• facebook
  • twitter
  • youtube
Tuesday, 25 August, 2026

ঘি খেলে হার্ট অ্যাটাক হয় না, চিনি ডায়াবেটিসের কারণ নয়, নিজেকে সুস্থ রাখতে অ্যালোপ্যাথি ছাড়ুন: রামদেব

বিটা ব্লকার, ইনসুলিন, প্যারাসিটামল। ওষুধ মাফিয়াদের কারবার। অ্যালোপ্যাথির প্রায় গোটা চিকিৎসা-ব্যবস্থাকেই একহাত নিলেন যোগগুরু। উজ্জ্বল বিকল্প হিসেবে হাজির করলেন পতঞ্জলির একগুচ্ছ প্রোডাক্ট।

ঘি খেলে হার্ট অ্যাটাক হয় না, চিনি ডায়াবেটিসের কারণ নয়, নিজেকে সুস্থ রাখতে অ্যালোপ্যাথি ছাড়ুন: রামদেব

বাবা রামদেব (ফাইল ছবি)

যোগগুরু রামদেবের একটি নতুন ভিডিও ফের শোরগোল ফেলে দিয়েছে। এবার তাঁর নিশানায় সরাসরি অ্যালোপ্যাথি (Allopathy) চিকিৎসা-ব্যবস্থা। ফেসবুকে পোস্ট করা ভিডিওতে তিনি অ্যালোপ্যাথিকে বলেছেন ‘ওষুধ মাফিয়া’ এবং ‘মেডিক্যাল মাফিয়া’-র চক্রান্ত। তাঁর মতে,  এই মাফিয়ারা রোগীদের সারা জীবনের জন্য ‘কাস্টমার’ বানিয়ে রাখতে ভুল তথ্য ছড়ায়। নিজের দাবির স্বপক্ষে গবেষণা, তথ্য আর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথাও বলেছেন তিনি।

ঘি বনাম রিফাইন্ড তেল

রামদেবের দাবি, গরুর ঘি খেলে কোলেস্টেরল (cholesterol), হার্ট অ্যাটাক (heart attack) বা ব্রেন স্ট্রোক (brain stroke) হয় না। উলটে রোজ এক-দুই চামচ ঘি খেলে হৃদযন্ত্র, মস্তিষ্ক আর স্নায়ুতন্ত্র সারা জীবন সুস্থ থাকে বলে তাঁর দাবি। তাঁর মতে, আমাদের খাওয়ার পাতের আসল ভিলেন রিফাইন্ড তেল (refined oil), যা ব্রেন স্ট্রোক আর হার্ট অ্যাটাকের জন্য দায়ী।

চিনি নয়, ডায়াবেটিসের কারণ অন্য

ডায়াবেটিস (diabetes) নিয়েও প্রথাগত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করেছেন যোগগুরু। তাঁর দাবি, শুধু চিনি খাওয়াই ডায়াবেটিসের কারণ নয়। বরং এর পিছনে লিভার, কিডনি, অন্ত্র আর পরিপাকতন্ত্রের ভিতরের প্রক্রিয়া, এমনকি কোষস্তরে রিসেপ্টর, ক্রোমোজোম, জিন আর প্রোটিনের কার্যকলাপ জড়িত। তার বিশদ ব্যাখ্যাও দিয়েছেন তিনি।

ইনসুলিন, প্যারাসিটামলেও প্রশ্ন

রামদেবের তোপ থেকে বাদ যায়নি ডাক্তারদের প্রেসক্রিপশনের প্রায় কোনও ওষুধই। তাঁর মতে, বিটা ব্লকার (beta blocker) আসলে উচ্চ রক্তচাপের (blood pressure) মূল কারণে হাত দেয় না, শুধু উপসর্গ চাপা দেয়। ডায়াবেটিসের ওষুধ নিয়েও একই কথা, তাঁর দাবি সেগুলো শুধু ইনসুলিনের (insulin) মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে, রোগের মূল কারণ সারায় না। প্যারাসিটামল (paracetamol) নিয়েও একই যুক্তি, ওটা জ্বর চাপা দেয়, সারায় না। ঘুম আর ডিপ্রেশনের ওষুধ প্রসঙ্গে তাঁর অভিযোগ, এগুলো আসক্তি তৈরি করে। স্থূলতা, থাইরয়েড, কোলেস্টেরলের মতো সমস্যা তাঁর মতে আয়ুর্বেদের বাত, পিত্ত, কফ (Vata-Pitta-Kapha) দোষ-তত্ত্বের অঙ্গ। এবং এই রোগগুলির দীর্ঘমেয়াদি, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন চিকিৎসা একমাত্র আয়ুর্বেদেই সম্ভব।

পতঞ্জলির বিকল্প

অ্যালোপ্যাথির বিকল্প হিসেবে একের পর এক পতঞ্জলি প্রোডাক্টের নামও করেছেন রামদেব। মস্তিষ্ক আর অনিদ্রার জন্য মেধাবটী, ব্যথার জন্য পীড়ানিল, সর্দি-কাশির জন্য শ্বাসারি প্রবাহী, জ্বরের জন্য দিব্য জ্বরনাশক বটী ও গিলয় ঘনবটী, বমির জন্য মুক্তা বটী, শ্বাসকষ্টে দিব্য কাস কুটজ, থাইরয়েডে থাইরোগ্রিট। পতঞ্জলির নিজস্ব গবেষণায় তৈরি আয়েুর্বেদিক ওষুধের তালিকা লম্বা। তাঁর চমকপ্রদ দাবি, আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় ক্যানসার, উচ্চ রক্তচাপ এবং ডায়াবেটিসজনিত চোখ-কিডনি-স্নায়ুর জটিলতাও সারিয়ে দেওয়া গিয়েছে। চমকপ্রদ ব্যাপার হল, এমনকি লিভার-কিডনি প্রতিস্থাপন, পেসমেকার, বাইপাস সার্জারি বা অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টির মতো বড় অস্ত্রোপচারও অনেকে আয়ুর্বেদের গুণে এড়িয়ে যেতে পেরেছেন।

 

দ্রষ্টব্য:এই প্রতিবেদনটির বক্তব্য একান্তই যোগগুরু রামদেবের নিজস্ব। দৈনিক স্টেটসম্যানের তরফে কোনও চিকিৎসা পরামর্শ নয়।