অনুদানের টাকা চুরির ঘটনায় রাম মন্দিরের পর এবার নাম উছে এল আরেক তীর্থস্থান বদ্রীনাথের নাম। হিন্দুদের অন্যতম তীর্থস্থান হিসেবে পরিচিত বদ্রীনাথ। সেখানে টাকা চুরির অভিযোগ উঠতেই ব্যবস্থা নিয়েছে বদ্রীনাথ-কেদারনাথ মন্দির কমিটি (বিকেটিসি)। বেশ কিছু অভিযোগের ভিত্তিতে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে তদন্ত কমিটি।
কিছুদিন আগেই রাম মন্দিরে চুরির ঘটনা সামনে আসে, সেই ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয় মন্দিরের নিরাপত্তা কর্মী-সহ বেশ কিছু আধিকারিককে। এবার সেই তালিকায় বদ্রীনাথের অনুদান চুরির অভিযোগ উঠতেই স্বাভাবিকভাবেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে। খবর অনুসারে, গত শুক্রবার টাকা চুরির প্রথম অভিযোগ তোলে ভৈরব সেনা নামে একটি হিন্দু সংগঠন। সংগঠনের তরফে বদ্রীনাথ-কেদারনাথ মন্দির কমিটির কার্যনির্বাহী আধিকারিক সোহন সিং রাঙ্গারকে চিঠি দেওয়া হয়।
চিঠিতে মন্দির কমিটির চেয়ারম্যান হেমন্ত দ্বিবেদীর ব্যক্তিগত সচিব বদ্রীনাথ মন্দিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, তিনি প্রণামীর টাকা চুরির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। এমনকী মন্দির কমিটির চেয়ারম্যান হেমন্ত দ্বিবেদীর বিরুদ্ধেও অভিযোগ করে বলা হয়, বিষয়টি তাদের তরফে অনেক আগেই চেয়ারম্যানের নজরে আনা হয়েছিল কিন্তু তিনি তাতে কোনও আমল দেননি। চুরির তদন্তে সিসিটিভির ফুটেজ খতিয়ে দেখার অনুরোধও জানানো হয় ওই চিঠিতে।
এই অভিযোগটি সামনে আসতেই মন্দির কমিটির চেয়ারম্যান হেমন্ত দ্বিবেদী তদন্তের নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, যে কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে তিনি কমিটির একজন স্থায়ী কর্মী। অভিযুক্ত কর্মী এর আগে ৩ জন চেয়ারম্যানের ব্যক্তি সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন। যদি তাঁর বিরুদ্ধে টাকা চুরির অভিযোগ ওঠে তবে তার তদন্ত হবে। অভিযোগ সত্য প্রমাণ হলে কঠোর পদক্ষেপ করা হবে।
এ বিষয়ে মন্দির কমিটির কার্যনির্বাহী আধিকারিক সোহন সিং রাঙ্গার জানান, অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মন্দিরের সিসিটিভি পরীক্ষা করা হয়েছে। যদিও সেই ফুটেজটি অস্পষ্ট হওয়ায় তা প্রমাণ হিসেবে যথেষ্ট নয়। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে। কারচুপি প্রমাণিত হলে কঠোর পদক্ষেপ করা হবে।
উল্লেখ্য, চলতি মরশুমে এখনও পর্যন্ত কেদারনাথ ও বদ্রীনাথ মন্দির থেকে প্রণামী বাবদ প্রায় ৭০ কোটি টাকা অনুদান এসেছে। এর পাশাপাশি মন্দিরের গেস্ট হাউস থেকেও যে পরিমাণ আয় হয়েছে তা ৫০ থেকে ৮০ কোটি টাকায় দাঁড়াতে পারে বলেই মন্দির কমিটির মত।




