• facebook
  • twitter
Tuesday, 20 January, 2026

প্রয়াত প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কালমাডি, বয়স হয়েছিল ৮১ বছর

২০১০ সালে দিল্লিতে আয়োজিত কমনওয়েলথ গেমসে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল প্রয়াত নেতার বিরুদ্ধে। তার জন্য গ্রেপ্তার হয়েছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী

প্রয়াত প্রাক্তন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী তথা প্রবীণ কংগ্রেস নেতা সুরেশ কালমাডি। পুণের দীননাথ মঙ্গেশকর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন প্রাক্তন কংগ্রেস নেতা। মঙ্গলবার সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যা এবং দীর্ঘদিন ধরে রোগে ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৮১। দীর্ঘ ১৬ বছর ভারতীয় অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ছিলেন তিনি। ২০১০ সালে দিল্লিতে আয়োজিত কমনওয়েলথ গেমসে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল প্রয়াত নেতার বিরুদ্ধে। তার জন্য গ্রেপ্তার হয়েছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী।

মঙ্গলবার বিকেলেই কালমাডির শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে পুণের বৈকুণ্ঠ শ্মশানভূমিতে। স্ত্রী, পুত্র-পুত্রবধূ, কন্যা-জামাই, নাতি-নাতনি রয়েছেন প্রয়াত কালমাডির পরিবারে। শেষকৃত্যের আগে কালমাডি হাউসে প্রয়াত নেতার দেহ রাখা থাকবে শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের জন্য। উল্লেখ্য, কংগ্রেস নেতা হিসাবে পুণেতে অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলেন কালমাডি।

Advertisement

জন্ম ম্যাঙ্গালোরে। ভারতীয় বায়ুসেনার পাইলট হিসাবে কর্মজীবনের শুরু। ১৯৭০-এর দশকে রাজনীতির আঙিনায় পা রাখেন এই নেতা। ১৯৭৭ সালে পুণেতে ভারতীয় যুব কংগ্রেসের সভাপতি হন। পরের বছর মহারাষ্ট্র যুব কংগ্রেসের সভাপতির দায়িত্বগ্রহণ করেন। ১৯৮২ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত তিন মেয়াদে রাজ্যসভার সদস্য হন, ফের নির্বাচিত হন ১৯৯৮ সালেও। ১৯৯৬, ২০০৪ এবং ২০০৯ সালে তিন বার পুণের সাংসদ নির্বাচিত হন। প্রধানমন্ত্রী পিভি নরসিংহ রাওয়ের আমলে ১৯৯৫ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত রেল প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছিলেন কালমাডি।

Advertisement

রেলের প্রতিমন্ত্রী থাকলেও ভারতীয় ক্রীড়াদুনিয়াতেই কালমাডির পরিচিতি বেশি ছিল। ১৯৯৬ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত ভারতীয় অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (আইওএ)-এর সভাপতি ছিলেন তিনি। ২০০০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ছিলেন এশিয়ান অ্যাথলেটিক্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি। ২০১০ সালে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ গেমসে বড়সড় দুর্নীতিতে নাম জড়িয়ে যায় কালমাডির। ২০১১ সালে কালমাডি গ্রেপ্তার হন। দল থেকে কালমাডিকে বহিষ্কার করে কংগ্রেস। পরে ২০১৬ সালে অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের লাইফ প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন কালমাডি। কিন্তু সেই নির্বাচন ঘিরে তদন্তের নির্দেশ দেয় ক্রীড়ামন্ত্রী। তার জেরে পদ গ্রহণ করেননি কালমাডি।

তবে মৃত্যুর আগে কমনওয়েলথ গেমস দুর্নীতি থেকে কার্যত ক্লিনচিট পেয়েছেন কালমাডি। ২০২৫ সালের এপ্রিলে দিল্লির এক আদালতে ২০১০ কমনওয়েলথ গেমস আয়োজক কমিটির প্রধান এবং তৎকালীন মহাসচিব ললিত ভানোট এবং অন্যদের বিরুদ্ধে মামলায় ‘ক্লোজার রিপোর্ট’ জমা দিয়েছে ইডি। ওই রিপোর্টে স্পষ্ট বলে দেওয়া হয়েছে, দীর্ঘ তদন্তের পরও কমনওয়েলথ মামলায় কোনও আর্থিক দুর্নীতির প্রমাণ মেলেনি। ইডির সেই ক্লোজার রিপোর্ট গ্রহণ করেছে আদালত। এই মামলায় সিবিআই ২০১৪ সালেই ক্লোজার রিপোর্ট দিয়েছে। সিবিআইও কমনওয়েলথ গেমসে কোনও দুর্নীতি পায়নি। ফলে ১৫ বছরের পুরনো এই মামলার অবসান হয়েছে।

 

Advertisement