আসামে ভয়াবহ বন্যায় এখনও পর্যন্ত শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বিপর্যস্ত বিস্তীর্ণ এলাকা। বিপুল পরিমাণ মানুষ এই মুহূর্তে ঘরছাড়া। আশ্রয় নিয়েছে অস্থায়ী শিবিরে। আর সেই পরিস্থিতিতে প্রতিবেশী রাজ্যের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের। বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানালেন, আসামের বন্যা পরিস্থিতির মোকাবিলায় পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে ১০ কোটি টাকা সাহায্য দেওয়া হবে। এই মুহূর্তে একাধিক সংস্থার তরফে আসামে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হচ্ছে। এমনকি বলিউডের তারকারাও পৌছে গিয়েছেন সেখানে। বাদ যাননি শিল্পপতিরাও। রিলায়েন্সের তরফ থেকে আসামের মুখ্যমন্ত্রীকে আর্থিকস সাহায্য করা হয়েছে। ত্রাণ নিয়ে পৌঁছে গিয়েছিলেন বিড়লা গ্রুপের অনন্যা বিড়লা।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান,আসামে প্রায় ১০০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। সেখানে বিপুল সংখ্যক বাংলা ভাষাভাষী মানুষও বসবাস করেন। মানবিকতার প্রশ্নেই তাঁদের পাশে দাঁড়ানো প্রয়োজন। সেই কারণেই পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফে ১০ কোটি টাকা সাহায্যের ঘোষণা করা হচ্ছে।
এ দিন কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস নিয়েও বিধানসভায় বক্তব্য রাখেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, ২০৯টি ওয়ার্ড করার জন্য আজ প্রস্তাব আনা হয়েছে। কিন্তু এর পরেও একাধিক প্রশাসনিক ধাপ রয়েছে। ওয়ার্ডের সীমানা, ভোটার সংখ্যা-সহ বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখে প্রস্তাব দেবে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। প্রকাশিত হবে ড্রাফট নোটিফিকেশনও।
শুভেন্দুর বক্তব্য, ড্রাফট নোটিফিকেশনের পর আপত্তি জানানোর জন্য ৬০ দিন সময় থাকবে। তার আগে ও পরে দু’টি সর্বদলীয় বৈঠকও হবে।ড্রাফট প্রকাশের আগে এক বার এবং চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের আগে দ্বিতীয় বার।
তিনি আরও বলেন, কলকাতা পুরসভার নিজস্ব আইন রয়েছে। ফলে বিধি-প্রক্রিয়া সরিয়ে রেখে কোনও বিল পাশ করা হচ্ছে—এমন ধারণা ঠিক নয়। আজকের আলোচনার বিষয় ছিল মূলত ১৯৮০ সালের কলকাতা কর্পোরেশনের আসনসংখ্যা নির্ধারণ। পরবর্তী পর্যায়ের সীমানা নির্ধারণ ও ভোটারসংখ্যা-সহ অন্যান্য বিষয় দেখবে নির্বাচন কমিশন।
তাঁর কথায়, ডিলিমিটেশন নিয়ে সঠিক প্রক্রিয়াটা জানা জরুরি। জাভেদ খান ও ফিরহাদ হাকিমের দীর্ঘদিনের কাউন্সিলর ও মেয়র থাকার প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দুর কটাক্ষ, অভিজ্ঞতা থাকলেই যে ডিলিমিটেশনের আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে সম্পূর্ণ ধারণা থাকবে, তা নয়।




