মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দীর্ঘ আলোচনার পর আপাতত যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে ইজরায়েল ও লেবানন। দু’দিনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর বুধবার দুই দেশ যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার বিষয়ে নীতিগত সম্মতি দিয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এই সমঝোতার সাফল্য অনেকটাই নির্ভর করছে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লার ভূমিকার উপর।
যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, হিজবুল্লাহকে সম্পূর্ণভাবে হামলা বন্ধ করতে হবে এবং দক্ষিণ লেবাননের লিতানি নদী সংলগ্ন এলাকা থেকে তাদের সদস্য এবং সামরিক তৎপরতা সরিয়ে নিতে হবে। ওই অঞ্চল শুধুমাত্র লেবাননের সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ থাকবে। তবে লেবানন সরকার যুদ্ধবিরতিতে সম্মতি দিলেও হিজবুল্লাহ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে এই সমঝোতা নিয়ে কোনও মন্তব্য করেনি।
গত কয়েক মাস ধরে ইজরায়েল-লেবানন সীমান্তে উত্তেজনা ক্রমশ বেড়েই চলেছে। মার্চ মাসে হিজবুল্লাহর হামলার পর লেবাননে সামরিক অভিযান জোরদার করে ইজরায়েল। এর ফলে দুই পক্ষের মধ্যে নিয়মিত রকেট, ড্রোন ও বিমান হামলার ঘটনা ঘটতে থাকে। যুদ্ধবিরতির আগের দিনও সংঘর্ষ থামেনি।
এই সংঘাততে ঘিরে আন্তর্জাতিক কূটনীতিও জটিল হয়ে ওঠে। ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল, লেবাননে ইজরায়েলি হামলা চলতে থাকলে বৃহত্তর কোনও আঞ্চলিক সমঝোতা সম্ভব নয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সম্প্রতি লেবাননের পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং উত্তেজনা কমানোর উপর জোর দেন।
এদিকে সংঘাতের কারণে লেবাননের সাধারণ মানুষ, স্বাস্থ্যকর্মী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদেরও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে লেবাননের সেনাবাহিনীকে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের তরফে জানানো হয়েছে, আগামী ২২ জুন বা তার পরবর্তী সময়ে দুই দেশ আবার বৈঠকে বসবে। সেই বৈঠকে আরও বিস্তৃতভাবে এবং স্থায়ী চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হবে।
তবে এই যুদ্ধবিরতির নেপথ্যে রয়েছে আরও বড় কূটনৈতিক সমীকরণ। সম্প্রতি যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে লেবাননে হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে ইজরায়েলের বিরুদ্ধে। সেই ঘটনায় ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি নেতানিয়াহুকে কড়া ভাষায় সমালোচনাও করেন। প্রসঙ্গত, ইরান এবং আমেরিকার মধ্যে শান্তিচুক্তির অন্যতম শর্ত, লেবাননে ইজরায়েলের হামলা বন্ধ করতে হবে। ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজ়বুল্লাকে নিশানা করা যাবে না। ইরান চুক্তির পথে ট্রাম্পের অন্যতম ‘বাধা’ হয়ে উঠেছে লেবানন সমস্যা।




