• facebook
  • twitter
  • youtube
Tuesday, 15 September, 2026

শিশু নির্যাতনের কন্টেন্ট পেলেই পুলিশকে রিপোর্ট করবে মেটা, ভারতে কড়া নজরদারি

যেসব প্ল্যাটফর্ম এইসব নিয়ম মানবে না, তাদের বিরুদ্ধে সরকার কড়া ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছে। মেটা অবশ্য জানিয়েছে, চলতি বছরে অভিযোগের ভিত্তিতে সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে বেশ কিছু বিজ্ঞাপনের প্রদর্শনী বন্ধ করে দেওয়া হয়। একাধিক অ্যাকাউন্টও সাসপেন্ড করে দেওয়া হয়।

শিশু নির্যাতনের কন্টেন্ট পেলেই পুলিশকে রিপোর্ট করবে মেটা, ভারতে কড়া নজরদারি

প্রতীকী চিত্র

শিশুদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার নিরাপদ করতে চাইছে কেন্দ্র। এবার সেই কাজে সরকারের পাশে দাঁড়াল মেটা (Meta)। শিশু যৌন নির্যাতন ও শিশু সুরক্ষা সংক্রান্ত গুরুতর ঘটনাগুলি এবার সরাসরি সংশ্লিষ্ট আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাকে জানাবে মেটা। এতদিন প্ল্যাটফর্মের নিজস্ব কনটেন্ট-মডারেশন ব্যবস্থার মধ্যেই যে ধরনের অভিযোগের নিষ্পত্তি করা হত, নতুন সিদ্ধান্তে সেগুলি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার কাছেও পৌঁছবে।

ভারতে অনলাইন শিশু সুরক্ষা নিয়ে সরকার ও বিভিন্ন সোশ্যাল সংস্থার মধ্যে আলোচনার মধ্যেই মেটার এই সিদ্ধান্ত। বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে শিশু নির্যাতন, অত্যাচার বা নিগ্রহের কোনও কন্টেন্ট ছড়ানো ও প্রচারের অভিযোগের পর বিষয়টি আরও গুরুত্ব পেয়েছে। সরকারি সূত্রের দাবি, ভারতে যেসব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম রয়েছে, সেগুলির জন্য শিশুদের নিরাপত্তা একটি মৌলিক দায়িত্ব এবং এক্ষেত্রে কোনও আপস করা হবে না।

সরকারের মতে, মেটার সিদ্ধান্ত অনলাইনে শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক পদক্ষেপ। সম্প্রতি টেক ট্রান্সপারেন্সি প্রোজেক্ট (Tech Transparency Project)-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মেটার ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে চলতি বছরে ৩০০-র বেশি বিজ্ঞাপনে সন্দেহজনক শিশু নির্যাতনের সামগ্রী পাওয়া গিয়েছে। অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে শিশুদের ছবি বিকৃত করা হয়েছে। এই ঘটনায় মেটার বিজ্ঞাপন যাচাই ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সরকার জানিয়েছে, মেটা ছাড়াও দেশে পরিচালিত অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মেও যাতে শিশুদের নিগ্রহ বা অত্যাচারের কন্টেন্ট ছড়িয়ে না পড়ে, সে বিষয়ে নজরদারি চালানো হবে। যেসব প্ল্যাটফর্ম এইসব নিয়ম মানবে না, তাদের বিরুদ্ধে সরকার কড়া ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছে। মেটা অবশ্য জানিয়েছে, চলতি বছরে অভিযোগের ভিত্তিতে সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে বেশ কিছু বিজ্ঞাপনের প্রদর্শনী বন্ধ করে দেওয়া হয়। একাধিক অ্যাকাউন্টও সাসপেন্ড করে দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: ইমিগ্রেশন ছাড়াই আন্তর্জাতিক বিমানে যাত্রা, এয়ার ইন্ডিয়াকে শোকজ

এমনকী শিশু নির্যাতন বা নিগ্রহ সংক্রান্ত কোনও কন্টেন্ট প্রকাশ্যে এলে তা ন্যাশনাল সেন্টার ফর মিসিং এন্ড এক্সপ্লয়েড চিলড্রেন (National Centre for Missing and Exploited Children)-কে জানানো হয় বলেও জানিয়েছে মেটা। ভারতে সোশ্যাল মিডিয়া সংস্থাগুলি তথ্যপ্রযুক্তি আইন এবং ২০২১ সালের ইনফরমেশন টেকনলজি রুলস (Information Technology Rules)-এর অধীনে বিভিন্ন দায়বদ্ধতার মধ্যে রয়েছে। সরকার এখন অন্যান্য সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মের সঙ্গেও আলোচনা চালাচ্ছে, যাতে ক্ষতিকর কনটেন্ট ব্যবহারকারীদের কাছে পৌঁছনোর আগেই তা সরিয়ে ফেলা যায়।