আসামে (Assam) বন্যা (Flood) পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত উদ্বেগজন। আসাম টেস্ট ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি(ASDMA)-র তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৯৮। মৃতদের মধ্যে ৫৭ জন পুরুষ, ২৩ জন মহিলা এবং ১৮ জন শিশু। শিশুদের মধ্যে ১২ জন ছেলে ও ৬ জন মেয়ে রয়েছে।
সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কাছাড় জেলায়। মৃতের সংখ্যা এখানেই সবচেয়ে বেশি। এখনও পর্যন্ত এখানে থেকে মৃত্যু হয়েছে কমপক্ষে ২২ জনের। এরপর রয়েছে শিবসাগর। এখানে মৃত্য হয়েছে অনন্ত ১০ জনের। করিমগঞ্জে ৯ জন এবং গোলাঘাটে ৬জনের মৃত্যু খবর পাওয়া গিয়েছে। এছাড়াও ধেমাজি, নগাঁও, উদালগুড়ি, শোনিতপুর এবং কার্বি আংলংয়েও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।
আরও পড়ুন: নিম্নচাপ ও ঘূর্ণাবর্তের জোড়া প্রভাবে বৃষ্টি, সতর্কতা দক্ষিণবঙ্গের উপকূলীয় জেলায়
বন্যাকবলিত (Flood) জেলাগুলিতে এখনও উদ্ধার ও ত্রাণের কাজ চলছে। জেলা প্রশাসন ও রাজস্ব দপ্তরের আধিকারিকরা নিয়মিত জলস্তর পর্যবেক্ষণ করছেন এবং দুর্গত মানুষদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
বন্যা (Flood) মোকাবিলায় জাতীয় সমাধানের ডাক দিয়েছেন আসামের (Assam) মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা (Chief Minister Himanta Biswa Sarma) ।তবে তিনি বন্যাকে জাতীয় বিপর্যয় হিসেবে ঘোষণা করার পরিবর্তে জাতীয় ক্ষেত্রে সমাধান-এর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন। হিমন্ত বিশ্বশর্মা (Chief Minister Himanta Biswa Sarma) বলেন, বন্যা (Flood)মোকাবিলায় সরকার ও নাগরিক সমাজকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গবেষকদের এমন উদ্ভাবনী এবং দীর্ঘস্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করতে হবে, যা সরকার বাস্তবে প্রয়োগ করতে পারে।
We want national solutions to floods, not for it to be declared a national disaster.
Govt and Civil society must work together on this matter- Our academia should come up with innovative and sustainable solutions to floods, which our Govt can implement to tackle the problem. pic.twitter.com/RIsJZgMEYw
— Himanta Biswa Sarma (@himantabiswa) August 7, 2026
এর আগে ৭ আগস্ট আসামের (Assam) মন্ত্রী পীযূষ হাজারিকা শিবসাগরে বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসন ও ত্রাণের কাজ নিয়ে বৈঠক করেন। তিনি ক্ষয়ক্ষতির হিসাব, জল নিষ্কাশন, বন্যার জল সরানো এবং পুনর্বাসনের অগ্রগতি খতিয়ে দেখেন।
জেলা প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, শিবসাগরের প্রায় ৪৩ হাজার বন্যাদুর্গত পরিবারকে আসাম (Assam) সরকারের তরফে ১৫ হাজার টাকা করে অন্তর্বর্তী আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। যোগ্য কোনও পরিবার যাতে এই সহায়তা থেকে বাদ না পড়ে তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন মন্ত্রী। যেসব বাড়ি সম্পূর্ণ ভেসে গিয়েছে, তাদের জন্য অস্থায়ী আশ্রয় তৈরি করতেও প্রশাসন প্রয়োজনীয় সামগ্রী ও পরিকাঠামো জোগাড় করছে।
আরও পড়ুন: আসন পুনর্বিন্যাস বিলে সমর্থন নয়, অবস্থান স্পষ্ট করল ডিএমকে
শুক্রবার বন্যাদুর্গত গোলাঘাট পরিদর্শন করেন ভারতীয় বক্সার লভলিনা বরগোঁহাই। বন্যায় (Flood) ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি দেখে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ধানসিডি, দয়াং নদীর জলস্তর বাড়তে থাকায় গোলাঘাটের বিস্তীর্ণ এলাকা এখনও জলের তলায়। বহু পরিবারকে বাড়িঘর ছেড়ে ত্রাণশিবিরে আশ্রয় নিতে হয়েছে।
লাভলিনা জানান, বহু মানুষের বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। খাবার ও পোশাকের ব্যবস্থা হলেও মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই অনেকের। তাই দুর্গত পরিবারগুলির জন্য দ্রুত স্থায়ী বা অন্তত নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করার উপর জোর দেন তিনি।
তিনি বলেন, বন্যার (Flood) ক্ষত সারিয়ে স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে ফিরতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে দ্রুত তাঁদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করাই এখন সবচেয়ে জরুরি।
দেখুন: যাত্রী বহনকারী ড্রোনের সফল পরীক্ষা, উত্তরাখণ্ডের তরুণের প্রশংসায় মুখ্যমন্ত্রী ধামি




