ঘরের বাইরে বেরোলেই কি জনরোষের মুখে পড়ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? মঙ্গলবার শ্যামবাজারের পরিস্থিতি দেখে অন্তত তেমনটাই মনে করছেন অনেকে। হালিশহরের পর এবার কলকাতার শ্যামবাজার। সেখানে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে উঠল ‘চোর, চোর’ স্লোগান। মঙ্গলবার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মূর্তিতে মাল্যদানের পরেই ওই স্লোগান ওঠে বলে অভিযোগ। ঘটনাকে ঘিরে ফের তৃণমূল-বিজেপি রাজনৈতিক সংঘাত শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার স্বাধীনতা সংগ্রামী ক্ষুদিরাম বসুর একটি প্রতিকৃতি সঙ্গে নিয়ে শ্যামবাজারে পৌঁছন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে নেতাজির মূর্তিতে মাল্যদান করে শ্রদ্ধা জানান তিনি। নেতাজি, মহাত্মা গান্ধী এবং মাতঙ্গিনী হাজরার কথাও স্মরণ করেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। মমতা জানান, তৃণমূল শুধু দেখানোর জন্য কর্মসূচি করে না। স্বাধীনতা সংগ্রামীদের প্রতি তাঁদের শ্রদ্ধা আসে হৃদয় থেকে।
মাল্যদান পর্ব শেষ হওয়ার পরেই আচমকা ভিড়ের মধ্যে থেকে ‘চোর, চোর’ স্লোগান উঠতে শুরু করে বলে অভিযোগ। ঘটনাস্থলে এক ব্যক্তিকে রাস্তায় বসে হাততালি দিয়ে স্লোগান দিতে দেখা যায়। তাঁকে প্রশ্ন করা হলে ওই ব্যক্তির দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন মালা দিচ্ছিলেন, তখন তাঁরা নীরব ছিলেন। পরে স্লোগান দেওয়া হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, ‘চোরকে চোর বলতে হবে।’
তৃণমূলের অভিযোগ, গোটা ঘটনাটির নেপথ্যে বিজেপি কর্মীরা রয়েছেন। তাদের দাবি, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে ঘিরে বিজেপি কর্মীরাই বিক্ষোভ দেখান এবং তাঁকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করেন। বিক্ষোভের জেরে মমতা পরে গাড়িতে উঠে ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যান। তাঁর চলে যাওয়ার পরেও কিছুক্ষণ ওই প্রতিবাদ চলতে থাকে বলে তৃণমূলের অভিযোগ।
এর কয়েকদিন আগেই হালিশহরে মমতার গাড়ির কনভয়কে লক্ষ্য করে কাদা এবং জুতো ছোড়ার অভিযোগ উঠেছিল। সেই ঘটনাতেও ‘চোর’ স্লোগান শোনা গিয়েছিল বলে দাবি করা হয়। তারপরেই কলকাতার বুকে ফের একই ধরনের স্লোগান ওঠায় রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বেড়েছে।
আরও পড়ুন: অফিস টাইমে মেট্রো বিভ্রাট, ব্যাহত পরিষেবা, ভোগান্তির মুখে যাত্রীরা
তৃণমূলের অভিযোগ, পরিকল্পিত ভাবে এ ধরনের বিক্ষোভ করে দলের নেতা-নেত্রীদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। যদিও এই অভিযোগ নিয়ে বিজেপির বক্তব্য এখনও সামনে আসেনি। হালিশহরের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই শ্যামবাজারের এই ঘটনা রাজ্যের শাসকদল এবং বিজেপির মধ্যে রাজনৈতিক সংঘাতকে আরও তীব্র করল।




