তৃণমূলের রাজ্য সভানেত্রীর পদ ছাড়ার পর এবার দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরাসরি বঞ্চনা এবং চরম অপমানের বিস্ফোরক অভিযোগ আনলেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য (Chandrima Bhattacharya)। পদত্যাগের পরেই কার্যত ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন তিনি। সংবাদ মাধ্যমের সামনেই স্পষ্ট ভাষায় তিনি জানিয়ে দিলেন, দলের প্রতি তাঁর শতভাগ আনুগত্যের কোনও দাম তিনি পাননি। শুধু তাই নয়, রাজ্যের অর্থ প্রতিমন্ত্রী (Minister of State for Finance) হওয়া সত্ত্বেও তিনি নিজে বাজেটের (State Budget) বিন্দুবিসর্গ আগে থেকে জানতেন না! রাজ্যবাসী যখন জেনেছে, তিনিও ঠিক তখনই জেনেছেন। দল ছাড়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন তিনি, চোখও ভিজে যায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের সঙ্গীর।
‘আমি হাফপ্যান্ট মন্ত্রী ছিলাম, বারমুডা মন্ত্রী ছিলাম!’
পদ ছাড়ার পর দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, আমি মনে করেছি, আমার কাজটা আমি সঠিকভাবে করেছি। দলনেত্রীকে আমি কখনওই অশ্রদ্ধা করিনি, ভবিষ্যতেও করব না। ভোটের আগেও আমার উপর অনেক দায়িত্ব ছিল, নির্দেশ মতোই মন্ত্রী হিসেবে এবং দলের কর্মী হিসেবে সব কাজ করতাম। কিন্তু আমার মনে হতো আমি যেন হাফপ্যান্ট মন্ত্রী ছিলাম, বারমুডা মন্ত্রী (Barmuda Minister) ছিলাম! আমার মনে হতো, হয়তো আমাকে এবার পূর্ণ মন্ত্রী (Cabinet Minister) করে দিতে পারেন। কিন্তু ঠিক আছে, এখন সেটা নিয়ে আর কোনও কথা বলছি না। অভিমানের সুরে তিনি আরও যোগ করেন, ‘ওঁর (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) যেটা মনে হয়েছে উনি সেটা করেছেন। আমি আমার আনুগত্য দেখানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু যখন ওঁর মনেই প্রশ্নচিহ্ন থেকে যাচ্ছে, তখন ওনার মনকে আর ভারাক্রান্ত করতে চাই না। আমি নিজেও আর এর মধ্যে থাকতে চাই না। আমার মনে হয় আমি সঠিকভাবে আমার কাজ করতে পারিনি, সঠিকভাবে আনুগত্য প্রকাশ করতে পারিনি।
আরও পড়ুন:মমতা শিবিরে তুমুল ধাক্কা: তৃণমূলের রাজ্য সভানেত্রীর পদ ছাড়লেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য
তৃণমূল ভবনে যেতাম, বিধায়করা দেখা করতে আসতেন না
কালীঘাটে দলনেত্রীর বাসভবনে যাওয়ার প্রসঙ্গে চন্দ্রিমা সাফ জানান, ‘আমি সবকিছু ছেড়ে দিচ্ছি। আমি আর কোনও পদে নেই, আমি কালীঘাটেও যাচ্ছি না। আমি বসতাম তৃণমূল ভবনে (Trinamool Bhavan), কারণ আমার ডিউটি সেখানে ছিল। আমি মনে করি সে ডিউটি আমি যথাযথভাবে পালন করেছি। কিন্তু আমার সঙ্গে কোনও বিধায়ক (MLAs) দেখা করতে আসেননি। আমি আমার সময় মতো ওখানে ছিলাম এবং সময়মতো সেখান থেকে বেরিয়েছি। তাঁরা যদি না আসেন, তাহলে তো উপযাচক হয়ে আমি তাঁদের সঙ্গে দেখা করতে যেতে পারি না!
‘অর্থ মন্ত্রী হয়েও বাজেট আগে থেকে জানতাম না!’
সবচেয়ে বড় এবং চাঞ্চল্যকর বোমাটি চন্দ্রিমা ফাটিয়েছেন রাজ্যের বাজেট নিয়ে। রাজ্যের অর্থ প্রতিমন্ত্রী হয়েও তিনি বাজেট তৈরির প্রক্রিয়ায় কতটা উপেক্ষিত ছিলেন, তা প্রকাশ করে তিনি বলেন, বাজেট নিয়ে আমার সঙ্গে কী ডিসকাশন হয়েছে না হয়েছে, সেটা নিয়ে আমি পরে কথা বলব। মাননীয় হয়তো জানেন। সরকারি আধিকারিকরা জানেন ওদের সঙ্গে আমার বাজেট নিয়ে কী আলোচনা হয়েছে। ভয়ঙ্কর ব্যাপার হলো, রাজ্যবাসী যে বাজেট জেনেছে একটু পরে, সেটাই আমি জেনেছি তার ঠিক একটু আগে! আমি স্রেফ বাজেটটা হাউসে রিডিং পড়েছি (Just read the budget)। আমি কোনওদিনই আগে থেকে বাজেট জানতে পারতাম না।
চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের এই নজিরবিহীন বিস্ফোরক বয়ান এবং ‘অনুগত্যের দাম না পাওয়ার’ অভিযোগে এই মুহূর্তে তোলপাড় পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি (West Bengal Politics)। রাজ্যের প্রাক্তণ অর্থ প্রতিমন্ত্রীর এই দাবি রাজ্যের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং তণমূলের অন্দরের একনায়কতন্ত্রকে কাঠগড়ায় তুলে দিল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।




