• facebook
  • twitter
  • youtube
Thursday, 2 July, 2026

Explained: নতুন নিয়মে এবার প্রভিডেন্ট ফান্ড থেকে তোলা যাবে ১০০% টাকা, জাস্ট এই শর্ত মানুন

এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড স্কিম ২০২৬ কার্যকর হয়ে গিয়েছে। ফ্ল্যাট কেনা, ঋণ শোধ, অসুখ-বিয়ে-পড়াশোনায় কত টাকা তোলা যাবে, পেনশনে কী বদল, রইল সবিস্তারে।

Explained: নতুন নিয়মে এবার প্রভিডেন্ট ফান্ড থেকে তোলা যাবে ১০০% টাকা, জাস্ট এই শর্ত মানুন

প্রভিডেন্ট ফান্ডের নিয়ম (প্রতীকী ছবি-Magnific)

মাসের পর মাস বেতন থেকে কেটে জমা পড়া টাকা, ভবিষ্যতের ভরসা বলতেই যা প্রথমে মাথায় আসে, সেই প্রভিডেন্ট ফান্ডের নিয়মে এবার বড়সড় রদবদল ঘটাল কেন্দ্র। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রক (Ministry of Labour and Employment) বুধবার বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়ে দিয়েছে এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড স্কিম, ২০২৬ (EPF Scheme 2026) এর কথা, যা ১৯৫২ সালের পুরনো প্রকল্পের জায়গা নিয়ে ইতিমধ্যেই কার্যকর হয়ে গিয়েছে গত ২৯ জুন থেকে। সোশ্যাল সিকিউরিটি কোডের অধীনে তৈরি এই নতুন কাঠামো তোলার নিয়ম সরল করেছে, ডিজিটাল নজরদারি জোরদার করেছে, আর ছাড়প্রাপ্ত প্রভিডেন্ট ফান্ড ট্রাস্টগুলির জন্য কড়া নিয়ন্ত্রণ নীতিও চালু করেছে। ভাল খবর, বেতন থেকে কাটা বাধ্যতামূলক অংশে কোনও হাত পড়েনি।

কী বদলাল, কী রয়ে গেল 

নিয়োগকর্তা ও কর্মী উভয়ের জন্যই বেতনের ১২ শতাংশ হারে বাধ্যতামূলক জমার নিয়ম অপরিবর্তিত থেকেছে, নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে অবশ্য এখনও কম, অর্থাৎ ১০ শতাংশ হারই বহাল আছে। তবে বদল ঘটেছে তোলার নিয়মে, যেটাই এই সংস্কারের সবচেয়ে বড় দিক।

১৩ থেকে ৩, সরল হল তোলার নিয়ম

আগে আংশিক টাকা তোলার জন্য তেরো রকম আলাদা আলাদা শর্ত ছিল, কাগজপত্রের ঝক্কিও ছিল বিস্তর। এবার সেই তালিকা নেমে এসেছে মোটে তিনটি বড় ভাগে, জরুরি প্রয়োজন, আবাসন এবং বিশেষ পরিস্থিতি। শর্ত একটাই, নিজের ও নিয়োগকর্তার জমার অন্তত ২৫ শতাংশ অ্যাকাউন্টে অক্ষত রাখতে হবে, বাকি অংশ তোলা যাবে। ধরা যাক, কারও যোগ্য জমার পরিমাণ ১ লক্ষ টাকা, তা হলে তাঁকে অ্যাকাউন্টে রাখতে হবে ২৫ হাজার টাকা, বাকি ৭৫ হাজার টাকা তোলার জন্য মিলবে। আগে টানা দীর্ঘদিন চাকরি করার শর্ত ছিল, এখন মাত্র বারো মাস কাজের অভিজ্ঞতা থাকলেই আংশিক টাকা তোলা যাবে।

ফ্ল্যাট কেনা থেকে ঋণ শোধ, আবাসনে বাড়তি সুবিধা

কলকাতা বা জেলা শহরে ফ্ল্যাট কেনার স্বপ্ন থাকা বহু চাকুরিজীবীর জন্য এই অংশটাই সবচেয়ে কাজের। বাড়ি বা ফ্ল্যাট কেনা, জমি কেনা, বাড়ি তৈরি, গৃহঋণ শোধ কিংবা মেরামতির মতো একাধিক প্রয়োজনে এবার প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা ব্যবহার করা যাবে। রাজারহাট, নিউটাউন বা সল্টলেকের মতো এলাকায় যাঁরা গৃহঋণের কিস্তি (EMI) নিয়ে চাপে থাকেন, তাঁদের জন্য এই সংস্কার সরাসরি স্বস্তির খবর।

অসুখ, বিয়ে বা পড়াশোনার জন্য কতটা মিলবে

অসুখ, শিক্ষা এবং বিয়ের মতো জরুরি প্রয়োজনে যোগ্য জমার সম্পূর্ণ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত তোলার সুযোগ থাকছে, নির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষে। শিক্ষার জন্য এখন দশবার পর্যন্ত এবং বিয়ের জন্য পাঁচবার পর্যন্ত টাকা তোলা যাবে, আগে যা মিলিয়ে মোট তিনবারের মধ্যেই আটকে ছিল। বিশেষ পরিস্থিতির ক্ষেত্রে আলাদা করে কোনও কারণ দর্শাতেও হবে না এখন থেকে।

পেনশনে অপেক্ষা বাড়ল, কাদের দুশ্চিন্তা বেশি

সব খবরই অবশ্য স্বস্তির নয়। এমপ্লয়িজ পেনশন স্কিম বা ইপিএস (EPS) থেকে টাকা তোলার জন্য অপেক্ষার মেয়াদ দুই মাস থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ছত্রিশ মাস, অর্থাৎ প্রায় তিন বছর। চাকরি হারিয়ে অল্প কয়েক মাসের মধ্যেই যাঁরা পেনশনের টাকায় হাত দেওয়ার কথা ভাবতেন, তাঁদের জন্য এটা রীতিমতো দুশ্চিন্তার কারণ হতে পারে, যদিও দীর্ঘমেয়াদে এতে অবসরকালীন সঞ্চয় সুরক্ষিত থাকার কথাই বলছে সরকার।

ইউপিআই, হোয়াটসঅ্যাপে সরাসরি হাতে টাকা

প্রযুক্তির দিক থেকেও বড় পদক্ষেপ নিয়েছে ইপিএফও (EPFO)। সরাসরি ইউনিফায়েড পেমেন্টস ইন্টারফেস বা ইউপিআই (UPI) মারফত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা পাঠানোর সুবিধার পরীক্ষা ইতিমধ্যেই সম্পূর্ণ হয়েছে। পাশাপাশি আগামী মাসের মধ্যেই হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমেও পরিষেবা চালু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যাতে গ্রাহক-পরিষেবা আরও সহজ হয়। যাচাই করা হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে শুধু একটা ‘হ্যালো’ লিখে পাঠালেই মিলবে ব্যালেন্স দেখা, শেষ পাঁচটি লেনদেনের হিসেব বা দাবির অবস্থা জানার সুযোগ, আঞ্চলিক ভাষাতেও। এ ছাড়া উমঙ্গ অ্যাপে (UMANG App) বায়োমেট্রিক ব্যবস্থায় ইউএএন সক্রিয় করার সুবিধা এবং পাসবুক লাইট (Passbook Lite) নামে সরল ব্যালেন্স-দেখার পরিষেবাও চালু হয়েছে।

বেতনসীমার ঊর্ধ্বে স্বেচ্ছা-জমা, নতুন নমনীয়তা

বেতনসীমার উপরে যাঁদের আয়, তাঁদের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক জমা নির্দিষ্ট সীমাতেই আটকে থাকছে, তবে চাইলে স্বেচ্ছায় বাড়তি হারে জমা রাখার সুযোগ পাবেন কর্মীরা, নিয়োগকর্তার অবশ্য তা মেলানোর কোনও বাধ্যবাধকতা নেই। কস্ট-টু-কোম্পানি (CTC) কাঠামোয় বেতন পান, এমন বেসরকারি কর্মীদের জন্য এই নমনীয়তা বেতন পরিকল্পনার ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ খুলে দিতে পারে। উল্লেখ্য, চলতি অর্থবর্ষেও প্রভিডেন্ট ফান্ডে সুদের হার ৮.২৫ শতাংশই বহাল রাখা হয়েছে, টানা দ্বিতীয় বছর একই হার বজায় রইল বলে জানিয়েছে ইপিএফও।

পশ্চিমবঙ্গের কর্মীদের জন্য এর অর্থ কী

রাজ্যের সংগঠিত ক্ষেত্র, আইটি-বিপিও থেকে শুরু করে চা বাগান বা জুট মিলের স্থায়ী কর্মী, সব জায়গাতেই প্রভিডেন্ট ফান্ডের সঙ্গে যুক্ত লক্ষ লক্ষ মানুষ। ঘর কেনা বা ঋণ শোধের নতুন সুযোগ যেমন স্বস্তির, তেমনই পেনশনের অপেক্ষা বেড়ে যাওয়াটা ঘন ঘন চাকরি বদলানো তরুণ কর্মীদের জন্য মাথায় রাখার মতো বিষয়। নতুন নিয়ম হাতে কলমে বুঝতে হলে নিজের ইউএএন লগ-ইন করে বর্তমান জমার পরিমাণ ও যোগ্য ব্যালেন্স আগে থেকে যাচাই করে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।