হাইকোর্টের অন্তর্বর্তী নির্দেশে হস্তক্ষেপ নয়, তবে দলের দৈনন্দিন কাজকর্ম চালাতে প্রশাসকের হাতে নির্দিষ্ট অর্থ রাখার প্রস্তাব শীর্ষ আদালতের।এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট কর্তৃক তৃণমূল (TMC) কংগ্রেসের তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার ঘটনায় তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করল সুপ্রিম কোর্ট।
দলের দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজকর্ম যাতে পুরোপুরি থমকে না যায়, সেই উদ্দেশে হাইকোর্ট নিযুক্ত প্রশাসকের হাতে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ ব্যবহারের সুযোগ রাখা যায় কি না, তা বিবেচনা করতে ইডিকে নির্দেশ দিল শীর্ষ আদালত।
বিচারপতি এম. এম. সুন্দরেশ ও বিচারপতি পি. বি. ভারালের বেঞ্চ স্পষ্ট জানায়, মামলার মূল বিষয়বস্তু নিয়ে তারা এই মুহূর্তে হস্তক্ষেপ করতে চান না, কারণ বিষয়টি এখনও কলকাতা হাইকোর্টে বিচারাধীন। তবে দলের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ চালানোর বাস্তব সমস্যার দিকটিও আদালত এড়িয়ে যায়নি।
ইডির দাবি, অর্থপাচার প্রতিরোধ আইনে (পিএমএলএ) তদন্ত চলাকালীন প্রায় ৪৪০ কোটি টাকা-সম্বলিত তিনটি এইচডিএফসি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে। অভিযোগ, ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে একটি বিমান ও হেলিকপ্টার কেনার নামে কেয়ারওয়েল এভিয়েশন ইন্ডিয়া এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছে বিপুল অর্থ স্থানান্তর করা হয়েছিল। তদন্তকারী সংস্থার আরও দাবি, এখনও ১৬৪ কোটি টাকা সংযুক্ত করা হয়নি।
অন্যদিকে তৃণমূলের (TMC) পক্ষে সওয়াল করে প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল ও মেনকা গুরুস্বামী আদালতে জানান, অ্যাকাউন্টগুলি সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়ায় কর্মীদের বেতন দেওয়াও সম্ভব হচ্ছে না। ইডির দাবি অনুযায়ী অর্থ লেনদেন চলতে থাকলে তার প্রমাণও আদালতে পেশ করার আহ্বান জানান সিব্বল।
শেষ পর্যন্ত ইডিকে নির্দেশ নিয়ে ফের আদালতে হাজির হতে বলে মামলার শুনানি মুলতবি রাখে সুপ্রিম কোর্ট। ফলে তৃণমূলের (TMC) ফ্রিজ হওয়া ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে দৈনন্দিন খরচ চালানোর জন্য অর্থ ব্যবহারের সীমিত সুযোগ মিলবে কিনা সেটাই এখন দেখার।




