পুরুলিয়ার রঘুনাথপুরের শিল্পায়নে বড় পদক্ষেপ। রাজ্যের শিল্প উন্নয়ন নিগম সূত্রের খবর, রঘুনাথপুরে অমিত মেটালিক্সের পর জুপিটার ডিফেন্স প্রাইভেট লিমিটেড সমন্বয়ে প্রতিরক্ষা উৎপাদন কেন্দ্র গড়বে। এর জন্য রাজ্য রঘুনাথপুর ২ ব্লক এলাকার রুকনিতে এই প্রকল্পের জন্য ২৫৫ একর জমি দিয়েছে। শীঘ্রই এ নিয়ে কাজ শুরু হবে।
জানা গিয়েছে, যে এলাকায় জমি দেওয়া হয়েছে সেখান থেকে দক্ষিণ-পূর্ব রেলের আদ্রা-গোমো রেলপথে রুকনি স্টেশন। আবার রঘুনাথপুর-চেলিয়ামা সড়কে মৌতোড় এলাকা থেকে মাত্র ৩ কিলোমিটার। এর ফলে ওই প্রকল্পস্থল থেকে রেল ও সড়ক দুই যোগাযোগ মাধ্যমেরই কোন অসুবিধা নেই। এর পাশেই রয়েছে ধানাড়া গ্রাম। গ্রামবাসীরা চাইছেন যাতে এই জমিতে তাড়াতাড়ি করে কারখানা গড়ে ওঠে।
এর আগেই পুরুলিয়া থেকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, আগামী এক বছরের মধ্যে পুরুলিয়ায় ১ লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগ হবে। মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যের আগে কলকাতায় শিবির করে একাধিক শিল্প সংস্থার সঙ্গে জুপিটারকেও রঘুনাথপুরে শিল্প স্থাপনের জন্য জমি প্রদান করে। রাজ্য মনে করছে, প্রস্তাবিত প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেন্দ্রে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বহু মানুষের কর্মসংস্থান হবে।
তবে শুধু রাজ্য সরকারই নয়, এলাকার মানুষও খুব খুশি। কারণ বিশাল কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হলে এতে অনেক মানুষের সুবিধা হবে। বাম আমলে রঘুনাথপুর এলাকায় কয়েকশো একর জমি রাজ্য অধিগ্রহণ করেছিল। সেই অধিগৃহীত জমি থেকে ২৫৫ একর ওই শিল্প সংস্থার হাতে তুলে দিয়েছে রাজ্যের শিল্প উন্নয়ন নিগম।
যে এলাকায় শিল্প স্থাপন হবে সেখানে বাম আমলে আধুনিক কর্পোরেশন লিমিটেডকে ইস্পাত শিল্পের জন্য জমি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেখানে শিল্প স্থাপন হয়নি। এরপরে রাজ্য তাদের কাছ থেকে জমি নিয়ে নেয়। অনেকদিন ধরে রাজ্যের অধিগৃহীত জমি পড়ে ছিল। তৃণমূল সরকারের আমলে রঘুনাথপুরের ওই জায়গায় সেভাবে কোনও ভারী শিল্প গড়ে ওঠেনি। এর ফলে মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। কর্মসংস্থানের অভাবে এলাকার মানুষ অন্যত্র যেতে বাধ্য হন। তবে বর্তমানে ওই এলাকায় জুপিটার প্রাইভেট লিমিটেডের কারখানা তৈরি হলে এলাকার বহু মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে মনে করছে রাজ্য।




