রাখে হরি মারে কে। নেপালের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে যখন শয়ে শয়ে মানুষ মারা যাওয়ার খবর আসছে, পরিবারের পর পরিবার নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে বলে সংবাদে উঠে এসেছে। কোনও পরিবারের একজন সদস্য বেঁচে থাকলেও বাকিরা কেউ বেঁচে নেই, এখনও বিপুল পরিমাণ মানুষ নিখোঁজ। সেখানে ঈশ্বরের কৃপায় এত বড় প্রাকৃতিক বিপর্যয় থেকে প্রাণে বেঁচে গেলেন বসিরহাটের শিক্ষক দম্পতি। কপাল বোধহয় একেই বলে। যে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখে তাঁদের পড়ার কথা ছিল তার আঁচও তাঁরা পেলেন না। কারণ মাঝের ১৫ মিনিটের বিলম্ব। এটাই শিক্ষক দম্পতিকে বাঁচিয়ে দিল। যা পরে জানতে পেরে ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানাচ্ছেন তাঁরা।
মাত্র ১৫ মিনিট দেরি হয়েছিল। এই দেরি হওয়ার জেরেই জীবনের গোটা গল্পটাই বদলে গেল। ভিসা বিষয়ক কাজে দেরি হয় ১৫ মিনিট। আর তার জেরে নির্দিষ্ট গাড়িতে উঠতে পারেননি বসিরহাটের শিক্ষক দম্পতি অনুকূল পোদ্দার এবং তাঁর স্ত্রী রেবা পোদ্দার। প্রায় ১৫ মিনিট পর অন্য একটি গাড়িতে উঠতে হয় তাঁদের। সেই গাড়ি নেপালের নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছনোর আগেই খবর আসে, নেপালে প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটেছে। এই পরিস্থিতির জেরে বদলে যায় তাঁদের যাত্রাপথও। আর সেই পথের বদলই অবশেষে তাঁদের মহাপ্রলয়ে প্রাণ যাওয়া থেকে রক্ষা করেছে বলে মনে করছেন গোটা পরিবার।
এখন তাঁরা নিজেদের ভাগ্যবান মনে করলেও বিপুল মানুষের মৃত্যুর জন্য শোক প্রকাশ করছেন। এমনকী নিজেরা যে এখনও টিকে আছেন সেটাই বিশ্বাস করতে তাঁদের কেমন যেন লাগছে। বিশাল কাদাজলের স্রোত এবং তাতে তছনছ হয়ে যাওয়া নেপালের খবর তাঁরা দেখেছেন। ভোটেকোশী যাওয়ার কথা ছিল তাঁদেরও। ১৫ মিনিটের বিলম্ব হওয়ায় সে যাত্রা করা যায়নি। বসিরহাট পুরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাছারিপাড়া এলাকার বাসিন্দা প্রাক্তন স্কুলশিক্ষক অনুকূল পোদ্দার এবং তাঁর স্ত্রী রেবা বেড়াতে গিয়েছিলেন নেপালে। আর সেখানে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের খবর ছড়িয়ে পড়তেই পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা যোগাযোগ করতে পারছিলেন না। প্রিয়জনদের কোনও খবর না পেয়ে উৎকণ্ঠায় দিন কাটাতে শুরু করেন পরিবারের সদস্যরা। আত্মীয়স্বজন এবং প্রতিবেশীরা এসে খোঁজ নিতে শুরু করেন।
কিন্তু বেশ কয়েক ঘণ্টা পর ফোন এল। ফোন করেন শিক্ষক দম্পতি নিজেদের বাড়ির সদস্যদের। তখনই জানান, কেমন করে বেঁচে গেলেন তাঁরা। সাক্ষাৎ মৃত্যু অপেক্ষা করছিল। কিন্তু ঈশ্বরের কৃপায় তা স্পর্শ করতে পারেনি। ফোনে অনুকূল এবং রেবা জানান, তাঁদের উপরে থাকা বড় বিপদ কেটে গিয়েছে। আতঙ্কিত হলেও তাঁরা নিরাপদে আছেন। তাঁদের সঙ্গে থাকা অন্য সদস্যরাও নিরাপদে আছেন। ভিসা পেতে দেরি হয়ে যায়। নির্দিষ্ট গাড়িতে তাঁরা সঠিক সময়ে উঠতে পারেননি। ১৫ মিনিট পর দ্বিতীয় গাড়িতে ওঠেন তাঁরা। তখনই খবর আসে নেপালে প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটেছে। আর গাড়ির যাত্রাপথও বদল করে চালক। এখন সেখানে ৬০০ জনের বেশি মানুষ মারা গিয়েছে বলে খবর মিলেছে। তবে শিক্ষক দম্পতি শনিবার ট্রেনে উঠছেন। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে নেপালে আটকে পড়া পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দাদের বিমানে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাতেই ফিরবেন তাঁরা।




