কয়েকদিন আগেই তামিলনাড়ুতে বেশি বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে এক যুবতীকে বাংলাদেশে পাচারের অভিযোগ উঠেছিল। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ তদন্ত শুরু করে। এবার বাংলাদেশে খুলনা জেলায় অভিযুক্তকে শনাক্ত করল বাংলাদেশ পুলিশ। কিন্তু এখনও পর্যন্ত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে কলকাতা পুলিশ সূত্রের খবর। তবে শীঘ্রই বাংলাদেশ পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করবে বলে জানা গিয়েছে।
এদিকে, তরুণীকে এই মুহূর্তে বাংলাদেশ হাই কমিশনের মহিলা হোমে রাখা হয়েছে। বেশকিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং আইনানুগ প্রক্রিয়া রয়েছে। তরুণীকে কলকাতায় ফিরিয়ে আনতে ২০ দিন সময় লাগবে বলে জানিয়েছে লালবাজার পুলিশ।
পুলিশ সূত্রের খবর, অভিযুক্ত ওই ব্যক্তির সঙ্গে আর কোনও চক্রের যোগ আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সেই সঙ্গে বাংলাদেশে এই ধরনের নারী পাচার চক্র বা গ্যাং-এর সঙ্গে অভিযুক্তের কোনও যোগ রয়েছে কি না সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের প্রাথমিক অনুমান, এই ব্যক্তি একা এই ধরনের পাচার চক্র চালাতে পারে না। তার সঙ্গে একাধিক ব্যক্তির যোগাযোগ রয়েছে।
পুলিশ সূত্রের খবর, ওই তরুণীকে চাকরি দেওয়ার নামে বাংলাদেশের মধ্যে দিয়ে দুবাইয়ে পাচার করার পরিকল্পনা ছিল। লালবাজার পুলিশ জানিয়েছে, যাতে এ ধরনের চক্রকে দমন করা যায়। সেই সঙ্গে আগামীদিনে যাতে এই ধরনের নারী পাচার বা মানব পাচারের ঘটনা না ঘটে, তার জন্য আরও কঠিন থেকে কঠিনতর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবছে কলকাতা পুলিশ।
অভিযুক্ত ওই যুবককে গ্রেপ্তার করে কলকাতায় আনলেই জানতে পারা যাবে তার সঙ্গে আরও কার কার যোগ রয়েছে। এমনকী কলকাতায় সে আরও কোনও সহকারি বা গ্যাং-এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে কি না, সেই দিকেও নজর রাখা হচ্ছে। উল্লেখ্য, তামিলনাড়ুতে বেশি বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ওই তরুণীকে বাংলাদেশে পাচারের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ, সেখানে তাঁকে আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। পরে কোনওমতে পালিয়ে গিয়ে বাংলাদেশের গোপালগঞ্জের একটি হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি।
জানা গিয়েছে, সেই হাসপাতাল থেকেই ভাইকে ফোন করার পর ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। যুবতীর ভাই প্রথমে সন্দেশখালি থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন। পরে উত্তর কলকাতার শ্যামপুকুর থানায় অপহরণ ও মানবপাচারের মামলা দায়ের হয়। সেই মামলার তদন্তভার নিয়েছিল কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ। এবার অভিযুক্তকে শনাক্ত করল বাংলাদেশ পুলিশ।




