অভিনেত্রী ও প্রাক্তন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মিমি চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআরের ওপর অন্তবর্তীকালীন স্থগিতাদেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি কৌশিক চন্দের নির্দেশ, আপাতত তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কড়া আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারবে না রাজ্য পুলিশ।
বনগাঁর একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে প্রাক্তন সাংসদ, অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন আয়োজক তনয় শাস্ত্রী। তাঁর দাবি, অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য পারিশ্রমিক গ্রহণ করলেও নির্ধারিত সময়ে আসেননি অভিনেত্রী। গত ১১ জুন ২০২৬ বনগাঁ থানায় এ বিষয়ে অভিযোগ দায়ের করেন তনয় শাস্ত্রী।
তনয় শাস্ত্রীর আরও অভিযোগ, তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তাঁকে অন্যায়ভাবে মামলায় জড়ানো হয়েছিল। তাঁর দাবি, সে সময় মিমি চক্রবর্তী সাংসদ থাকাকালীন রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। বর্তমানে নতুন করে ন্যায়বিচারের আশায় তিনি পুলিশ সুপার ও বনগাঁ থানার দ্বারস্থ হয়েছেন।
তাঁর বক্তব্য, ‘বিনা দোষে কাউকে ফাঁসানো হলে আইনের মাধ্যমেই তার বিচার হওয়া উচিত।’ তনয় শাস্ত্রী আরও জানান, বনগাঁ আদালতে আগেই দায়ের করা মামলাটি প্রত্যাহারের আবেদন করা হয়েছে। কারণ এবার তিনি থানার সহযোগিতায় মামলাটি এগিয়ে নিয়ে যেতে চান।
মামলার বয়ান অনুযায়ী, বনগাঁর নয়াগোপালগঞ্জে আয়োজিত বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে পৌঁছেছিলেন মিমি চক্রবর্তী। এর ফলে অনুষ্ঠান পরিচালনায় বিঘ্ন ঘটে এবং তাঁর সামাজিক সম্মানহানি হয়েছে বলে দাবি করেন তনয় শাস্ত্রী। তিনি পারিশ্রমিকের অর্থ ফেরত, মানহানির অভিযোগে ২০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ এবং মিথ্যা হেনস্থার অভিযোগ আনার জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তারপরেই সুরক্ষা চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন মিমি। সেখানেই আদালত জানিয়েছে, পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ করা যাবে না।
গত ২৫ জানুয়ারি বনগাঁর নয়াগোপালগঞ্জ যুবক সংঘের বার্ষিক অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত ছিলেন অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী। রাতে সসাড়ডে ১০ টা নাগাদ তাঁর মঞ্চে ওঠার কথা থাকলেও ক্লাব সসদস্যদের দাবি, তিনি প্রায় ১ ঘন্টা দেরি করে অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন। মঞ্চে উঠতে উঠতে রাত পৌনে ১২টা বেজে যায় বলে অভিযোগ।
আয়োজকদের বক্তব্য, অনুষ্ঠানটির অনুমতি ছিল রাত ১২টা পর্যন্ত। ফলে সময়সীমা শেষ হয়ে আসায় মিমিকে মঞ্চ থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে অভিনেত্রীকে হেনস্থারক অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। তদন্তে নেমে বনগা থানার পুলিশ তনয়কে ধরতে গেলে বাধার মুখে পড়তে হয় বলে অভিযোগ। তাকে থানায় নিয়ে যাওয়ার সময়ে পুলিশকে বেগ পেতে হয়েছিল।




