• facebook
  • twitter
  • youtube
Thursday, 13 August, 2026

‘ওয়ান ডে ক্রিকেটে আর কোনও আগ্রহ নেই’, দুশোর বেশি ওয়ানডে খেলা ভারতীয় তারকাই বলছেন এ কথা!

হরভজনের মতে, টি-টোয়েন্টি লিগের আর্থিক ক্ষমতা এবং বিনোদনমূলক আকর্ষণ এতটাই বেড়েছে যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পক্ষে

‘ওয়ান ডে ক্রিকেটে আর কোনও আগ্রহ নেই’, দুশোর বেশি ওয়ানডে খেলা ভারতীয় তারকাই বলছেন এ কথা!

Harbhajan Singh Photo-SNS

এক সময় ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম সফল বোলার ছিলেন। দেশের হয়ে ২৩৬টি এক দিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন, নিয়েছেন ২৬৯টি উইকেট। অথচ তাঁর মুখেই এ বার ওয়ানডে ক্রিকেট নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য। ভারতের প্রাক্তন অফস্পিনার স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, এক দিনের ক্রিকেট নিয়ে তাঁর আর কোনও আগ্রহ নেই।

এক সংবাদসংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্রিকেটের তিন ফরম্যাটের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে এই প্রাক্তন অফস্পিনার বলেন, ‘ভারত যদি অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে খেলে, তা হলে ভাল দর্শক পাওয়া যায়। কিন্তু ভারত যদি শ্রীলঙ্কা বা আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে খেলে, সেই দর্শকসংখ্যা থাকে না। অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড ম্যাচে দর্শক থাকে, কিন্তু ইংল্যান্ড-বাংলাদেশ সিরিজে তেমন আগ্রহ দেখা যায় না’।

তবে ওয়ানডে নিয়ে তাঁর অবস্থান আরও স্পষ্ট। হরভজন বলেন, ‘ভারত-অস্ট্রেলিয়া, ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা বা ভারত-ইংল্যান্ডের সিরিজ হলে আমি অবশ্যই দেখতে চাইব। টেস্ট ক্রিকেট দেখার জন্য আমি টাকা দিয়েও দেখতে রাজি। কিন্তু ওয়ানডে ক্রিকেটে আমার কোনও আগ্রহ নেই’।

আইপিএল থেকে শুরু করে অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশ লিগ এবং ইংল্যান্ডের ‘দ্য হান্ড্রেড’—বিশ্ব জুড়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা বাড়তে বাড়তে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের উপরও প্রভাব ফেলছে বলে মনে করেন হরভজন।

তাঁর মতে, ইতিমধ্যেই দর্শকদের একটা বড় অংশ আন্তর্জাতিক ম্যাচের বদলে ক্লাব বা ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের দিকে ঝুঁকেছে। হরভজনের কথায়, ‘সত্যিই এমনই হয়েছে। প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ এখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বদলে ক্লাব ক্রিকেট দেখছে’।

বিগ ব্যাশ এবং ‘দ্য হান্ড্রেড’-এর মাঠ ভরা থাকার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘‘দ্য হান্ড্রেড’-এ দেখুন, মাঠ ভর্তি থাকে। বিগ ব্যাশেও গ্যালারি ভরা। আইপিএলের টিকিট পাওয়া যায় না। দু’মাসের আইপিএল এখন একটা উৎসব, একটা কার্নিভালের মতো হয়ে উঠেছে। ফলে সেই পরিবর্তন হয়ে গিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট পিছনের সারিতে চলে গিয়েছে’।

ওয়ানডে নিয়ে আগ্রহ হারালেও টেস্ট ক্রিকেট নিয়ে কোনও সংশয় নেই হরভজনের। তাঁর মতে, ক্রিকেটারের দক্ষতা এবং চরিত্রের প্রকৃত পরীক্ষা হয় পাঁচ দিনের ক্রিকেটেই।

তিনি বলেন, ‘টেস্ট ক্রিকেটই আসল ক্রিকেট। খেলার সঙ্গে যুক্ত সব পক্ষের উচিত টেস্ট ক্রিকেটকে রক্ষা করা এবং এর প্রচার করা। কারণ টেস্ট ক্রিকেটই সেরা, যেখানে একজন ক্রিকেটারকে সব দিক থেকেই পরীক্ষা দিতে হয়’।

তবে একই সঙ্গে তাঁর আক্ষেপ, টি-টোয়েন্টির দাপটে টেস্টও ক্রমশ পিছিয়ে পড়ছে। হরভজন বলেন, ‘টি-টোয়েন্টি আসার পরে ব্যাটারদের মানসিকতা বদলে গিয়েছে, বদলেছে দর্শকদের ভাবনাও। এখন মানুষের হাতে সময় কম, তাই তারা ছোট ফরম্যাট দেখতে চায়। টেস্ট ক্রিকেট পিছনের সারিতে চলে গিয়েছে, অথচ তারই থাকা উচিত ছিল সবার উপরে’।

হরভজনের মতে, টি-টোয়েন্টি লিগের আর্থিক ক্ষমতা এবং বিনোদনমূলক আকর্ষণ এতটাই বেড়েছে যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পক্ষে পুরনো জায়গা ফিরে পাওয়া কঠিন হতে পারে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটারদের জাতীয় দলের চেয়ে বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগকে বেছে নেওয়া বা নিউজ়িল্যান্ডের একাধিক তারকার কেন্দ্রীয় চুক্তি ছেড়ে বিশ্ব জুড়ে টি-টোয়েন্টি খেলার প্রসঙ্গও উঠে এসেছে তাঁর কথায়।

তবে প্রাক্তন ভারতীয় স্পিনারের আশা, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট এখনও তার প্রাপ্য গুরুত্ব ফিরে পাবে। কিন্তু বাস্তবটা যে বদলে যাচ্ছে, তা তাঁর মন্তব্যেই স্পষ্ট। ২৩৬টি ওয়ানডে খেলা হরভজনের মুখেই যখন শোনা যায়, ‘ওয়ানডে ক্রিকেটে আমার কোনও আগ্রহ নেই’, তখন ৫০ ওভারের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে।