অয্যোধার রাম মন্দিরের দানবাক্স থেকে কোটি কোটি টাকা চুরির ঘটনায় ইতিমধ্যেই তোলপাড় শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই সেই দুর্নীতির ঘটনার তদন্তের জন্য উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ তিন সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন। সেই তদন্তে নেমে সিট জানতে পেরেছে, প্রমাণ লোপাটের পাশাপাশি চুরির ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য মন্দিরের সিসিটিভি ফুটেজে কারচুপি হয়েছে।
তদন্তকারীদের দাবি, সেই সিসিটিভি ফুটেজ এডিট করার সূত্র পাওয়া গিয়েছে। এবার সেই সূত্র মেলায় তদন্তকারীদের সন্দেহের তির এসে পড়েছে মন্দিরের ক্যামেরা নেটওয়ার্ক রক্ষণাবেক্ষণ ও নজরদারিতে থাকা ব্যক্তিদের উপরে। তদন্তে নেমে মন্দিরের একজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মী রামশঙ্কর যাদবকে ডেকে বেশ কয়েক ঘণ্টা জেরা করে তদন্তকারীরা।
তদন্তকারীরা মন্দিরের নজরদারি ব্যবস্থা, সিসিটিভি ফুটেজের রেকর্ড ও নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের সঙ্গেও কথা বলছেন। তাঁদের কার্যকলাপও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, মন্দিরের দানবক্সে জমা পড়া টাকা গণনার প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখা হচ্ছে। টাকা গোনার সময়ে কোনও গাফিলতি হয়েছে কি না তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
তদন্তে নেমে সিট ইতিমধ্যেই প্রায় ২০০ জনের একটি তালিকা তৈরি করেছে। এর মধ্যে ১২৫ জন কর্মীকে ইতিমধ্যেই জেরা করা হয়েছে। বাকিদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অনেকের বয়ানে অসঙ্গতি মেলায় তাঁদেরকে দফায় দফায় ডেকে জেরা করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি মন্দিরের সিসিটিভি রক্ষণাবেক্ষণ ও দর্শনার্থীদের প্রবেশের দায়িত্বে থাকা আধিকারিকদের আগের কাজের রেকর্ড খতিয়ে দেখছে সিট।
উল্লেখ্য, যোগী আদিত্যনাথ এই ঘটনায় তদন্তে জন্য যে সিট গঠন করেছেন তার দায়িত্বে রয়েছেন লখনউয়ের বিভাগীয় কমিশনার বিজয় বিশ্বাস পন্থ, অর্থ দপ্তরের বিশেষ সচিব নীলরতন কুমার ও লখনউ রেঞ্জের আইজি কিরণ এস। দানের টাকা চুরির অভিযোগ উঠতেই মন্দির কর্তৃপক্ষ প্রাথমিকভাবে তদন্ত শুরু করে। রাজ্য সরকারও দ্রুত এই ঘটনায় হস্তক্ষেপ করে তদন্তের নির্দেশ দেয়। এরপরেই এই দুর্নীতির ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের সিট গঠনের নির্দেশ দেন যোগী আদিত্যনাথ।




