• facebook
  • twitter
  • youtube
Tuesday, 25 August, 2026

ইমরানকে নিয়ে পাক সরকারের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ প্রাক্তন ইংল্যান্ড অধিনায়কের, গলা মেলালেন কপিল দেবও

ইমরানের সঙ্গে দীর্ঘ দিন ক্রিকেট মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন কপিল। তাঁর বক্তব্য, পাকিস্তানের ক্রিকেটারেরা দেশের ভিতর থেকে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে দ্বিধা করতে পারেন। কিন্তু দেশের বাইরে থাকা প্রাক্তন ক্রিকেটারদের সেই উদ্বেগ প্রকাশ করা উচিত।

ইমরানকে নিয়ে পাক সরকারের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ প্রাক্তন ইংল্যান্ড অধিনায়কের, গলা মেলালেন কপিল দেবও

Photo: Statesman

ইমরান খানকে নিয়ে পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে একটি শব্দও বলার সাহস নেই পাকিস্তানের বর্তমান ও প্রাক্তন ক্রিকেটারদের। পাকিস্তানের ক্রিকেট কিংবদন্তির ওপর যে রকম অকথ্য অত্যাচারের অভিযোগ উঠে আসছে, তা নিয়ে দেশ তোলপাড় হলেও পাকিস্তানের ক্রিকেট মহলের কোনো হেলদোল নেই। বরং প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে তাঁর প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা ও চিকিৎসার আবেদন জানিয়ে বারবার চিঠি লিখছেন ক্রিকেট বিশ্বের কিংবদন্তিরা।

ইমরানের শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সম্প্রতি ২১ জন প্রাক্তন টেস্ট অধিনায়ক পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের কাছে চিঠি লিখেছেন। তাঁদের দাবি, ১৯৯২ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ককে যথাযথ চিকিৎসা এবং মানবিক পরিষেবা দিতে হবে।

এই চিঠিতে যাঁরা সই করেছেন, তাঁদের অন্যতম ইংল্যান্ডের প্রাক্তন অধিনায়ক মাইকেল আথারটন এবার এক বিস্ফোরক অভিযোগও তুললেন। তাঁর দাবি, জেলবন্দি পাকিস্তানের প্রাক্তন অধিনায়ক ও প্রধানমন্ত্রীকে জনজীবন থেকে কার্যত ‘মুছে ফেলার’ চেষ্টা করছে সে দেশের প্রশাসন। নেহাত সমাজমাধ্যম এ যুগে যথেষ্ট প্রভাবশালী। সে জন্যই এই চেষ্টা ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে বলে মনে করেন তিনি।

এই চিঠিতে আথারটন ছাড়াও সই করেছেন তাঁর প্রাক্তন ইংল্যান্ড সতীর্থ নাসের হুসেনও। ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক কপিল দেব, সুনীল গাভাস্কর এবং দিলীপ বেঙ্গসরকারও রয়েছেন এই তালিকায়।

কেন এই আবেদনে সামিল হলেন, তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে স্কাই স্পোর্টসের ক্রিকেট পডকাস্টে আথারটন বলেন, ‘নাসের এবং আমি ২১ জন প্রাক্তন অধিনায়কের সঙ্গে মিলে দ্বিতীয় বার চিঠি পাঠিয়েছি। এটা ইমরান খানের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য মানবিক আবেদন। কিন্তু আমার মনে হয়, এর মূল বিষয় হল— সে দেশের সরকার ইমরানকে কার্যত জনজীবন থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা করেছে’।

এর পরেই আরও তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন তিনি। আথারটনের কথায়, ‘সমাজমাধ্যমের যুগে কাউকে এ ভাবে মুছে ফেলা কঠিন। সমাজমাধ্যম না থাকলে যে কী ভয়ঙ্কর কাণ্ড হতো, কে জানে?”

১৯৯২-এ পাকিস্তানকে প্রথম বার ক্রিকেট বিশ্বকাপ জেতানো ইমরান ২০১৮ থেকে ২০২২ পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ২০২৩ থেকে তিনি জেলবন্দি। দুর্নীতির মামলায় তাঁর একাধিক সাজা হয়েছে, যদিও অভিযোগগুলি তিনি অস্বীকার করেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাঁর পরিবারের দাবি, চোখের সমস্যার কারণে একটি চোখে প্রায় দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন তিনি।

এমন পরিস্থিতিতেই বিশ্বের প্রাক্তন ক্রিকেট অধিনায়কদের একাংশ ফের সরব হয়েছেন। গত রবিবার ২১ জন প্রাক্তন অধিনায়ক শাহবাজের কাছে চিঠি পাঠিয়ে ইমরানের চিকিৎসা এবং মানবিক ব্যবহারের আবেদন করেন। এর কয়েক মাস আগেও ১৪ জন প্রাক্তন অধিনায়ক একই ধরনের আবেদন জানিয়েছিলেন।

আথারটনের পাশাপাশি ইমরানের পাশে দাঁড়িয়েছেন ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক কপিল দেবও। ইমরানের সঙ্গে দীর্ঘ দিন ক্রিকেট মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন কপিল। তাঁর বক্তব্য, পাকিস্তানের ক্রিকেটারেরা দেশের ভিতর থেকে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে দ্বিধা করতে পারেন। কিন্তু দেশের বাইরে থাকা প্রাক্তন ক্রিকেটারদের সেই উদ্বেগ প্রকাশ করা উচিত।

কপিল বলেন, ‘পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের আমি দোষ দিই না। তাঁদের তো সেখানেই থাকতে হয়। কিন্তু আমরা বাইরে থেকে বিষয়টা দেখছি। যে বন্ধুর সঙ্গে খেলেছি এবং যার ক্রিকেটীয় দক্ষতাকে সম্মান করেছি, তাঁকে সমর্থন করতে আমার কোনও আপত্তি নেই’।

কপিল আরও বলেন, ‘হতে পারে, আমরা ও দেশের আইন সম্পর্কে জানি না। কিন্তু মানবিকতা তো সবার জন্যই। একজন বন্দির জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা উচিত— তিনি যে-ই হন না কেন। আর ইমরান তো দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এবং বিশ্বের অন্যতম সেরা ক্রিকেটার। আমরা শুধু চাইছি, তাঁকে যথাযথ চিকিৎসা এবং প্রয়োজনীয় সুবিধা দেওয়া হোক। এর বেশি কিছু তো চাইছি না’।

অর্থাৎ, ইমরানকে ঘিরে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিতর্ক ছাপিয়ে এ বার সরব ক্রিকেট দুনিয়ার একাংশ। আথারটনের ‘মুছে ফেলার চেষ্টা’র অভিযোগ সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।