• facebook
  • twitter
Saturday, 14 February, 2026

১০ দিনে গ্রেপ্তার না হলে মহারাষ্ট্রে যাবে প্রতিনিধিদল

সুখেনের বাড়ি থেকে বার্তা অভিষেকের

মহারাষ্ট্রে পুরুলিয়ার পরিযায়ী শ্রমিক সুখেন মাহাতোর রহস্যমৃত্যুকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। বাংলা ভাষায় কথা বলার কারণেই তাঁকে খুন করা হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। শুক্রবার পুরুলিয়ার বরাবাজার থানার তুমড়াশোলের বাঁধডি এলাকায় নিহতের বাড়িতে পৌঁছে পরিবারের পাশে দাঁড়ান তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি। শেষকৃত্যেও তিনি উপস্থিত ছিলেন এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন।

অভিষেকের বক্তব্য, ঘটনাটির দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে মহারাষ্ট্র পুলিশকে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করতে হবে এবং কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি শাসিত বিভিন্ন রাজ্যে গুরুতর অপরাধের ঘটনায় অনেক সময় অভিযুক্তরা দ্রুত জামিন পেয়ে যায়। এই ঘটনায় যাতে সেই পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে দিকেও সতর্ক থাকতে হবে। তাঁর কথায়, “খুনের মামলায় কাউকে ধরে পাঁচ-সাত দিনের জন্য জেলে রেখে পরে জামিন দিয়ে দিলে চলবে না। জামিন হলেও তার বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালাতে হবে।”

Advertisement

তিনি আরও বলেন, যদি মহারাষ্ট্র পুলিশ তদন্তে অক্ষমতা বোধ করে, তাহলে মামলা বাংলায় হস্তান্তর করা যেতে পারে। সেই ক্ষেত্রে ৫০ দিনের মধ্যে পদক্ষেপ নিয়ে ফল দেখানো হবে বলেও দাবি করেন তিনি। একইসঙ্গে হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, আগামী দশ দিনের মধ্যে দোষীরা গ্রেফতার না হলে তৃণমূলের ছয়-সাত জন বিধায়কের একটি প্রতিনিধি দল নিহতের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মহারাষ্ট্রে যাবে এবং সেখানে গিয়ে ন্যায়বিচারের দাবি জানাবে।

Advertisement

পুরুলিয়ার সাংসদ হিসেবে বিজেপি নেতা জ্যোতির্ময় মাহাতোর ভূমিকাও উল্লেখ করেন অভিষেক। তাঁর আহ্বান, দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে অন্তত একবার মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী এবং দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে এই ঘটনার সুবিচার নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিন বিজেপি সাংসদ। তিনি অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় প্রকল্পের অর্থ বন্ধের প্রশ্নে দিল্লিতে সরব থাকা বিজেপি নেতাদের এই ঘটনায় নীরবতা চোখে পড়ার মতো।
ঘটনার বিবরণ তুলে ধরে অভিষেক জানান, ২০০৯ সাল থেকে সুখেন ও তাঁর দুই ভাই পুনের একটি গাড়ির যন্ত্রাংশ প্রস্তুতকারী সংস্থায় কাজ করছিলেন। প্রতিদিন বিকেল সাড়ে তিনটের শিফটে কাজে যেতেন সুখেন। ঘটনার দিন বিকেল তিনটে নাগাদ বাড়ি থেকে বেরোলেও কর্মস্থলে পৌঁছননি। সন্ধ্যায় দাদা ফোন করলে যোগাযোগ করা যায়নি। পরে পুলিশ ফোন করে অসুস্থতার খবর দেয়। গিয়ে দেখা যায়, দেহে একাধিক আঘাতের চিহ্ন। তাঁর কথায়, “কীভাবে মারা গিয়েছেন তা তদন্তে স্পষ্ট হবে, তবে শরীরের ক্ষতচিহ্ন দেখে খুনের সন্দেহ জোরালো।”

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুরে পুণের শিকরাপুর থানার কোরেগাঁও ভিমা এলাকা থেকে তাঁর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়। মদ্যপ অবস্থায় দুই ব্যক্তির সঙ্গে বচসার ঘটনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও তদন্তের অগ্রগতির অপেক্ষায় পরিবার।

অভিষেক আরও বলেন, বাংলায় বহু ভিনরাজ্যের শ্রমিক কাজ করেন, কিন্তু এখানে তাঁদের উপর কোনও রকম অত্যাচারের নজির নেই। “আমরা বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যে বিশ্বাস করি। সবার ওপরে মানুষ সত্য,” মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর দাবি, গত কয়েক মাসে একটি ‘বাংলা বিদ্বেষী’ মানসিকতার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, বিশেষত কিছু বিজেপি শাসিত রাজ্যে। বাংলায় কথা বললেই কাউকে বাংলাদেশি তকমা দেওয়ার প্রবণতারও সমালোচনা করেন তিনি।

নিহতের দুই ভাই, যারা এখনও পুণেতে কাজ করেন, এই ঘটনার পর আর ভিনরাজ্যে ফিরতে চান না বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে। তাঁদের জন্য পুরুলিয়াতেই চাকরির ব্যবস্থা করার আবেদন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে জানাবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন অভিষেক। একইসঙ্গে তিনি বলেন, প্রয়োজনে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী ও দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গেও কথা বলবেন।

সবশেষে তিনি জানান, কঠোর শাস্তির দাবিতে আগামীকাল বিকেল ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে জেলার প্রতিটি বিধানসভা, ব্লক ও শহরে প্রতিবাদ মিছিল সংগঠিত করা হবে। তিনি বিজেপি, কংগ্রেস ও সিপিআই(এম)-সহ সকল রাজনৈতিক দলের জনপ্রতিনিধিদের মহারাষ্ট্র ও কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে চিঠি
লিখে পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

Advertisement