এক-তৃতীয়াংশ কর্মী নিয়ে কাজ করছে কলকাতা পুলিশ। ২০১৪ এবং ২০২৩ সালের নিয়োগের পর কলকাতা পুলিশে নিয়োগ প্রক্রিয়া প্রায় থমকে গিয়েছিল। ১৪০টি শূন্যপদের মধ্যে ১০০টি পদে নবনিযুক্ত কর্মীদের দিয়ে কাজ চালানো হয়েছিল। এরপর রাজনৈতিক ও আইনি জটে আটকে নিয়োগ কার্যত শিকেয় ওঠে। রাজ্য পুলিশের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর আশার আলো দেখেছিলেন কলকাতা পুলিশের কর্মীরা। কিন্তু তারপরেও কাটেনি সংশয়।
বর্ষীয়ান এক পুলিশকর্মীর দাবি, ‘থানা থেকে হেডকোয়ার্টার সব জায়গাই কর্মী সংকটে ভুগছে। প্রতি থানায় কনস্টেবল, অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব-ইন্সপেক্টর এবং ইন্সপেক্টর পদে টেনেটুনে কাজ চালাতে হচ্ছে। কলকাতার ৮০টি থানায় প্রায় ৮ হাজার পুলিশকর্মী থাকার কথা। কিন্তু সেই জায়গায় থানাগুলিতে কাজ করছেন মাত্র ৩ হাজারের মতো কর্মী।’
যদিও বর্তমানে কলকাতা পুলিশে মোট কর্মীর সংখ্যা প্রায় ৩৭ হাজার ৪০০। পাল্লা দিয়ে কমেছে পুলিশ চালকের সংখ্যাও। পুলিশের একাংশের দাবি, থানা থেকে শুরু করে কম্পিউটার সেল—প্রতিটি বিভাগেই একই পরিস্থিতি। এমনকি প্রশিক্ষণ ও দক্ষতার ঘাটতির কারণে কাজের ক্ষেত্রে সমস্যা বাড়ছে বলেও অভিযোগ করছেন পুলিশ মহলের একাংশ।
গত কয়েক বছরে কলকাতা পুলিশে তিনটি নতুন ডিভিশন তৈরি হয়েছে। তৈরি হয়েছে স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (ডিপোর্টেশন)। কিন্তু সেই অনুপাতে কর্মীর সংখ্যা বাড়েনি। উল্টে প্রতি মাসেই বহু কর্মী অবসর নিচ্ছেন। তাঁদের জায়গা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না।
কলকাতা পুলিশের এক আধিকারিকের দাবি, ‘পুলিশের চাকরিতে দিনের শেষে অবসর সময় নেই ঠিকই। কিন্তু আধুনিক যুগে লোকবলের সংখ্যা কমে যাওয়ায় রাতে ঘুমোনোর সময়ও পান না কেউ কেউ।’
শুধু ডিভিশন নয়, একাধিক ধরনের অপরাধ মোকাবিলায় ঐতিহ্যবাহী এই পুলিশ কমিশনারেটের খোলনলচে বদলেছে। কিন্তু এখনও পরিকাঠামোর অভাব রয়েছে বলে দাবি পুলিশের একাংশের।
মঙ্গলবার পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ রিক্রুটমেন্ট বোর্ড জানিয়েছে, দ্বিতীয় দফায় ১৫ হাজার ৭০৩ জন পুলিশকর্মী নিয়োগ করা হবে। এই ১৫,৭০৩ জনের মধ্যে একটি অংশ কলকাতা পুলিশের কাজে নিযুক্ত হতে পারেন। কিন্তু এতেও কি কর্মী সংকট মিটবে? প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
পুলিশের উপরমহলের একাংশের দাবি, যে বিভাগগুলিতে প্রযুক্তির ব্যবহার বেশি, সেখানে দক্ষ আধিকারিকের সংখ্যা কমছে। ফলে কাজের ক্ষেত্রে ভুলের সম্ভাবনাও বাড়ছে। এই পরিস্থিতি নিয়ে ইতিমধ্যেই উষ্মা প্রকাশ করেছেন কলকাতার নগরপাল অজয় নন্দ।
সম্প্রতি জিরো এফআইআর লিপিবদ্ধ করতে গিয়েও সমস্যায় পড়ছেন অনেক পুলিশকর্মী। একটি এফআইআর-ই একাধিকবার রেকর্ডে তুলতে হচ্ছে তাঁদের। শুধুমাত্র দক্ষতার অভাবেই কি এই সমস্যা? নাকি রয়েছে প্রশিক্ষণের ঘাটতিও?
উপায় কী? নিয়োগেই কি কাটবে জট? নাকি গলদ রয়েছে প্রশিক্ষণে? উত্তর খুঁজছে কলকাতা পুলিশ।




