• facebook
  • twitter
  • youtube
Sunday, 5 July, 2026

১৭তম ওভারেই ম্যাচ হাতছাড়া! হারের পর অকপট শ্রেয়স, বেটেলের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ভারত অধিনায়ক

দেশের ও বিদেশের প্রাক্তন ক্রিকেটাররা ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্টের এই সিদ্ধান্তের প্রবল সমালোচনাও করেন। শুক্রবার ভারতীয় দলের নেটে গৌতম গম্ভীরকেই বৈভবের বিরুদ্ধে বোলিং করতে দেখা যায়।

১৭তম ওভারেই ম্যাচ হাতছাড়া! হারের পর অকপট শ্রেয়স, বেটেলের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ভারত অধিনায়ক

Photo: BCCI X handle

ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে দ্বিতীয় টি-২০-তে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে জয়ের খুব কাছে গিয়েও শেষ পর্যন্ত চার উইকেটে হার মানতে হল ভারতকে। এক ওভার বাকি থাকতেই ১৯১ রানের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় ইংল্যান্ড। ম্যাচ শেষে হতাশ হলেও দলের কোনও ক্রিকেটারকে দোষ দিতে রাজি নন ভারত অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার। তাঁর মতে, একটি ওভারই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে।

ইংল্যান্ডের রান তাড়া শুরুর প্রথম ওভারেই ২ রানে ১ উইকেট তুলে নিয়ে চাপে ফেলেছিল ভারত। মাঝের ওভারগুলিতেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল ভারতের হাতেই। কিন্তু জ্যাকব বেথেলের অপরাজিত ৭৬ রানের ইনিংস এবং রবি বিষ্ণোইয়ের ১৭তম ওভারে তিনি ঝড়ের গতিতে ২৯ রান তুলে হঠাৎই পাল্টে দেন ম্যাচের ছবি। সেই ওভারই শেষ পর্যন্ত ভারতের হারের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট নিয়ে প্রশ্ন করা হলে অধিনায়ক শ্রেয়স বলেন, “আমার মনে হয় আমরা সবাই জানি, ঠিক কোথায় ম্যাচটা আমাদের হাতছাড়া হয়েছে। কিন্তু আমি কোনও নির্দিষ্ট খেলোয়াড়ের দিকে আঙুল তুলতে চাই না। প্রথম নো-বলের পরও আমার বিশ্বাস ছিল, রবি দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়াবে। কিন্তু ১৭তম ওভারটা আমাদের তাড়া করে বেড়াবে। তবে রবি এই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেবে।”

ভারতীয় অধিনায়কের মতে, ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের কঠিন উইকেটে ১৯০ রান ছাড়ানো মোটেই সহজ ছিল না। তিনি বলেন, “এই উইকেটে, যেখানে কখনও বল নিচু থাকছিল আবার কখনও অতিরিক্ত বাউন্স করছিল, সেখানে এই রানটা অসাধারণ ছিল। প্রথম ১৫ ওভার পর্যন্ত ম্যাচ পুরোপুরি আমাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। কিন্তু তারপর জ্যাকব যেভাবে ব্যাট করল, তার কৃতিত্ব ওকেই দিতে হবে।”

বিশেষ করে স্পিনারদের বিরুদ্ধে শেষের দিকে বেথেলের নির্ভুল আক্রমণাত্মক ব্যাটিংই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। শ্রেয়সের মতে, শুরুতেই মাঠের সীমানা এবং উইকেটের চরিত্র বুঝে নেওয়ার সুফল পেয়েছে ইংল্যান্ড।

তাঁর কথায়, “ওরা শুরুতেই মাঠের সীমানা এবং উইকেটের চরিত্র খুব ভালোভাবে বিশ্লেষণ করে নিয়েছিল।” বেথেলের নির্ভীক মানসিকতা বিশেষভাবে মুগ্ধ করে ভারত অধিনায়ককে। তাঁর কথায়, “ওর মধ্যে একেবারে নির্ভীক মানসিকতা রয়েছে। ও কোনও কিছুকেই ভয় পায় না। নেটে ও যেভাবে ব্যাট করে, সেখান থেকেও অনেক কিছু শেখার আছে। আমি একবারও মনে করিনি যে ও কোনও চাপ বা নার্ভাসনেস অনুভব করছে।”

ব্যাট হাতে বেটেলের প্রশংসার পাশাপাশি বল হাতে ইংল্যান্ডের স্যাম কারানের পরিকল্পনারও প্রশংসা করেন ভারত অধিনায়ক। শ্রেয়স বলেন, “স্যাম বারবার অফ স্টাম্পের অনেক বাইরে বল করেছে। এটা ওরা খুব ভালোভাবে পরিকল্পনা করেই করেছে।”

শনিবার ভারতের সিনিয়র দলের হয়ে অভিষেকের সুযোগ পান বৈভব সূর্যবংশী। ফর্মে না থাকা সঞ্জু স্যামসনের জায়গায় তাঁকে নেওয়া হয় ভারতীয় দলে। তিনিই ভারতের সিনিয়র দলের হয়ে খেলা সবচেয়ে কমবয়সী ক্রিকেটার, যিনি ১৫ বছর ৯৯ দিন বয়সে ভারতীয় দলের জার্সি গায়ে মাঠে নামেন। ভেঙে দেন শচীন তেণ্ডুলকরের নজির।

তবে অভিষেক ম্যাচে ১৪ রানের বেশি করতে পারেননি। দশ বলের এই ইনিংসে ছিল দু’টি ছয়। ইংল্যান্ডের পেস বোলার জোফ্রা আর্চারের প্রথম বলই সোজা গ্যালারিতে পাঠিয়ে দেন তিনি। তবে কিছুক্ষণ পরেই উইল জ্যাকসের বলে স্টাম্পড্ হয়ে ফিরে যান বৈভব।
ভারতকে এ দিন মোট ১৯০ রানের ইনিংস গড়ে দেন মূলত অভিষেক শর্মা (২৪ বলে ৪৩), ঈশান কিষাণ (৪০ বলে ৪৯), শ্রেয়স আইয়ার (২২ বলে ৩৭) ও তিলক ভর্মা (১১ বলে ২৪)। সাত উইকেট হারিয়ে প্রতিপক্ষকে ১৯১ রানের টার্গেট দেয় ভারত।

বৈভবের অভিষেকের পাশাপাশি এদিন ভারতীয় শিবিরে আর এক ভালো খবর ইশান কিষাণের রানে ফেরা। এদিন হাফ ডজন চার মারেন তিনি। তবে ৪৯ রানে পৌঁছতে ৪০ বল নিয়ে নেন। বৈভবকে দলে নেওয়া প্রসঙ্গে শ্রেয়স বলেন, “সঞ্জুর জায়গায় বৈভবকে নেওয়া হয়। গত কয়েক মাসে ও যেভাবে ব্যাটিং করেছে, তা সবাই দেখেছে। আমার মনে হয় না ওকে নিয়ে কোনো সংশয় আছে। আমার বিশ্বাস, দলে জায়গা পাওয়ার যোগ্যতা ওর পুরোপুরি আছে। ও এমন একজন ক্রিকেটার, যে চাপকে একেবারেই ভয় পায় না। ওর মানসিক দৃঢ়তা অসাধারণ। সামনে যে ধরনের চ্যালেঞ্জ আসতে চলেছে, সে সম্পর্কে ও সম্পূর্ণ ওয়াকিবহাল”।

ভারতীয় দলের চলতি আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ড সফরে বৈভবকে দলের সঙ্গে নিয়ে যাওয়া হলেও টানা তিনটি ম্যাচে তাঁকে প্রথম দলে রাখা হয়নি। ফলে সমালোচনার ঝড় ওঠে। দেশের ও বিদেশের প্রাক্তন ক্রিকেটাররা ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্টের এই সিদ্ধান্তের প্রবল সমালোচনাও করেন। শুক্রবার ভারতীয় দলের নেটে গৌতম গম্ভীরকেই বৈভবের বিরুদ্ধে বোলিং করতে দেখা যায়। ফলে তাঁর খেলার সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা আরও বাড়ে।

শনিবার শ্রেয়স টসের পর বলেন, “নেটে যেভাবে ও ব্যাট করে এবং বোলারদের ওপর চড়াও হয়, তাতেই বোঝা যায় ও কী ধরনের খেলোয়াড়। ভারতের ক্রিকেটে প্রতিটি ম্যাচেই কী ভয়ঙ্কর প্রতিযোগিতা, আর দেশ থেকে কী পরিমাণ প্রতিভা উঠে আসছে, সেটা দেখলে সত্যিই ভালো লাগে। এতে আমরাও সবসময় সতর্ক থাকি”।

হারের হতাশা থাকলেও দল দ্রুত ঘুরে দাঁড়াবে বলেই আত্মবিশ্বাসী শ্রেয়স। তিনি বলেন, “অবশ্যই আমরা ঘুরে দাঁড়াব। আমি সব সময় ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে এগোই। আমি জানি, এটাই হয়তো সবচেয়ে কঠিন মুহূর্ত। কিন্তু এখান থেকেই আবার ঘুরে দাঁড়াতে হবে।”