• facebook
  • twitter
  • youtube
Saturday, 4 July, 2026

মন্ত্রীসভায় বড় রদবদলের আভাস, ২২ বছর পর ফিরতে পারে উপ-প্রধানমন্ত্রীর পদ

জনতা দল ইউনাইটেডের কয়েকজন নেতা প্রকাশ্যেই তাঁকে উপ-প্রধানমন্ত্রী করার দাবি তুলেছেন। এতে এনডিএর জোট রাজনীতির ভারসাম্য আরও মজবুত হতে পারে বলে অনেকে মনে করছে।

মন্ত্রীসভায় বড় রদবদলের আভাস, ২২ বছর পর ফিরতে পারে উপ-প্রধানমন্ত্রীর পদ

Photo: File Photo

তৃতীয় মোদী সরকারের দু’বছর পূর্ণ হতেই দিল্লির রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। মূলত কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য রদবদল নিয়ে জল্পনা চলছে। বিজেপির অতীতের রাজনৈতিক রীতি অনুযায়ী, সরকার গঠনের প্রায় দু’বছর পর মন্ত্রীসভায় পরিবর্তন আনা হয়। সেই সঙ্গে দলের নতুন সর্বভারতীয় সভাপতি নীতীন নবীনের নেতৃত্বে এখনও পূর্ণাঙ্গ সাংগঠনিক টিম ঘোষণা না হওয়ায় সরকার ও সংগঠন, উভয় ক্ষেত্রেই বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ।

দলীয় সূত্রের দাবি, মন্ত্রীসভা ও বিজেপির সাংগঠনিক রদবদল সমন্বয় করা হতে পারে। সেক্ষেত্রে সরকার ও দলের মধ্যে নেতাদের দায়িত্ব অদলবদল করে একটি ভারসাম্য তৈরি করা হতে পারে। সূত্রের খবর, কয়েকজন বর্তমান মন্ত্রীকে সংগঠনের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। আবার সংগঠন থেকে নতুন কয়েকজন সাংসদকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভায় আনা হতে পারে। এর পাশাপাশি কয়েকজন প্রবীণ মন্ত্রীকে সরিয়ে অন্য দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। রাজনৈতিক মহলের একংশ মনে করছে, অন্তত ৭ থেকে ৮ জন নতুন মুখ মন্ত্রীসভায় জায়গা পেতে পারেন।

তবে জল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে উপ-প্রধানমন্ত্রীর পদ। একাধিক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, দীর্ঘ ২২ বছর পর এই পদে কাউকে নিয়োগ করার বিষয়টি বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব বিবেচনা করছে। যদিও উপ-প্রধানমন্ত্রী পদটি সংবিধান-স্বীকৃত নয়। অতীতে জোট রাজনীতি এবং দলের অভ্যন্তরে ভারসাম্য বজায় রাখতে এই পদ ব্যবহার করা হয়েছে।

ভারতের ইতিহাসে এখনও পর্যন্ত সাতজন উপ-প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। সর্বশেষ ২০০২-২০০৪ সাল পর্যন্ত অটলবিহারী বাজপেয়ীর মন্ত্রীসভায় এই দায়িত্বে ছিলেন লালকৃষ্ণ আডবাণী। এরপর মনমোহন সিংয়ের দশ বছরের শাসনকাল এবং নরেন্দ্র মোদীর টানা ১২ বছরের সরকারে এই পদে কাউকে নিয়োগ করা হয়নি।

এখন জল্পনায় সবচেয়ে বেশি শোনা যাচ্ছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নাম। রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, বিজেপির সংগঠন ও সরকারের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা হিসেবে তাঁকে উপ-প্রধানমন্ত্রী করা হতে পারে। এর পাশাপাশি বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বর্তমানে রাজ্যসভার সদস্য নীতীশ কুমারের নামও আলোচনায় উঠে এসেছে। জনতা দল ইউনাইটেডের কয়েকজন নেতা প্রকাশ্যেই তাঁকে উপ-প্রধানমন্ত্রী করার দাবি তুলেছেন। এতে এনডিএর জোট রাজনীতির ভারসাম্য আরও মজবুত হতে পারে বলে অনেকে মনে করছে।

এ ছাড়াও কয়েকটি মহলে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়েও জল্পনা চলছে। তবে এখনও পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সরকার বা বিজেপির পক্ষ থেকে মন্ত্রীসভার রদবদল কিংবা উপ-প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। ফলে সবকিছুই আপাতত রাজনৈতিক জল্পনার পর্যায়ে রয়েছে।