অযোধ্যার রামমন্দিরের দানবাক্স থেকে কোটি কোটি টাকা চুরির ঘটনায় ইতিমধ্যেই বিশেষ তদন্তকারী দল তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তে নেমে সিট মন্দিরের সিসিটিভি ফুটেজে কারচুপির কথা জানতে পেরেছে। এবার তদন্ত চলাকালীন রামমন্দিরে রামলালায় দানের পরিমাণ অনেকটাই কমে গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, রামমন্দিরের প্রতিদিন অনুদানের পরিমাণ প্রায় ৭২ শতাংশ কমে গিয়েছে।
সূত্রের খবর, মন্দিরে এর আগে প্রতিদিন প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত অনুদান জমা হত। শনিবার সেটা কমে দাঁড়িয়েছে ৫ লক্ষ টাকায়। কোনও বিশেষ উৎসবের সময়ে রামমন্দিরে মাসে প্রায় ১৪ কোটি টাকা অনুদান আসত। বাকি মাসগুলিতে অনুদান আসত প্রায় ৮-৯ কোটি টাকা। কিন্তু বর্তমানে সেই অনুদানের পরিমাণ অনেকটাই কমেছে। রামমন্দির ট্রাস্ট সূত্রের খবর, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে অনলাইন, চেক ও নগদ টাকার মাধ্যমে মন্দিরে মোট আয় হয়েছিল ৩২৭.০৭ কোটি টাকা।
মন্দিরের মোট আয়ের ৩২৭.০৭ কোটি টাকার মধ্যে ১৫৩ কোটি টাকা অনুদান থেকে এসেছিল। বাকি ১৭৩ কোটি টাকা এসেছিল মন্দিরের ১৪০০ কোটি টাকার ফিক্সড ডিপোজিটের সুদের টাকা থেকে। এদিকে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে অনুদান হিসেবে জমা পড়েছে ৫ কোটি টাকার বেশি।
তদন্তকারীদের একটি সূত্রের খবর অনুযায়ী, রামমন্দিরে অনুদান চুরির ঘটনায় উত্তরপ্রদেশ পুলিশের স্ক্যানারে শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই রয়েছেন। মহন্ত নৃত্য গোপাল দাস মন্দিরের সভাপতি হলেও আসল ক্ষমতা রয়েছে চম্পত রাইয়ের হাতে। সেই সঙ্গে তদন্তকারী দলের তরফে স্ক্যানারে থাকা সকলকে এলাকা না ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তদন্তে নেমে সিট ইতিমধ্যেই প্রায় ২০০ জনের একটি তালিকা তৈরি করেছে। এর মধ্যে অনেক কর্মীকে ইতিমধ্যেই জেরা করা হয়েছে। বাকিদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অনেকের বয়ানে অসঙ্গতি মেলায় তাঁদেরকে দফায় দফায় ডেকে জেরা করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি মন্দিরের সিসিটিভি রক্ষণাবেক্ষণ ও দর্শনার্থীদের প্রবেশের দায়িত্বে থাকা আধিকারিকদের আগের কাজের রেকর্ড খতিয়ে দেখছে সিট।
উল্লেখ্য, যোগী আদিত্যনাথ এই ঘটনায় তদন্তের জন্য যে সিট গঠন করেছেন তার দায়িত্বে রয়েছেন লখনউয়ের বিভাগীয় কমিশনার বিজয় বিশ্বাস পন্থ, অর্থ দপ্তরের বিশেষ সচিব নীলরতন কুমার ও লখনউ রেঞ্জের আইজি কিরণ এস। দানের টাকা চুরির অভিযোগ উঠতেই মন্দির কর্তৃপক্ষ প্রাথমিকভাবে তদন্ত শুরু করে। রাজ্য সরকারও দ্রুত এই ঘটনায় হস্তক্ষেপ করে তদন্তের নির্দেশ দেয়। এরপরেই এই দুর্নীতির ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের সিট গঠনের নির্দেশ দেন যোগী আদিত্যনাথ।




