যাচ্ছে বোর্ডকর্তারা নাকি এই নীতির আওতায় পড়তে রাজি নন। তারা স্বতন্ত্র নীতি অনুযায়ী দেশের ক্রিকেট চালানো পক্ষে। কিন্তু জাতীয় ক্রীড়নীতি অনুযায়ী দেশের সব খেলার প্রশাসক সংস্থা ও তাদের সমস্ত অনুমোদিত সংস্থার এই আইনের আওতায় আসা বাধ্যতামূলক।

এই নির্দেশিকা নিয়েই তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি। ওড়িশা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের (OCA) নির্বাচন সংক্রান্ত একটি মামলায় ওড়িশা হাই কোর্টে বোর্ড যে হলফনামা দিয়েছে, তাকে ঘিরেই তৈরি হয়েছে এই জটিলতা। বোর্ডের এই হলফনামা অনুমোদন করেছেন বোর্ড সচিব দেবজিৎ সইকিয়া।

এই হলফনামায় বোর্ডের বক্তব্য, ক্রিকেট এখনও এই আইনের আওতায় আসার জন্য মনোনীত হয়নি। ফলে রাজ্য ক্রিকেট সংস্থাগুলি এখন বুঝতে পারছে না— তারা কেন্দ্রের নতুন ক্রীড়া আইন মেনে চলবে, না কি বোর্ডের সংবিধানকেই প্রাধান্য দেবে।

আদালতে পেশ করা হলফনামায় বোর্ড ওড়িশা ক্রিকেট সংস্থাকে বোর্ডের বর্তমান সংবিধান মেনেই নির্বাচন করার নির্দেশ দিয়েছে। ২০১৯-এ লোধা কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী বেশ কিছু পরিবর্তন করা হয়েছিল এই সংবিধানে।

হলফনামায় বোর্ডের বক্তব্য, ‘জাতীয় ক্রীড়া নীতি, ২০২৫ কার্যকর হলেও ক্রিকেটকে এই আইনের আওতায় আনার জন্য ক্রিকেটকে ‘ডেজিগনেটেড স্পোর্টস’ হিসেবে দেখিয়ে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়নি’।

এক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল নির্বাচনের সময়সীমা এবং ‘কুলিং-অফ’ নিয়ম। জাতীয় আইনে পদাধিকারীদের জন্য নির্দিষ্ট কুলিং-অফ পিরিয়ডের কথা বলা হয়নি। পাশাপাশি স্বার্থের সংঘাত সংক্রান্ত কিছু নিয়মও শিথিল করা হয়েছে। অন্য দিকে, বোর্ডের সংবিধানে স্পষ্ট বলা আছে, কোনও পদাধিকারী পরপর দু’টি টার্মের বেশি একই পদে থাকতে পারবেন না।

ওড়িশা ক্রিকেট সংস্থার বর্তমান কর্তারা দাবি করেছেন, তাঁরা সরকারের নির্দেশ মেনেই এগোচ্ছেন। কিন্তু বোর্ডের অবস্থান সম্পূর্ণ উল্টো। বোর্ডের হলফনামায় বলা হয়েছে, ‘ওড়িশা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের ক্ষেত্রেও কোনও পদাধিকারী যাতে পরপর দু’টি মেয়াদের বেশি দায়িত্বে থাকতে না পারেন, সেই একই বিধান রয়েছে। তাই সময়মতো নির্বাচন করা অত্যন্ত জরুরি’।

প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য, বাংলার ক্রিকেট সংস্থা সিএবি (CAB)-রও বার্ষিক সাধারণ সভা হবে সেপ্টম্বরের ২৪ তারিখে। এই সভাও বোর্ড ও সিএবি-র নিজস্ব সংবিধান মেনেই হওয়ার কথা। এক্ষেত্রে জাতীয় ক্রীড়ানীতির প্রভাব থাকবে না, এমনটাই ঠিক আছে।

কিন্তু গোল বেধেছে গত ডিসেম্বরের কেন্দ্রীয় ক্রীড়া মন্ত্রকের একটি নির্দেশকে ঘিরে। বেশ কয়েকটি রাজ্য ক্রিকেট সংস্থা ধরে নিয়েছিল, নতুন নির্বাচন সংক্রান্ত প্রক্রিয়া ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত স্থগিত রাখা যেতে পারে। কিন্তু বোর্ডের সাম্প্রতিক হলফনামা সেই ধারণাকে কার্যত প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

বোর্ডের অন্দরেও তাই প্রশ্ন উঠছে—শেষ পর্যন্ত কোন নিয়ম মানা হবে? বোর্ডের এক প্রবীণ কর্তার কথায়, ‘সরকার যদি জানিয়ে থাকে যে ক্রীড়া সংস্থাগুলি ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্বাচন পিছিয়ে দিতে পারে, তা হলে প্রতিটি রাজ্য সংস্থাও ধরে নেবে যে নির্দিষ্ট কিছু পদের নির্বাচনও তখন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারে’।

এই কর্তা আরো বলেছেন, ‘এতে ক্রিকেট প্রশাসন নিয়েও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। রাজ্য সংস্থাগুলিকে জানতে হবে, তাদের জাতীয় ক্রীড়া নীতি মেনে চলতে হবে, না কি বিসিসিআইয়ের সংবিধান’।

২০২৫-এর অগাস্টে সংসদে স্পোর্টস বিল নিয়ে আলোচনার সময় অন্ধ্র ক্রিকেট সংস্থার সভাপতি তথা বিজয়ওয়াড়া সাংসদ কেসিনেনি শিবনাথ বিলকে স্বাগত জানিয়েছিলেন। তখন বলা হয়েছিল, ক্রিকেট বোর্ড আইনের মূল নীতিগুলি মেনে চলবে।

এখন বোর্ডের সাম্প্রতিক অবস্থানেই যখন প্রশ্ন উঠছে, তখন রাজ্য সংস্থাগুলিও চাইছে এই ব্যাপারে তাদের কোনো স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হোক। ওড়িশা হাই কোর্টে এই মামলার পরবর্তী শুনানি ১ সেপ্টেম্বর। সেই শুনানির দিকে এখন নজর সারা দেশের ক্রিকেট মহলের।

এ দিকে বোর্ডের বর্তমান প্রশাসনিক কাঠামোতেও বিষয়টির প্রভাব পড়তে পারে। বোর্ডের সহ-সভাপতি রাজীব শুক্ল পরের বছর ছ’বছরের মেয়াদ পূর্ণ করবেন। সচিব দেবজিৎ সইকিয়া দ্বিতীয় মেয়াদে রয়েছেন এবং ২০২৮-এ ছ’বছর পূর্ণ করবেন। শেষ পর্যন্ত বোর্ডকে নয়া ক্রীড়া আইনের আওতায় এলে কুলিং-অফ নিয়মের ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন হতে পারে। সেক্ষেত্রে, তাঁরাও মেয়াদে থেকে যেতে পারে।

বঙ্গ ক্রিকেটেও অনেক পরিবর্তন আসতে পারে। সংস্থার পদাধিকারী হিসেবে যাঁদের ন’বছরের বেশি হয়ে গিয়েছে, তাঁরাও সংস্থার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন। তাই, আপাতত মাঠে ক্রিকেট চললেও বোর্ডের অন্দরমহলে অন্য খেলা চলছে। দেশের ক্রীড়া আইন, না কি বোর্ডের সংবিধান? এর উত্তর পেতেই এখন নজর থাকবে ১ সেপ্টেম্বর ওড়িশা হাই কোর্টে।