• facebook
  • twitter
  • youtube
Sunday, 28 June, 2026

‘সেলিব্রেটি স্ট্যাটাস আপনার দরকার ছিল’, মমতাকে কড়া বাক্যবাণ রচনার

এবার সরাসরি তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশেই কড়া ভাষায় তোপ দাগলেন তারকা সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়

‘সেলিব্রেটি স্ট্যাটাস আপনার দরকার ছিল’, মমতাকে কড়া বাক্যবাণ রচনার

ক্ষমতা থেকে সরে গিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। আর তারপর থেকে ভেঙে খান খান হয়ে গিয়েছে ঘাসফুল শিবির। সাংসদরা একসঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে সরে গিয়ে পৃথক দল এনসিপিআই-তে যোগ দিয়েছেন। বিধায়কদের একাংশও নিজেদের আসল তৃণমূল বলে দাবি করে বিধানসভায় জায়গা করে নিয়েছেন। এখন দলের প্রতীক এবং তহবিলও কেড়ে নিতে চাইছেন। সব মিলিয়ে জটিল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীক ছাড়া তাঁরা কি জিততেন? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ ছাড়া সংসদে এবং বিধানসভায় যেতে পারতেন? রাজ্য-রাজনীতি এখন এই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এই আবহে এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কড়া বাক্যবাণ নিক্ষেপ করলেন অভিনেত্রী-সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এদিকে এতদিন ধরে বিদ্রোহীরা নিশানা করেছেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এবার সরাসরি তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশেই কড়া ভাষায় তোপ দাগলেন তারকা সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। কারণ কখনও সাংসদ মহুয়া মৈত্র, কখনও সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অথবা বিধায়ক কুণাল ঘোষ, সকলেই এমন প্রশ্ন তুলে তাঁদের তুলোধনা করছেন। সেখানে রবিবার সংবাদমাধ্যমে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাল্টা তোপ, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা তৃণমূলের প্রতীকে আমি শুধু জিতিনি, তারকা মুখ বলেই আমি জয়ী হয়েছি। দলের মুখ অবশ্যই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু হুগলি জেতার জন্য আপনার সেলিব্রিটি দরকার ছিল। না হলে কেন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়? কেন ফুটপাথ থেকে কাউকে তুলে নিয়ে গিয়ে হুগলিতে দাঁড় করালেন না? আমি রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেই আজ হুগলি তৃণমূলের হয়েছে। আপনি আমাকে ইউজ করেননি?’

অন্যদিকে সংসদে এখন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮। রাজ্যসভা থেকেও তিনজন সাংসদ পদত্যাগ করেছেন। সুতরং সেখানেও সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০। আর বিধায়ক সংখ্যা একধাক্কায় নেমে গিয়েছে ৮০ থেকে ২০। এই পরিস্থিতিতে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাক্যবাণ, ‘সবাই বলছে তৃণমূলের লোগো ছিল বলে আমরা সবাই জিতেছি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ ছিল বলে জিতেছি। মমতা অবশ্যই মুখ, কিন্তু রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় না থাকলে হুগলি জেলা আসত না। ভোটে জেতার জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রয়োজন ছিল কোনও তারকা মুখ। আর আমি জনপ্রিয় তারকা বলেই হুগলি থেকে বিজেপির লকেট চট্টোপাধ্যায়কে হারাতে আমাকে তুরুপের তাস হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছে। আপনি আমাকে ইউজ করেননি?’

তাছাড়া সামনে একুশে জুলাই। সেটা যে এবার আগের মতো জৌলুস থাকবে না তেমনটাই মনে করছেন অনেকে। এখন আর এত সাংসদ-বিধায়ক নেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে। এই আবহে সেলিব্রেটিরাও তেমন থাকবে না। তারকাদের দরকার ছিল বলেই তৃণমূল কংগ্রেসে নেওয়া হয়েছে বলে মনে করেন নায়িকা। তাই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করে রবিবার রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘ওঁর যদি এত দম, তাহলে নিজের ছেলেকে বিধানসভা ভোটে জেতাতে পারলেন না কেন? এতদিন তাঁর বিরুদ্ধে মমতার কাছে বারবার জানিয়েও লাভ হয়নি। তিনি কল্যাণের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করেননি। আগে যদি জানতাম দলের বিরুদ্ধে বালিচুরি, কয়লাচুরি, মাটিচুরির অভিযোগ রয়েছে তাহলে হয়ত তৃণমূলেই যোগদান করতাম না।’ পাল্টা বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষের জবাব, ‘এইসব এলিমেন্টকে সাংসদ করেছে। ওকে দিদি নম্বর ওয়ান থেকে বাদ দিয়েছে। ওর মাথার ঠিক নেই। অতই যদি দম সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে বিদ্রোহ করুন না।’