ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি- আলোচনায় যোগ দিতে আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স সুইৎজারল্যান্ডে যাচ্ছেন না। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ দুই প্রতিনিধি ইতিমধ্যেই আলোচনার প্রস্তুতি শুরু করেছেন। ট্রাম্পের জামাতা জারেড কুশনার সুইজারল্যান্ডে পৌঁছে গিয়েছেন। সেই সঙ্গে বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফও ইউরোপের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন।
ইরানের তরফে আলোচনায় বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। শনিবার তাঁর ইউরোপে যাওয়ারর কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে সেই পরিকল্পনায় পরিবর্তন আসতে পারে বলে কূটনৈতিক সূত্রের দাবি।
এরই মধ্যে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ১৪ দফার একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ভার্চুয়াল মাধ্যমে ওই নথিতে সই করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
মূলত শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে দুই দেশের প্রথম বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তা স্থগিত হয়ে যায়। একই সময়ে সফর বাতিল করেন ভান্সও। এর ফলে আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। যদিও হোয়াইট হাউস বৈঠক পিছিয়ে যাওয়ার কারণ প্রকাশ করেনি। আন্তর্জাতিক মহলের ধারণা ছিল লেবাননে ইজরায়েল ও হিজবুল্লার সংঘর্ষই প্রধান বাধা।
শুক্রবার সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। ইজরায়েল ও হিজবুল্লা উভয় পক্ষই সংঘর্ষ বিরতিতে সম্মত হয়েছে বলে খবর। ফলে আমেরিকা-ইরান আলোচনার পথ প্রশস্ত হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এর আগে গত রবিবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ঘোষণা করেছিলেন যে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে সমঝোতা চূড়ান্ত হয়েছে। পরে ওয়াশিংটন ও তেহরানও সেই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে। তবে লেবাননের পরিস্থিতি নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছিল। চার ইজরায়েলি সেনার মৃত্যুর ঘটনায় হিজবুল্লাকে দায়ী করে দক্ষিণ লেবাননে ব্যাপক বিমান হামলা চালায় ইজরায়েল। এতে ৪৭ জনের মৃত্যু হয় বলে জানা গিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল, লেবাননে ইজরায়েলি হামলা বন্ধ না হলে কোনও সমঝোতা সম্ভব নয়। সূত্রের দাবি, ট্রাম্প ইজরায়েলি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করেন। এরপরই সংঘর্ষ বিরতির ঘোষণা আসে। কাতার ও আমেরিকার মধ্যস্থতায় এই সমঝোতা সম্ভব হয়েছে বলে খবর।
সুইজারল্যান্ড বৈঠকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় হতে চলেছে। হরমুজ প্রণালীর অবরোধ প্রত্যাহার বা লেবাননের পরিস্থিতি নিয়ে কিছু অগ্রগতি হলেও পরমাণু ইস্যুতে এখনও দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য রয়ে গিয়েছে। ফলে দীর্ঘদিনের এই সংঘাতের স্থায়ী সমাধান অনেকটাই নির্ভর করছে সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বৈঠকের ফলাফলের উপর। যদিও এর আগে পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত এক দফা সরাসরি আলোচনা ব্যর্থ হয়েছিল।




