মার্কিন আপিল আদালত মেটা(Meta) প্ল্যাটফর্ম, অ্যালফাবেটের গুগল(Google), বাইটড্যান্সের টিকটক এবং স্ন্যাপ ইনকর্পোরেটেডের স্ন্যাপচ্যাটের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া হাজার হাজার মামলাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে। এই মামলাগুলিতে অভিযোগ করা হয়েছে, এই সংস্থাগুলি তাদের পণ্য ও পরিষেবাগুলি এমনভাবে তৈরি করেছে যা তরুণ ব্যবহারকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্ত করে রাখে। আর এই রায় বুঝিয়ে দিয়েছে বর্তমানে সাধারণ মানুষের কাছে মাদকের থেকেও অত্যন্ত বেশি মাত্রায় নেশাগ্রস্ত করে তোলার জন্য ভূমিকা নিচ্ছে একাধিক সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম।
সোমবার, ১০ আগস্ট, নবম সার্কিট কোর্ট অব আপিলস মেটা এবং টিকটকের করা আপিল খারিজ করে দিয়েছে। নিম্ন আদালতের সেই রায় বাতিল করার আবেদন জানিয়েছিল দুই সংস্থা। ওই রায়ে তাদের বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে দায়ের হওয়া ৩,০০০-এরও বেশি মামলার মুখোমুখি হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
মেটা ও টিকটক দাবি করেছিল, ১৯৯৬ সালের ‘কমিউনিকেশনস ডিসেন্সি অ্যাক্ট’-এর ২৩০ নম্বর ধারা তাদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এই মামলাগুলিকে আটকানোর জন্য যথেষ্ট। ওই আইনে অনলাইন সংস্থাগুলিকে তাদের ব্যবহারকারীদের পোস্ট করা বিষয়বস্তু সংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগ থেকে আইনি সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে।
মামলার শুনানির সময় আদালত মেটার আরও একটি আবেদন খারিজ করে দেয়। বুধবার থেকে শুরু হতে চলা একটি মামলার বিচার পিছিয়ে দেওয়ার আবেদন করেছিল মেটা। ২৯টি অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল মেটার বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করেছেন।
অভিযোগ, মেটা বেআইনিভাবে শিশুদের তথ্য সংগ্রহ ও ব্যবহার করেছে। একই সঙ্গে অভিযোগ উঠেছে, তরুণ ব্যবহারকারীদের দীর্ঘ সময় ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আটকে রাখার উদ্দেশ্যে সংস্থাটি তাদের প্ল্যাটফর্মগুলিকে এমনভাবে তৈরি করেছে। এই প্লাটফর্মগুলি বর্তমানে বিশ্বের একাধিক দেশে রয়েছে। সেখানকার বিভিন্ন বয়সের মানুষ এই প্লাটফর্মগুলি ব্যবহার করে থাকে। শুধু ব্যক্তিগত ক্ষেত্রেই নয়, বর্তমানে এই প্লাটফর্মগুলি একাধিক অফিসিয়াল ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
ফেডারেল আদালতে দায়ের হওয়া এই মামলাগুলিতে হাজার হাজার স্কুল জেলা এবং ব্যক্তি মেটা-সহ বিভিন্ন প্রযুক্তি সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন।
আইনজীবীরা বলেন, ‘বিচার হল এমন একটি প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে সাধারণ মানুষ জানতে পারবেন, শিশুদের উপর নিজেদের পণ্যের প্রভাব সম্পর্কে মেটা কী জানত, কখন তা জানত এবং সেই জ্ঞান নিয়ে সংস্থাটি কী পদক্ষেপ করেছিল?’ মার্কিন আদালতে এই বিপদের পরে আগামীতে এই প্লাটফর্মগুলি কোন পদক্ষেপ নেয় শিশু সুরক্ষা নিয়ে সেদিকে থাকবে নজর।




