নিট আন্দোলন নিয়ে এবার প্রকাশ্যে মুখ খুললেন অভিনেতা-সাংসদ দেব। গত কয়েকদিন ধরে দেশজুড়ে চলা ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষিতে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি দীর্ঘ বার্তা পোস্ট করে তিনি কেন্দ্র সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পড়ুয়াদের দাবি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করার আবেদন জানিয়েছেন। নিটকে ঘিরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতিতে একের পর এক তারকা নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করছেন। এর আগে একই ইস্যুতে মত প্রকাশ করেছিলেন টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা জিৎ। আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী ও পরিচালক অপর্ণা সেনও। ফলে নিট আন্দোলন নিয়ে এবার সরব টলিউডের একাধিক তারকা।
দেব তাঁর পোস্টে লিখেছেন, গত কয়েকদিন ধরে তিনি দেশের বিভিন্ন প্রান্তের অসংখ্য ছাত্রছাত্রীর কণ্ঠস্বর গভীরভাবে অনুসরণ করছেন। তাঁর কথায়, ‘পড়ুয়ারাই দেশের ভবিষ্যৎ। যখন দেশের তরুণ প্রজন্ম একসঙ্গে নিজেদের উদ্বেগ ও দাবি তুলে ধরতে রাস্তায় নামে, তখন তাদের কণ্ঠস্বর আন্তরিকতা, সহমর্মিতা এবং মর্যাদার সঙ্গে শোনা উচিত।’
তিনি আরও লিখেছেন, ‘আমি আন্তরিকভাবে ভারত সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানাচ্ছি, ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে আলোচনায় বসুন, তাঁদের অভিযোগ শুনুন এবং দ্রুত গঠনমূলক সমাধানের পথে এগিয়ে আসুন। পাশাপাশি সকলের কাছে আমার অনুরোধ, শান্তি, সংযম এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় রাখুন।’
পোস্টের শেষে দেব বলেন, “ভারতের সবচেয়ে বড় শক্তি আমাদের তরুণ প্রজন্ম। বিভাজন নয়, অর্থবহ আলোচনার মাধ্যমেই ইতিবাচক পরিবর্তনের পথ তৈরি হতে পারে। জয় হিন্দ।”
এর আগে একই ইস্যুতে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছিলেন অভিনেতা জিৎ। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লিখেছিলেন, দেশের ছাত্রছাত্রীরা যখন নিজেদের ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা শিক্ষাব্যবস্থাকেই প্রশ্ন করছে, তখন সেই উদ্বেগকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। তাঁর বক্তব্য ছিল, শিক্ষা শুধু পরীক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি ন্যায়, বিশ্বাস ও আশার প্রতীক। প্রত্যেক পড়ুয়ার এমন একটি ব্যবস্থার অধিকার রয়েছে, যার উপর তারা আস্থা রাখতে পারে। তিনি কর্তৃপক্ষের কাছে সহমর্মিতার সঙ্গে ছাত্রদের বক্তব্য শোনা, স্বচ্ছতার সঙ্গে পদক্ষেপ নেওয়া এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আবেদন জানান। পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মের পাশে দাঁড়ানোরও আহ্বান জানান।
এদিকে আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে একটি ভিডিওবার্তা প্রকাশ করেছেন অপর্ণা সেন। ভিডিওর শুরুতেই তিনি বলেন, ‘নমস্কার, আদাব, জয় হিন্দ। আমার নাম অপর্ণা সেন।’ এরপর তিনি জানান, আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকেই তিনি নতুন করে গণতান্ত্রিক অসহমতির প্রকৃত অর্থ শিখেছেন। শুধু প্রতিবাদ নয়, সংবিধানের প্রতি আস্থা রেখে কীভাবে নিজের অধিকার দাবি করতে হয়, সেই শিক্ষাও তিনি পেয়েছেন তাঁদের কাছ থেকে।
অপর্ণা সেন স্বীকার করেন, দেশের বহু মানুষের মতো তিনিও দীর্ঘদিন ধরে হতাশা ও অসহায়তার মধ্যে ছিলেন। তাঁর মনে প্রশ্ন জাগত, প্রতিবাদ করে আদৌ কোনও পরিবর্তন সম্ভব কি না। গণতান্ত্রিক অধিকার দাবি করলেই যদি দেশবিরোধী তকমা কিংবা কারাবাসের আশঙ্কা তৈরি হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় দাঁড়াবে এই প্রশ্নই তাঁকে বারবার নিরাশ করেছে।
তাঁর মতে, সেই অন্ধকারের মধ্যেই আশার আলো দেখিয়েছে এই প্রজন্মের ছাত্রছাত্রীরা। কারণ তাঁরা বিশ্বাস হারায়নি। তাঁরা শান্তিপূর্ণ, অহিংস ও সাংবিধানিক পথেই নিজেদের দাবি তুলে ধরেছেন। তাঁদের দৃঢ় বিশ্বাস, গণতন্ত্রে মানুষের কণ্ঠস্বর একদিন না একদিন অবশ্যই শোনা হবে। এই বিশ্বাসই তাঁকে সবচেয়ে বেশি স্পর্শ করেছে।
তিনি জানান, ছাত্রছাত্রীদের সাহস, ধৈর্য এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি অবিচল আস্থা তাঁকে এতটাই আবেগপ্রবণ করেছিল যে, সারা রাত তিনি কেঁদেছেন। তাঁর মনে হয়েছে, এই তরুণদের কাছ থেকেই আজকের সমাজের অনেক কিছু শেখার আছে। তাঁদের দৃঢ়তা ও সহনশীলতা ভবিষ্যতের জন্য এক বড় শিক্ষা।
ভিডিওর শেষে আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও আশীর্বাদ জানিয়ে অপর্ণা সেন বলেন, ‘শাবাশ।’ তাঁর মতে, এই তরুণ প্রজন্ম শুধু নিজেদের অধিকারের জন্য লড়ছে না, তারা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে মর্যাদা দেওয়ার পথও দেখাচ্ছে। তাঁদের উদ্দেশে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, এই পথ দেখানোর জন্য তিনি তাঁদের কাছে ঋণী।
নিট কেন্দ্র করে ছাত্র আন্দোলন এবং পুলিশি পদক্ষেপ নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। বিষয়টি এখন সুপ্রিম কোর্টেরও নজরে রয়েছে। এই আবহে দেব, জিৎ ও অপর্ণা সেন—তিন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের প্রকাশ্য সমর্থন আন্দোলনকে ঘিরে নতুন রাজনৈতিক ও সামাজিক তাৎপর্য তৈরি করেছে।




